বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠায় বুধবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে রোগী ভর্তি ছিলেন। কিডনি অপসারণে নেতৃত্ব দেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। আর প্রতিস্থাপন সার্জারিতে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
চিকিৎসকরা জানান, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এতে রোগী ও তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে রোগীর মায়ের উদ্যোগ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ড কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২ মার্চ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এতে সন্তানের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেন তার মা।
অস্ত্রোপচারের পর মা ও সন্তান উভয়ই সুস্থ থাকায় বুধবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




