জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার তিনি বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে সোজা ম্যানহাটানের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে চলে যাবেন তারেক রহমান। পরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ
অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি রেস্টুরেন্টে মিট দ্য প্রেসে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ও সরাসরি একাধিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রবাসীর ঢল নামবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এ বিষয়কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাফেলো বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন; আবার এই অধিবেশনে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে।
যুবদল নেতা তোফায়েল লিটন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। তিনি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ এবং বাংলাদেশের সভাপতিত্ব করার বিষয়টি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।
নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি
সরেজমিন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন ও কুইন্সের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ প্রবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন। সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। এবার তাঁকে স্বাগত জানানো ও বরণ করে নেওয়ার পালা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন বলেন, দলীয় মতাদর্শের বাইরেও অনেক সাধারণ প্রবাসী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, বাফেলো, মিশিগান, টেক্সাস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন প্রদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অনেক নেতাকর্মী নিউইয়র্কে পৌঁছে গেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তাঁকে স্বাগত।
ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে উদ্দীপনা একটু বেশিই। তবে তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে যা করার সবই হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৩৫ জন
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আরও থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।


