চীনা বিনিয়োগে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার বড় সুযোগ দেখছেন সিইএএবি সভাপতি

0
39
চীনা বিনিয়োগে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার বড় সুযোগ দেখছেন সিইএএবি সভাপতি
চীনা বিনিয়োগে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার বড় সুযোগ দেখছেন সিইএএবি সভাপতি

চীনা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএএবি)-এর সভাপতি হান কুন। বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং তৈরি পোশাকসহ মূল খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নকে শক্তিশালী করেছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে, যার ৫৪ শতাংশ চীনা কোম্পানির। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭–২৮ গিগাওয়াটে, যা শিল্পায়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হান কুন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমব্যয়, উন্নত অবকাঠামো এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্র হওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিনি প্রস্তাবিত চীন–বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে (এফটিএ) এই রূপান্তরের জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

তার মতে, ট্যারিফ ও নীতি কাঠামো সমন্বিত হলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন খাত বাংলাদেশে স্থানান্তর করে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করতে পারবে। চীনের বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ, যার একটি অংশ বাংলাদেশে আসলে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও অনুমানযোগ্যতা বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত। নীতি হঠাৎ পরিবর্তন হলে বড় প্রকল্পগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, যা বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

হান জানান, বর্তমানে সিইএএবির প্রায় ২৫০টি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের অর্ধেক অবকাঠামো এবং প্রায় ৩০ শতাংশ আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতে। এসব প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানিমুখী সাপ্লাই চেইন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাত ছাড়াও নতুন শক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে চীনা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী

তিনি বলেন, “সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম রপ্তানি ও শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সব উপাদানই ধারণ করে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here