জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ একটি মুখে কালি দেওয়া যায়। একটি প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু তাতে কি মুছে যায় সেই মানুষের সৃষ্টি, চিন্তা ও ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি? নাকি প্রতীককে আঘাত করার মধ্য দিয়ে অনিচ্ছায় আরও একবার সামনে নিয়ে আসা হয় সেই মানুষটিকেই? ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাটি আমাদের সামনে এমন কিছু প্রশ্নই তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্ত ও বিচারিক সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
ঘটনাটিকে নিছক একটি প্রতিকৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিবাদের ভাষা, সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং মতভিন্নতার প্রতি আমাদের মনোভাব। আরও গভীরে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: কোনো চিন্তা বা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে হলে কি তার দৃশ্যমান প্রতীককে অপমান করতেই হবে?
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে উঠেছে বলে এর গুরুত্ব কেবল একজন কবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের বৌদ্ধিক পরিবেশেরও পরীক্ষা।
প্রতিকৃতি আর উত্তরাধিকার এক নয়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেবল একটি পরিচিত মুখ, নোবেলজয়ী কবি কিংবা সাংস্কৃতিক আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখলে তাঁকে বোঝার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও শিক্ষাভাবনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এক বিস্তৃত সৃষ্টিজগৎ। সেই জগতে যেমন প্রেম ও প্রকৃতি আছে, তেমনি আছে নিঃসঙ্গতা, ক্ষমতা, সামাজিক বৈষম্য, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানুষের আত্মপরিচয়ের নানা জিজ্ঞাসা।
বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আত্মিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি কেবল বাংলা সাহিত্যের অনন্য রূপকার নন—বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র রচয়িতা। আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা ও স্বাধিকার সংগ্রামের অন্যতম প্রধান প্রেরণা ছিল তাঁর সাহিত্য ও দর্শন। সংকটে, সংগ্রামে, উৎসবে কিংবা ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনার মুহূর্তে বাঙালি প্রতিনিয়ত রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে। এই গভীর আত্মিক উপস্থিতি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুছে যাওয়ার নয়।
তাঁর রচনা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তাঁর চিন্তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিহাসের নির্দিষ্ট পর্বে তাঁর অবস্থান, সমাজ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। কোনো লেখককে সম্মান করার অর্থ তাঁর প্রতিটি বক্তব্য মেনে নেওয়া নয়। বরং তাঁকে যথাযথভাবে পড়তে হলে প্রশ্ন করার স্বাধীনতাও প্রয়োজন।
কিন্তু সমালোচনা আর মুছে ফেলার চেষ্টা এক বিষয় নয়। সমালোচক যুক্তি দেন, প্রমাণ হাজির করেন, বিকল্প ব্যাখ্যা নির্মাণ করেন। প্রতীকের ওপর আঘাতের মাধ্যমে বিরোধিতা দৃশ্যমান হতে পারে, কিন্তু তাতে মতভেদের কারণ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়ে না।
একটি দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের মুখ মুছে ফেলা সম্ভব। কিন্তু তাঁর রচনার সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক মুছে ফেলা যায় না কোনো একক আঘাতে। সেই সম্পর্ক টিকে থাকে পাঠে, স্মৃতিতে, গানে, প্রশ্নে এবং নতুন প্রজন্মের পুনর্ব্যাখ্যায়।
প্রতিবাদের অধিকার, প্রতিবাদের দায়
ঘটনাটির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ভারতীয় আধিপত্যের প্রতিবাদের কথা বলা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো দেশের রাজনৈতিক প্রভাব, আধিপত্যের অভিযোগ কিংবা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। রাষ্ট্রের নীতি, সীমান্তের বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিংবা সাংস্কৃতিক প্রভাব—কোনো বিষয়ই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।
কিন্তু এখানে একটি চরম বৈপরীত্য ও অজ্ঞতার চিত্র ফুটে ওঠে। কোনো রাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা এবং একজন সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিকে সেই রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা এক কথা নয়। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে যেকোনো ধরণের উগ্র জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও রাষ্ট্রীয় আধিপত্যের তীব্র সমালোচক ছিলেন। ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি বর্জন কিংবা তাঁর প্রসিদ্ধ ‘ন্যাশনালিজম’ (ঘধঃরড়হধষরংস) প্রবন্ধে রাষ্ট্রের অন্ধ ক্ষমতাচর্চার বিরোধিতা—প্রমাণ করে যে তিনি কখনোই কোনো অন্ধ রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের অনুসারী ছিলেন না।
তাই কোনো রাষ্ট্রের সমকালীন রাজনীতির প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দেওয়া মূলত তাঁর চিন্তার পরিধির প্রতিই চরম অবিচার। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক জীবন গড়ে উঠেছিল উপমহাদেশের জটিল সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার মধ্যে। তাঁর রচনার মূল্যায়নকে সমকালীন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের একমাত্রিক ছকে আটকে দিলে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় ও চিন্তার বহুমাত্রিকতা আড়ালে পড়ে যায়।
কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতীকে পরিণত করা সহজ। কিন্তু সেই প্রতীকায়ন কি বাস্তব সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে? ভারতীয় রাষ্ট্রের কোনো নীতির বিরোধিতা করতে হলে তার যুক্তি, প্রমাণ ও পরিণতি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। কোনো কবির মুখে কালি দিলে সেই আলোচনার জায়গাটি তৈরি হয় না।
প্রতিবাদের শক্তি শুধু তার দৃশ্যমান তীব্রতায় নয়; তার যুক্তির স্বচ্ছতা, নৈতিক সামঞ্জস্য এবং বাস্তব পরিবর্তন ঘটানোর সামর্থ্যেও। যে প্রতিবাদ প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন, যুক্তির জবাবে যুক্তি হাজির করতে পারে, তার স্থায়িত্ব একটি প্রতীকী আঘাতের চেয়ে অনেক বেশি।
সংস্কৃতি কি সীমান্তের সম্পত্তি?
রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মালিকানা। একজন লেখক কোথায় জন্মেছেন, কোন ভাষায় লিখেছেন, কোন রাজনৈতিক ভূগোলে তাঁর জীবন কেটেছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার কি কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা দিয়ে নির্ধারিত হয়?
বাংলা ভাষা বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার অংশ। তাঁদের সামাজিক বাস্তবতা এক নয়, রাজনৈতিক অবস্থানও অভিন্ন নয়। তবু ভাষা, সাহিত্য ও সংগীত তাঁদের মধ্যে সংলাপের একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এই সম্পর্ক কোনো রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের প্রমাণ নয়; বরং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সম্ভাবনা।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য বাংলাদেশের মানুষেরও পাঠের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরও; একইভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে বাংলাভাষী পাঠকের কাছে তাঁর রচনা পৌঁছেছে। তাঁর সৃষ্টিকে গ্রহণ করা মানেই কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান সমর্থন করা নয়। আবার তাঁর সমালোচনা করাও কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি শত্রুতা নয়।
সমস্যা তৈরি হয় যখন সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত করা হয়। তখন একজন কবিকে পড়ার আগে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন পক্ষের; তাঁর রচনার মূল্যায়নের আগে নির্ধারণ করা হয়, তাঁকে গ্রহণ করলে কোন রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষুণ্ন হবে। এতে সাহিত্য পাঠের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, আর সংস্কৃতি পরিণত হয় বিভাজনের অস্ত্রে।
একটি জীবন্ত সংস্কৃতি নিজের ভেতরে ভিন্নমত ধারণ করতে পারে। সেখানে কাউকে ভালোবাসার জন্য অন্য কাউকে ঘৃণা করতে হয় না; কাউকে সমালোচনা করার জন্য তাঁর সব সৃষ্টিকে অস্বীকারও করতে হয় না।
কালি মুছে যায়, প্রশ্ন থেকে যায়
