সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত দেশের অগ্রযাত্রা নতুন গতি পায় এই মহীয়সী নারীর শাসনামলে। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে, বিশেষ করে ১৯৯১-৯৫ সময়ে বাংলাদেশে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করা হয়, যা বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
স্বাধীনতার পর উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ অনেকগুলো ব্যাংক পেয়েছিল, যেগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বায়নের যুগে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে তিনি বেসরকারিকরণ শুরু করার পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেন। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। তার শাসনামলে ১৯৯৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন প্রণীত হয়, যা আজও দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কার্যকর রয়েছে।
১৯৯৩ সালে একটি বেসরকারিকরণ বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়, যা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করে এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রবেশকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে বেসরকারি খাত ও রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্পে প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং দেশের অর্থনীতি বিকশিত হতে শুরু করে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, আর্থিক খাতসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। এই তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশের সূচনা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে, বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে। তার সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে সর্বোচ্চ নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়।
তৎকালীন সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য ‘ইউডি’ বা ইউনিট ডিক্লারেশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছিল, যা আবেদন করে উদ্যোক্তাদের সংগ্রহ করতে হতো। এই ব্যবস্থার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো। পরবর্তীতে ইউডি সরাসরি বেসরকারি খাতের তৈরি পোশাক উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়। এর ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর হয়। শিল্পটি অগ্রসর হয় দুর্দান্ত গতিতে এবং পরিণত হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এক পর্যায়ে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারাই দেশের শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ও সাহসী নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি অর্থনীতিকে বাজারমুখী করতে নীতিগত সংস্কার গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বিমা খাত, শেয়ারবাজার ও তৈরি পোশাকশিল্পে তার সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিমা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে।




