খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার

অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

ওটমিল
এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

কাঠবাদাম 
এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের  আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

টক দই 
ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

তিসির বীজ 
খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

আপেল
‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

পুদিনা পাতার চা 

বারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর