জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ই অক্টোবর থেকে ২০ শে অক্টোবর । এবার নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বড় বড় শহর শিকাগো, লসএঞ্জেলস্ মায়ারি, ওয়াশিংটন, নিউজার্সি, ভার্জেনিয়াসহ ফ্লোরিডা মিলে প্রায় শতাধিক দুর্গাপূজার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকার প্রতিবেশী কানডার মন্ট্রিল, টরেন্টু অটোয়া, কেলগেরীর সহ অনেকগুলি দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতি বছরের অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের এ উৎসব এ বছরও পালিত হচ্ছে।
একদিকে শারদোৎসব হলেও এবার দুর্গাপূজা পালন হচ্ছে বর্নীল উৎসবের ছন্দে। আলোকসজ্জা, সাজসজ্জাসহ উৎসব ও পূজার সাত্ত্বিক আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে পূজামণ্ডপ। এবারের দুর্গোৎসবকে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ আড়ম্ব্বর ও উৎসবে দুর্গাপূজা ভিন্ন আমেজ থাকবে। দেবী দুর্গার পূজা মানেই অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়। সে জন্য চিরসুন্দর কল্যাণময়ী মাতৃরূপের সঙ্গে অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয়ও তিনি। আর এখানেই শারদীয় দুর্গোৎসব সার্বজনীনরূপে আবির্ভূত। দুর্গাপূজা সার্বজনীন হওয়ার ফলে এর বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটেছে। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংশ্নিষ্টতা বেড়েছে। সমাজের ধনী-দরিদ্র সবাই একসঙ্গে মিলে এ উৎসব পালন করার সুযোগ লাভ করেছে। এখানে উঁচু-নিচু কিংবা জাতি-সম্প্রদায়গত ভেদ নেই। দুর্গাপূজার এই সার্বজনীনতা দেবী প্রতিমার রূপ-কল্পনায়ও পরিলক্ষিত হয়। অন্য সব দেবতাই এককভাবে পূজিত হন; কিন্তু দেবী দুর্গা পূজিত হন সমষ্টিগতভাবে। এই যে সামষ্টিকতা, সমাজের জন্য উপকারী হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এবারে দুর্গার আগমনকে আমরা বাংলাদেশের জন্য, বাঙালির জন্য, মর্ত্যবাসীর জন্য শুভ সংবাদ হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। দেবীর আগমনে শান্তি ও সদ্ভাব সর্বত্র প্রসারিত হয়ে আমাদের চারদিক মঙ্গলালোকে ভরে তুলুক।
নিউইয়র্কেও দুর্গাপূজার আমেজ ও অনুভূমি প্রবাসী বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে উৎসব। ১৬ই অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দেবীর বোধন শুরু হবে। তারপর সপ্তামী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী বা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।নিউইয়র্কে প্রধান প্রধান সংগঠন ও মন্দিরগুলির মধ্যে কুইন্সের করোনায় বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, জ্যাকসন হাইটসের ওম শক্তি মন্দির, উডসাইডের দিব্য দামে নিউইয়র্ক পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা ক্লাবে হিন্দু মিলন মেলা, কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজা, টাইম স্কয়ারে বেঙ্গলী ক্লাব, টাইমস স্কয়ার পূজা উদযাপন কমিটি, ব্রুকলিনের গৌড়নিতাই মন্দির এবং রাধামাধব মন্দির, জ্যামাইকার মহামায়া মন্দির, জ্যামাইকা কালী মন্দির, সনাতন সেবাশ্রম মন্দির, মহাকাল মন্দির, রিচমণ্ডহালের শ্রীহরি মন্দির সহ ফ্লোরাল পার্কের দেবালয় মন্দিরে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতন ভূমিকার বিষয়ে অবগত রয়েছে। নিউইয়র্ক বাংলাদেশী হিন্দু কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সকল প্রবাসীদের শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের আহ্বান জানান।
নিউইয়র্কের প্রথম বাংলাদেশী দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। বাংলাদেশ পূজা সমিতি নিউইয়র্কের আদি সংগঠন। বাংলাদেশ পূজা সমিতির পূজা হচ্ছে প্রেশমেডোর গুজরাটী সমাজ হলে অক্টোবর ৪ ও ৫ তারিখে দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে।
খবর নিয়ে জানা যায় নিউইয়র্কের সব পূজা মন্ডপে স্থানীয় শিল্পী, ঢাকা ও কলকাতার শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।


