চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কেন্দ্র করে দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন– মো. সাদেক আলী, কামরুল হাসান ও মো. হানিফ। গত সোমবার রাতে সাদেককে চট্টগ্রামের মিরসরাই, কামরুলকে চাঁদপুর এবং হানিফকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে একটি দেশি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, তিনটি কিরিচ, একটি দা ও ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন মো. সাদেক আলী ও সিরাজুল ইসলাম নামে দুই অস্ত্রধারীর ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়। এর মধ্যে সাদেক গ্রেপ্তার হলেও সিরাজুল এখনও গ্রেপ্তার হননি। এ ছাড়া ঘটনার দিনের ছবি বিশ্লেষণ করে কামরুল হাসান এবং মো. হানিফের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার দিন হানিফ একটি ব্যাগ বহন করছিলেন। ওই ব্যাগেও অস্ত্র ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে কামরুলের কাছে শুটারগান এবং হানিফের কাছে পিস্তল ছিল। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা তাদের অস্ত্রগুলো হাত বদল করেছেন। সাদেকের কাছ থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হলেও সেটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে থাকা অস্ত্র নয়। সাদেক ও কামরুলকে নিয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার দিন ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন তারা। আশা করছেন, খুব শিগগিরই উদ্ধার হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
অস্ত্রধারীদের হাতে যে অস্ত্র ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। অপরাধী যে দলের, যে গ্রুপের বা যে রাজনৈতিক পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন–কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


