দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন বছরের শুরুতেই আবারও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। টানা কয়েক দফা কমানোর পর সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে গয়না ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের নজর এখন নতুন নির্ধারিত দরের দিকে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে প্রতি ভরি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির অঙ্কে ভিন্নতা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ভরিতে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকায় পৌঁছায়। পরে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দফা দাম কমানো হলেও নতুন বছরের শুরুতেই আবারও মূল্য বাড়ানো হলো।
চলতি বছরে এটি স্বর্ণের দামের দ্বিতীয় সমন্বয়। এর মধ্যে একবার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং একবার কমানো হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ে এবং ২৯ বার কমে।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ৫ হাজার ৩০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের স্বর্ণবাজারে এ ধরনের ঘনঘন মূল্য সমন্বয় হচ্ছে। আগামী দিনে দামের গতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।




