নতুন বছরের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশন। শনিবার সকালে নিজের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে।’ মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া এই মন্তব্য ভক্তদের মনে কৌতূহল জাগিয়েছে— গ্রিক গড খ্যাত এই নায়কের সঙ্গে বাঙালির যোগসূত্র ঠিক কোথায়?
হৃতিকের এই বাঙালি পরিচয়ের উৎস তাঁর দাদি ইরা রোশন (জন্মনাম ইরা মৈত্র)। সংগীত অনুরাগী ইরা মাত্র ২০ বছর বয়সে কলকাতা ছেড়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করতে গিয়ে পরিচিত হন সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবেই রাকেশ ও রাজেশ রোশনের জন্ম। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা জানলেও হৃতিকের সেই সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলায় দাদির অত্যন্ত আদরের নাতি ছিলেন তিনি। মজার বিষয় হলো, হৃতিকের জনপ্রিয় ডাকনাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন তাঁর এই বাঙালি দাদিই।
হৃতিক তাঁর দাদিকে ‘ঠামি’ বলে ডাকতেন। রোশন পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহে ঠামির হাতের রান্না করা মাছের পদ ছিল হৃতিকের ভীষণ প্রিয়। কলকাতায় এলে আজও তিনি দাদির হাতের সেই মাছ-ভাতের স্বাদ আর আদরের স্মৃতিতে কাতর হন। কাকতালীয়ভাবে হৃতিকের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও হয়েছিল এই তিলোত্তমা তলাতেই।
হৃতিকের জন্য জানুয়ারি মাসটি সব সময়ই আলাদা। ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর জন্ম, আবার ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ মুক্তি পেয়েছিল। ৫০ পেরিয়েও তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মাঝে নিজের বাঙালি পরিচয় সামনে আনা ভক্তদের জন্য এক বড় চমক হিসেবেই দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাঙালি ভক্তরা হৃতিকের এই ‘বাঙালি সত্তা’র স্বীকারোক্তিকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।




