শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ আইন হলে বিরোধ বাড়বে

0
3

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজি, যৌথ দরকষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল ও চাকরি অবসান ইত্যাদি। এসব ধারা যদি সংশোধিত শ্রম আইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ আরও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিকেএমইএ। রাজধানীর বাংলামটরে  সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আপত্তিকর এসব ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় নির্বাহী সভাপতি  ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদে (টিসিসি) বিস্তারিত আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকাশিত গেজেট  দেখা যায়, টিসিসির সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু ধারা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের দেওয়া হয়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে। এটি এখন জাতীয় সংসদে  আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞায় আপত্তি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার কারণে সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরির শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৪ লাখ টাকার কর্মকর্তাকেও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন এই কর্মকর্তাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন। অথচ কর্মকর্তারা শ্রম আইনের ভিন্ন ধারায় করপোরেট চাকরি বিধি অনুযায়ী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজির কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা অডিটে নানা আপত্তি দেবেন। এতে রপ্তানি আদেশ না দেওয়া বা কম দেওয়া কিংবা দর কম দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

চাকরির অবসান বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। অথচ টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির কথা বলা ছিল। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত সময়সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here