ইরান যুদ্ধ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও।
আজ বুধবার লেনদেন শুরুর পরপরই ঢাকার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই ফিরে এসেছে শক্তিশালী গতি। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বেলা ১১টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনযোগ্য ৩৫৫টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৩৪৫টির দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।
প্রায় সব শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবে এ সময় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫২৯১ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগেই যুদ্ধ স্থগিতের খবরের প্রভাব ছিল একেবারে লেনদেন শুরুর প্রথম মুহূর্তেই। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৯ ছাড়িয়েছিল। এর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সূচক আরও ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্ট অতিক্রম করে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি উত্থান ঘটে।
লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় যেখানে ১৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, আজ একই সময়ে লেনদেন বেড়ে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আপাতত স্থগিত হওয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কমেছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরানের সম্মতি আসায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরেছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল নেমেছে ৯৫ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭ ডলার কম।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি সূচক ৫ শতাংশ হংকংয়ের সূচক পৌনে ৩ শতাংশ, ভারতের শেয়ারবাজার সূচক এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে।




