২১ দিন মা-মেয়ের লাশের সঙ্গে বসবাস:হত্যাকারীর লোমহর্ষক বর্ণনা

0
39

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর এবং রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মা-মেয়ে জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২) কে হত্যা করার পর ২১ দিন ওই দুই লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত নুসরাত মীম (২৪) ও তার পরিবার সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন।
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীমের ফ্ল্যাট থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানে নুসরাতের স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং তার ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকেও আটক করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পেছনের কারণ ছিল ঋণ ও মনোমালিন্য। নুসরাত একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন, যার জামিনদার ছিলেন রোকেয়া রহমান। কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাক্যালাপ ও মনোমালিন্য হয়।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে, ফাতেমা প্রাইভেট পড়ার জন্য নুসরাতের বাসায় গেলে তার ছোট বোনের সঙ্গে বাক্যালাপের এক পর্যায়ে তাকে গলা চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রোকেয়া রহমানকে ফোনে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বাসায় ডেকে আনা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ওসি সাইফুল আলম জানান, হত্যার পর ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর এবং রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এই অবস্থায় অভিযুক্তরা ২১ দিন ফ্ল্যাটে বসবাস করেছিল।
পুলিশ বলেছে, নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সমাজ ও বাসিন্দারা চরম আতঙ্কিত। পুলিশ ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে চেষ্টা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here