শীতের সবজিতে সয়লাব রাজধানীর বাজারগুলো। তবে দাম কিছুটা বাড়ায় সাধারণ লোকজন কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
নিত্যপণ্যের বাজারে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম, মুরগির। এছাড়া সরবরাহ বেড়ে দাম আরও কমায় সবজির বাজারে স্বস্তি বিরাজ করছে। এছাড়া চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও রেলগেট বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এ সব তথ্য পাওয়া গেছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এ সব চালের সরবরাহ বাড়বে। এ অবস্থায় বেশির ভাগ চালের দাম কমার কথা, কিন্তু উল্টো বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার বাজারে প্রতিকেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা। কাপ্তান বাজারের চাল বিক্রেতা নূরু মিয়া বলেন, সার্বিকভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তি রয়েছে। বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে এ সব চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিবছর এ সব চাল বাজারে আসার পরে পুরানো চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরানো চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। ফলে, নতুন চাল আসার পরে পুরানো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
চালের পাশাপাশি বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে এখন নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি পুরানো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আর দেশি পুরানো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি; প্রতিকেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা এখন শীতের সবজি কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন। কারণ, শীত মৌসুমে সবজির সরবরাহ বেশি, দামও কম।
বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার প্রতিকেজি আলু ২০-২৫ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টমেটোর কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা এবং লাউয়ের দাম ৪০-৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমে প্রতিডজন মুরগির ডিম ১১০-১১৫ এবং ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।




