
নির্বাচন-১
শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্কঃ বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে। আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। ১১জন প্রার্থী বিনা-প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হয়। ভোট পরে ৫৫%। মহিলা সংরক্ষিত আসন ছিলো ১৫টি। এ নির্বাচনে টুকটাক কারচুপি’র অভিযোগ উঠে, সেটি কেন্দ্রভিত্তিক, জাতীয়ভাবে কারচুপি ছিলোনা। নির্বাচনটি -বাকী অংশ ৩৩ পাতায় মোটামুটি স্বচ্ছ, অবাধ ও ভালোই ছিলো, গ্রহণযোগ্য হয়।
এরপর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৯। বিএনপি ২০৭ আসনে জিতে, আওয়ামী লীগ ৩৯। ভোট পরে ৫১%। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। এ নির্বাচনে জাতি প্রথম ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং দেখে, একই সাথে ভোটের আগে-পরে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়।
তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৭ই মে ১৯৮৬ সালে। জাতীয় পার্টি ১৫৩, আওয়ামী লীগ ৭৬, জামাত ১০টি আসন লাভ করে। ভোট পরে ৬১%। বিএনপি ভোট বয়কট করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন।
চতুর্থ সংসদ নির্বাচন ৩রা মার্চ ১৯৮৮। জাতীয় পার্টি ২৫১, সম্মিলিত বিরোধী জোট ১৯টি আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সংসদ নর্বাচনের ফলাফল বিশ্বাসযোগ্য ছিলোনা, সামরিক স্বেচ্ছাচারী সরকারের ইচ্ছেমত ফলাফল ঘোষণা হয়।
পঞ্চম সংসদ নির্বাচন হয় ১৩ই জানুয়ারী ১৯৯১। বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামাত ১৮টি আসনে জেতে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ভোট পরে ৫৫.৪৫%। এ নির্বাচনটি ভাল এবং গ্রহণযোগ্য হয়। শেখ হাসিনা সূক্ষ্ণ কারচুপির অভিযোগ তোলেন, গ্রাহ্য হয়নি।
১৯৯৬-এ ২টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচন, আওয়ামী লীগ বয়কট করে, বিএনপি জয়ী হয়, আসন ২৭৮। আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে ‘তত্বাবধায়ক সরকার’ দাবি আদায় করে। জুনে আবার সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এটি ছিলো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ই জুন ১৯৯৬। আওয়ামী লীগ ১৪৬, বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২, জামাত ৩, ইসলামী ঐক্য জোট ১, জাসদ (রব) ১, স্বতন্ত্র ১টি আসন লাভ করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ভোট পরে ৭৪.৯৬%। ১৫ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনটি জাতির জন্যে কলঙ্ক ছিলো।
অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করে, যদিও বিএনপি-আওয়ামী লীগ ভোট পায় প্রায় সমান-সমান (৪০.৯৭%, আওয়ামী লীগ ৪০.১৩%)। আসন, বিএনপি ১৯৩, আওয়ামী লীগ ৬২, জামাত ১৭, ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ১৪, জাতীয় পার্টি ৪, ইসলামী ঐক্য জোট ২, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১টি আসন। স্বতন্ত্র ৬, ভোট পরে ৭৪.৯৭%। এ নির্বাচনের পর ব্যাপক সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়। নির্বাচনটি হয় ১লা অক্টবর ২০০১। ৫৪টি দল, ৪৮৪জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ১৯৩৫জন নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করেন। এটি ছিলো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন।
২০০৮-এ নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। বিএনপি ৩০, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ২৭, জাসদ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ২, জামাত ২, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১, স্বতন্ত্র ৪, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি আসন। মোট ভোট পরে ৮৭.১৩%। মহিলা রিজার্ভ ৪৫টি আসন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত: এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৫ই জানুয়ারি ২০১৪, আওয়ামী লীগ ১৫৩টি আসন বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। বিএনপি বয়কট করে। ভোট পরে ৩৯.৫৮%। মোট আসন, আওয়ামী লীগ ২৩৪, জাতীয় পার্টি ৩৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬, জাসদ ৫, তরিকত ফেডারেশন ২, জাতীয় পার্টি (মন্জু) ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট ১, স্বতন্ত্র ১৬টি আসন। মহিলা রিজার্ভ ৫০টি আসন। এটি ‘বিনে ভোটের’ নির্বাচন বলে স্বীকৃতি পায়।
