এক সময় বিয়ে বাড়িতে যাতায়াতের প্রধান যানবাহন ছিল হাতি-ঘোড়ার বহরের সঙ্গে পালকি। বর্তমান সময়ে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক যানবাহনের কাছে হারিয়ে গেছে সেই সময়ের যানবাহন। তবে প্রথা হিসেবে গ্রাম-বাংলার কিছু এলাকায় আজও চোখে পড়ে কিছু দৃশ্য। এক যুবককে হাতির পিঠে ওঠে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। যথারীতি যুবক বিয়ের উদ্যোগে হাতির পিঠে ওঠে এসেছেন কনের বাড়িতে। এ এক চমৎকার দৃশ্য।
তবে মজার বিষয় হলো, বিয়ের কার্যক্রম শেষে ঘোড়ার গাড়িতে কনে এলেন শ্বশুর বাড়িতে। এমনই সব ঘটনা গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ঘটেছে। আলোচিত এই বিয়ের ঘটনা পুরো জেলায় সাড়া ফেলেছে। বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা বিরল বলে জানান স্থানীয়রা।
আলোচিত এই বিয়ের বর মো. ফারহান ফয়সাল (২৮)। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলা চকমোহন গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। ফারহান ফয়সাল বিমান বাহিনীতে কর্মরত। আর কনের মোসা. ফারহানা আক্তার (২৬)। সে সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনার পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।
_1775817183.jpg)
বর-কনের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফারহান ফয়সালের শ্বশুর দুলাল হোসেনের শখ ছিল তার ছোট মেয়ে ফারহানা আক্তারের বিয়ের দিন জামাই যেন হাতির পিঠে ওঠে তার বাড়িতে আসেন। শুধু তাই নয়, মেয়ে যেন ঘোড়ার গাড়িতে ওঠে শ্বশুর বাড়িতে যান। সে মোতাবেক শ্বশুরের শখ পূরুন করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুবক ফারহান নিজ বাড়ি চকমোহন গ্রাম থেকে হাতির পিঠে ওঠে পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাঝে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরত্ব। এসময় রাস্তার দুই পাশে হাতির পিঠে মাথায় মুকুট পরা বরকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুরাতন দিনের রেওয়াজ অনুসারে হাতি নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে হাতির পিঠে ওঠে বর আসায় কনের এলাকাতেও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাতির পিঠে ওঠে বর আর অন্যান্য যানবাহন নিয়ে বরযাত্রীদের গাড়িবহর পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছায় সন্ধ্যার কিছু আগে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে রওনা হন বর। এ এক ব্যতিক্রম আয়োজন। এসময় কনের নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে উৎসুক নারী-পুরুষ ও লোকজন ভিড় জমান।
উৎসুক জনতারা জানান, বর্তমান সময়ে এ অঞ্চলে হাতিই দেখা যায় না। আশপাশে বড় ধরনের মেলা হলে দুই/একটা চোখে পরে। তাও কঠিন। কিন্তু হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার ঘটনা বিরল। আবার ঘোড়ার গাড়িতে করে কনে যায় শ্বশুর বাড়িতে। এমন ঘটনায় এলাকার লোকজন বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে।

কনে ফারহানা আক্তার বলেন, ‘আমার বিয়েতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সবকিছুতেই ছিল বাবার শখ। আমার জামাই হাতির পিঠে ওঠে এসে বিয়ের কার্যক্রম শেষে আবার আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমার জীবনের অন্যরকম এক অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই আমার বাবা হাতির হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শোনাতেন। আমিও স্বপ্ন দেখতাম হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার। সেই ইচ্ছে পূরণের জন্য আজ হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাই। ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।’
বরের বাবা ফজলুর রহমানের বলেন, ‘ফারহান তার শ্বশুরের শখ পুরুন করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যান। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে আজ এই আয়োজন। এমন আয়োজনে হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি বাবদ প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে অনেক আনন্দ উপভোগ করা হয়েছে।’
কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, আমার ইচ্ছে ছিলো ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রম আয়োজন করবো, সেই ইচ্ছে থেকেই আজকের এই আয়োজন। সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্য আজ ধরে রাখতে পেরেছি। বিয়েতে দুই পরিবারে আত্মীয়-স্বজন সবাই অনেক মজা ও আনন্দ উপভোগ করেছেন। সবাই নব দম্পতিকে আশীর্বাদ করবেন, ওরা যেন সুখে-শান্তিতে থাকে।’




