দিন দিন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার সমস্যাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকেই ভাবেন, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই এই রোগ হয়। এটা ঠিক নয়। অ্যালকোহল না পান করলেও এটা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সমস্যার কারণেও এই রোগ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে। অনেক সময় আমরা যে অতিরিক্ত চিনি খাই, লিভারের কোষগুলো তা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। তখন লিভার সেই অতিরিক্ত চিনিকে সরাসরি চর্বিতে পরিণত করে। এই চর্বি লিভারের কোষগুলিতে জমতে শুরু করে। ক্রমাগত চর্বি জমলে লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। শুরুতে সমস্যাটা সামান্য মনে হলেও, ক্রমাগত চর্বি জমতে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।
ফ্যাটি লিভার রোগ সাধারণত দুই ধরনের। অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হয়। আর অ্যালকোহল ছাড়া অন্য কারণে হলে তাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞর মতে, ফ্যাটি লিভারের কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন- পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, আচমকা ওজন কমা, প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, ত্বকে চুলকানি, মলের রঙ বদলে যাওয়া এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় সঠিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