১১তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮। প্রদত্ত ভোট ৮০.২%। মহিলা রিজার্ভ ৫০টি আসন। জাতীয় পার্টি ২৬, বিএনপি ৭, আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন। বাকি অন্যান্য। এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে, এবং দিনের ভোট রাতে হয় বলে পরিচিতি লাভ করে।
১২তম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ই জানুয়ারী ২০২৪। আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ভোট পরে ৪০%, গুজব রয়েছে ১০%’র নীচে ভোট পড়েছে। বিএনপি বয়কট করে। স্বতন্ত্র ৬১টি আসন। এটি ‘ডামি ভোট’ বলে স্বীকৃতি পায়। এ নির্বাচন নিয়ে ঢাকার মাঠে সরকারের পক্ষে ভারত-রাশিয়া-চীন এবং অন্যপক্ষে আমেরিকা-ইউরোপ-কানাডা বা পশ্চিমা বিশ্ব খেলছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪-র নির্বাচনী ফলাফল মানুষ মেনে নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) নির্বাচনী ক্ষেত্রে ৩টি সাফল্য জাজ্বল্যমান, ১) ‘২০১৪-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচন, ২) ২০১৮-তে ‘দিনের ভোট রাতে’ নির্বাচন, ও ৩) ২০২৪-এ ‘ডামি’ নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন ৬২ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। এই স্বতন্ত্রদের মধ্যে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়েছেন ৪৩ জন।
১৩শ’ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬। এতে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। খালেদা জিয়া মারা গেছেন। নির্বাচনে বিএনপি জোট, জামাত-এনসিপি-এলডিপি নিয়ে ১০দলীয় ইসলামী জোট অংশ নিচ্ছে।
১৯৭০’র নির্বাচন
১৯৭০’র নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ভোট পায় ৩৯.২%। সেবার পাকিস্তানের মোট ভোটার ছিলো ৫৬,৯৪১,৫০০। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৩১.২১১,২২০ এবং পশ্চিম-পাকিস্তানে ২৫,৭৩০,২৮০। ভোট পড়েছিল ৬৩%। পূর্ব-পাকিস্তানে ভোট পড়েছিল আনুমানিক ১৯,৬৬৩,০৬৯ (৬৩ী৩১,২১১,২২০/১০০=১৯,৬৬৩,০৬৯) ভোট। আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১২,৯৩৭,১৬২ ভোট। আসন না পেলেও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভোট পড়েছিলো ৬,৭২৫,৯০৭ (১৯,৬৬৩,০৬৯-১২,৯৩৭,১৬২= ৬,৭২৫,৯০৭) ভোট। ৬৭ লক্ষের উপর এ ভোটগুলো কাদের? ভুট্টো’র পিপিপি (পাকিস্তান পিপলস পার্টি) পূর্ব-বাংলায় ভোট পাওয়ার কোন কারন ছিলোনা, এই ভোটগুলো ছিলো মুসলিম লীগ এবং জামাত ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর। পাকিস্তানের ৩০০ আসনে ৮১টি সিট্ পেয়েছিলো পিপিপি এবং তারা ভোট পায় ১৮.৬%। তিনভাগে বিভক্ত মুসলিম লীগ পায় ১৩.৮% এবং ইসলামী দলগুলো ১৩.৯%। হিসাবটা পুরো পাকিস্তানের হলেও মুসলিম লীগ এবং ইসলামী দলগুলোর শক্তি স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারে কম ছিলোনা। এরা পরাজিত হলেও সক্রিয় ছিলো, যা টের পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর।
আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১২,৯৩৭,১৬২ ভোট। আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ইসলামী দলগুলো পেয়েছিলো ৬,৭২৫,৯০৭ ভোট। ঐসময় দেশে জনসংখ্যা ছিলো ৭কোটি’র ওপর (সাড়ে ৭কোটি?)। ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো সাকুল্যে দেড়কোটি। এরমধ্যে ১কোটি হিন্দু, কারণ তাঁদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছিলো। বাকি সাড়ে ৫কোটি/৬কোটি মানুষ দেশেই ছিলো। তর্কের খাতিরে ধরে নেই এদের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৩কোটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ছিলো, বাকি ৩কোটি বিপক্ষে? দেশে এখন জনসংখ্যা ১৭কোটি, অর্থাৎ ৫২ বছরে প্রায় ২.৫% বা আড়াই গুন্ বেড়েছে। সেই হিসাবে ৩কোটি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বেড়ে ৩ী২.৫=৭.৫কোটি, বা সাড়ে ৭কোটি হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যাটি আরো বেশি। দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির একজনও স্বাধীনতার সপক্ষে আসেনি, কিন্তু বহু মুক্তিযোদ্ধা বা স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি বিরোধী শিবিরে গেছেন। বঙ্গবন্ধু’র সাড়ে ৩ বছর এবং শেখ হাসিনা’র ১৯৯৬-২০০১ এ সময়টা ছাড়া বাংলাদেশের সকল সরকার মৌলবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে এখন ৭কোটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ এবং ১০কোটি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির মানুষ আছেন। হিসাবটা মেনে নেয়ার প্রয়োজন নেই, যেকেউ ইচ্ছেমত হিসাবটি করতে পারেন।
২০২৪ এর নির্বাচন এবং এরপর