কোনো সাংস্কৃতিক প্রতীককে আঘাত করলে সেই কাজটি সংবাদ, আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। যে মুখটি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, সেটিই তখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। কিন্তু বিষয়টি শুধু এই পরিহাসে সীমাবদ্ধ নয়।
গভীর প্রশ্ন হলো, আমরা মতভেদ প্রকাশের জন্য কোন পদ্ধতিকে বেছে নিচ্ছি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু নিজের অপছন্দের কথা বলার অধিকার নয়; অন্যের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করার সামর্থ্যও। একটি সমাজে স্বাধীনচিন্তার পরিসর তখনই বিস্তৃত হয়, যখন মানুষ প্রশ্ন করতে পারে, সমালোচনা করতে পারে এবং নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে পারে—কোনো প্রতীককে অপমান না করেও।
রবীন্দ্রনাথের কোনো রচনা নিয়ে আপত্তি থাকলে সেই রচনা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। তাঁর কোনো বক্তব্যকে সময়ের প্রেক্ষাপটে বিচার করা যেতে পারে। তাঁর চিন্তার সীমা চিহ্নিত করে নতুন চিন্তা নির্মাণ করা যায়। এমনকি তাঁর জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কিংবা তাঁর উত্তরাধিকারের নির্বাচিত ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। এসবই বৌদ্ধিক চর্চার স্বাভাবিক অংশ।
কিন্তু কালি দেওয়ার দৃশ্য যদি যুক্তির পরিবর্তে বিরোধিতার প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি সত্যিই কোনো চিন্তার মোকাবিলা করছি, নাকি চিন্তার দৃশ্যমান চিহ্নটিকেই আমাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিচ্ছি?
এখানে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি অবমাননাকর আচরণের সমালোচনা করা যেমন জরুরি, তেমনি এ ধরনের ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগও প্রয়োজন। অভিযোগের তদন্ত ও বিচার হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে এবং ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। কারণ, সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একটি দায়িত্বশীল সমাজে দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একজন কবিকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়?
রবীন্দ্রনাথকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব কোনো প্রতিকৃতি, স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার মধ্যে শেষ হয় না। তাঁর সাহিত্যকে জীবিত রাখার অর্থ তাঁকে নিয়মিত পড়া, তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাঁর রচনার নতুন অর্থ আবিষ্কার করা এবং তাঁর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সৎ থাকা।
একজন লেখকের স্থায়ী উপস্থিতি তাঁর মুখের ছবিতে নয়, মানুষের চিন্তায় ও প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায়। সেই চিন্তা কখনো সম্মতি তৈরি করবে, কখনো আপত্তি; কখনো নতুন ব্যাখ্যার জন্ম দেবে, কখনো পুরোনো ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণশক্তি এখানেই—তারা কোনো একটি ব্যাখ্যায় চিরকাল বন্দী থাকে না।
তাই রবীন্দ্রনাথকে অন্ধভাবে পূজা করার প্রয়োজন নেই, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতীকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বাতিল করারও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন তাঁকে পড়ার, বোঝার, সমালোচনা করার এবং তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও নিজের যুক্তির প্রতি সৎ থাকার।
মুখে কালি দিয়ে একজন কবির প্রতিকৃতি আড়াল করা যেতে পারে; কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকে অদৃশ্য করতে হলে মানুষের পাঠ, স্মৃতি ও চিন্তার জগৎকেও সংকুচিত করতে হবে। আর যে সমাজে চিন্তার জগৎ সংকুচিত হয়, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু একজন কবি নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, মতভেদের সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বৌদ্ধিক সম্ভাবনা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নয়। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে অপছন্দের চিন্তাকে কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে সেই চিন্তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আরও গভীর, আরও স্বাধীন এবং আরও যুক্তিসংগত চিন্তা নির্মাণ করা যায়?
-লেখক: জহিরুল ইসলাম


