দীর্ঘ দুই দশকের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং দেশের শাসনভার গ্রহণের জোরালো সম্ভাবনা বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তারেক রহমানের এই উত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশাল পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। বিশেষ করে, ক্ষমতায় গেলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন সাংবিধানিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা রোধ করা সম্ভব হয়।
তারেক রহমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি দমন। তিনি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প খাতের বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো বিশেষ দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ফিরে আসা কেবল একটি দলের ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক ধারায় এক বড় পরিবর্তন। একদিকে তিনি তার পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন আধুনিক নীতিনির্ধারক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার এই নির্বাসন থেকে ক্ষমতার যাত্রা চূড়ান্ত সফলতা পায় কি না।