২০২৪-এর নির্বাচনটি শেখ হাসিনা’র জন্যে ‘কাল’ হয়। নির্বাচনে তিনি জয়ী হ’ন, পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হ’ন, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হ’ন না। ছাত্র আন্দোলন বা কোটা আন্দোলন এক দফায় পরিণত হয়, ৫ই আগষ্ট তিনি দেশত্যাগ করতে বাধ্য হ’ন। তার এ পরিণতি অনিবার্য ছিলো, কাম্য ছিলোনা। পরপর তিনটি নির্বাচন ছিনিয়ে নিয়ে তিনি নিজেই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন, স্বৈরাচারী পদকে ভূষিত হয়ে দেশ থেকে পলায়নের ইতিহাস রচনা করেন। যে ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এঁরা সবাই শেখ হাসিনা’র আমলে বেড়ে ওঠা, তারই শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে তাকে দেশত্যাগী করেছে। যে কওমী শিক্ষার্থীদের তিনি ‘কওমী জননী’ হয়েছেন, তারাই তাকে দেশ থেকে বিতারণ করেছে। মৌলবাদীদের জন্যে তিনি অনেক কিছু করেছেন, মাদ্রাসার ছাত্র দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ থেকে একজনও তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি।
আজকে দেশে মৌলবাদের যে রমরমা, এটি শেখ হাসিনা’র অবদান। শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্যে তিনি দেশের বারোটা বাজিয়ের দিয়েছেন, নিজের দল ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিপদে ফেলেছেন, প্রগতিশীল শক্তির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতকে বিপদে ফেলেছেন। শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য ছিলো প্রগতিশীল শক্তি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই দুই শক্তির কোমড় তিনি নিজহাতে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন। একটা সময় আসে যখন এ দুই শক্তিই তার পতন চাইছিলো, তবে যেভাবে তার পতন হয়েছে, ঠিক সেভাবে নয়? শেখ হাসিনা অনেক উন্নতি করেছেন, এরপরও সাধারণ মানুষ তার প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ে, তিনি জনসমর্থন হারান। এরপরও শেখ হাসিনা’র পতনের পর গোপালগঞ্জে প্রথম যে প্রতিবাদটি হয়, সেটিও করে হিন্দুরা, এর নেতা ‘বিমল বিশ্বাস’, পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
দেশে ও প্রবাসে হিন্দুরা এখন তাদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এদের ভেতরে ঢুকে আত্মরক্ষায় সচেষ্ট। হিন্দুরা সতর্ক, ৫৪ বছর আওয়ামী লীগ তাদের -বাকী অংশ ৩৩ পাতায় দাবার ঘুটির মত ব্যবহার করেছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পক্ষে দাঁড়ায়নি। আজকের তরুণ সমাজ জেনে গেছে আওয়ামী লীগ তাদের বন্ধু নয়, বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল তাদের বন্ধু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে শেখ হাসিনা’র পতনের পর অন্তর্র্বতী সরকার হিসাবে যারা ক্ষমতায় তারাও বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তরিক নন? প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড: মোহাম্মদ ইউনুস-র দেশের চাইতে নিজেকে বেশি ভালবাসেন। শেখ হাসিনা চেয়েছেন ইউনুসকে জেলে পুরতে, তিনি এখন ক্ষমতায়, শেখ হাসিনা ক্ষমতার বাইরে।
যদি ক্ষমতার হাত বদলের ব্যবস্থাটা স্বচ্ছ ও পোক্ত হয়ে যায় তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, ঠিক ততটাই কঠিন। তবে এটি হওয়া দরকার। নইলে তত্বাবধায়ক/অন্তর্র্বতী বা আরো কত কি ব্যবস্থা চলতেই থাকবে। যতদিন ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা পাকা না হবে ততদিন ‘অনিয়িমতান্ত্রিক’ ক্ষমতার পরিবর্তন বন্ধ হবেনা। সমস্যা হচ্ছে, ‘যে যায় লঙ্কা সে হয় রাবন’। ক্ষমতায় গেলে কেউ আর তা ছাড়তে চায়না। ২০২৪-এর নির্বাচনে ঢাকার মাঠে রাজনৈতিক ফুটবল বা ‘টি-টুয়েন্টি’ ক্রিকেটের মত নির্বাচনী খেলায় বিদেশী প্লেয়াররা অংশ নেয়। খেলা জমে ওঠে। সংঘাত বাড়ে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও হয়। কিছু মানুষ মারা যায়। শেষমেষ নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়। একপক্ষ বলে, নির্বাচনটি ভাল হয়েছে। অন্যপক্ষ বলে, অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচন হয়নি।
সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলাদেশে ঠিক কবে থেকে নির্বাচন ছিনতাই (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) শুরু হয়েছিলো, কেন হয়েছিলো, আদৌ কি এর শেষ আছে, নাকি এভাবেই চলবে স্বদেশ এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই আন্তরিক ছিলোনা, নির্বাচন কমিশন কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেনি। এবার তা হচ্ছেনা।
শিতাংশু গুহঃ লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট (নিউইয়র্ক)




