নিউইয়র্কে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সমাপ্তি হল প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে। পাঁচদিনব্যাপী দুর্গাপূজায় নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ২৫টি পূজা মণ্ডপ-এ বিভিন্ন সংগঠন ও মন্দির যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় গুরুগম্ভীর পরিবেশে পালন করা হয়। টাইম স্কয়ার পূজা দিয়ে শুরু প্রায় সব পূজাতেই বিপুল দর্শকের সমাগম ঘটে। উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মাঝে ছিলো ঢাকা ও কলকাতা সহ স্থানীয় শিল্পীদের মনমাতানো গানের অনুষ্ঠান। আঞ্চলিক সঙ্গীত, সিলেটের জনপ্রিয় ধামাল নৃত্য এবং কাঠি নৃত্য ছিলো উপভোগের। শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মহিলাদের সিঁদুর খেলা ও একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।

এবার নিউইয়র্কের পূজার উল্লেখযোগ্য আয়োজকরা হলেন, বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, ওম শক্তি মন্দির, দিব্যধামে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, -ঢাকা ক্লাবে হিন্দু মিশন মেলা, ডাইবারসিটি প্লাজায় বেঙ্গলী ক্লাব, জ্যামাইকায় মহামায়া মন্দির, রিচমুন্ডহীলে মতুয়া হরি মন্দির, জ্যামাইকায় শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ও টাইমস্ স্কয়ারে বেঙ্গলী ক্লাব ও ফ্লোরাল পার্কে দেবালয় মন্দির,জ্যামাইকায় শিব মন্দির ও প্রতি বছরের মতো এবারো তিথিমত মন্দির ও প্রতিষ্ঠানের মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হয়। ১৫ই অক্টোবর থেকে ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ২০ই অক্টোবর শনিবার ছিলো শেষদিন অর্থাৎ বিজয়া দশমী।

নিউইয়র্কের প্রতিটি পূজায় ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের সমাগম ঘটে বিপুল সংখ্যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই পূজার আনন্দ উপভোগ করতে মন্ডপে মন্ডপে যায়। প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন যেমন বাংলাদেশ সোসাইটি, চট্টগ্রাম সমিতি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সহ অনেক সামাজিক সংস্কৃতির সংগঠন হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব উপভোগ করে।
নিউইয়র্ক শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্য নিউজার্সি, পেনসেলবেনিয়া, ক্যানেটিকার থেকেও অনেকেই নিউইয়র্ক শহরে পূজা দেখতে আসে। উত্তর আমেরিকায় কানাডাসহ প্রায় শতাধিক দুর্গাপূজার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকায় লস্ এনজেলস্, শিকাগো, বোষ্টন, ওয়াশিংটন, টেক্সাস, মিশিগান, ম্যারীলেন্ড, ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া সহ ফ্লোরিডায় অনেক দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারের দুর্গাপূজা সহ অন্যান্য সংগঠন ও মন্দিরে পূজায় বিদেশী নাগরিকদের আনন্দ করতে দেখা গেছে। নতুন প্রজন্মের আমেরিকান-বাংলাদেশী তরুণ কিশোর-কিশোরীদের রং-বেরং-এর শাড়ী ও পাঞ্জাবী পরিহিত রঙিন বেশে উৎফুল্ল ও আনন্দমুখর দেখা গেছে। সংক্ষিপ্ত আকারে বিভিন্ন সংগঠনের পূজার বিবরণ দেয়া হল।

বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির——-
বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির। নিউইয়র্ক-এ বাংলাদেশী হিন্দুদের প্রথম ও প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দু মন্দির। কুইন্সের করোনা এলাকায় হিন্দু মন্দিরে পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসবে বিপুল দর্শকের সমাগম হয়। বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরের সভাপতি ডা. দেবব্রত দত্ত সকল ভক্তদের ধন্যবাদ জানায়। পূজায় পৌরহিত্য করেন শংকর পারিয়াল ও স্বপন কুমার চ্যাটার্জী।

সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ——-
উড সাইডের গীতা সংঘের মন্দিরে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ প্রতিবারের ন্যায় দুর্গাপূজার আয়োজন করে। এখানেও প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। পৌরহিত্য করেন জগদীশ ব্রহ্মচারী। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর রায় সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। সংগঠনের সভাপতি প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় বিশ্বাস আগত ভক্তদের ধন্যবাদ জানায়।

জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজা————-
জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজায় প্রতিবারের মত এবারো সুন্দর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। এখানে ভক্তরা দলে দলে যোগদান করে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায়ও এই পূজা উপভোগ করে। বেঙ্গলী ক্লাব-এর আয়োজনে এই পূজার সভাপতি দীনেশ মজুমদার সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ——
শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকায় তাদের নিজস্ব মন্দিরে। ১৬২নং স্টিটের মন্দিরে শত শত দর্শক ও ভক্তের আগমন ঘটে। পাঁচদিনের পূজায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ ও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের কর্মকর্তারা সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

শিব মন্দির—-
জ্যামাইকার অপর বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান শিব মন্দিরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। পাঁচদিনের পূজায় শতশত ভক্তের সমাগম হয়। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। মহামায়া মন্দিরের সভাপতি ডা. সমীর সরকার আগত ভক্তদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আপ্যায়ন করে।

শ্রীহরি মন্দির
রিচমুন্ডহীলের শ্রীহরি মন্দিরের দুর্গোৎসব অন্যরকম মেজাজে অনুষ্ঠিত হয়। অনেকাংশে দেশের অনুভূতি পাওয়া যায় এই মন্দিরে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মতুয়া সম্প্রদায়ের সংগঠন শ্রীশ্রীহরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। এই মন্দিরটি নিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী হিন্দুদের মন্দিরের সংখ্যা প্রায় এক ডজন।
শ্রীহরি মন্দিরে ১৫ই অক্টোবর থেকে ২০ই অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিন পূজা-অর্চনা চলে। হয় মতুয়া মেলাও। বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শক প্রতিদিনই মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমায়। প্রসাদ বিতরণ এই মন্দিরের একটি বিশেষ আয়োজন। ১২ই অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলে ও মাতম নৃত্য করে এ বছরের জন্য শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে।

নিউইয়র্ক হিন্দু টেম্পল-এ শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকায় তাদের নিজস্ব মন্দিরে। মন্দিরে শত শত দর্শক ও ভক্তের আগমন ঘটে। পাঁচদিনের পূজায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ ও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। ডা.সুভাষ শিকদার সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর