যানজটে স্ত্রী-সন্তানের পৌঁছাতে বিলম্ব, রামেক হিমঘরে শামস সুমনের মরদেহ

0
2

অভিনেতা শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা যানজটের কারণে রাজশাহী পৌঁছাতে পারেননি। তারা রাজশাহী আসার পর মরদেহ নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সমাহিত করা হবে। এর আগে বুধবার রাত ১১টায় লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান সুমনের স্ত্রী ফারজানা শামস লিজা, ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল, জুবায়েদ শামস সাফিন ও মেয়ে সায়ান শামস। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে সুমনের মরদেহ নিয়ে রাজশাহীর পথে রওনা দেয় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। সকালে সুমনের লাশ রাজশাহী নগরের ঝাউতলা মিঠুর মোড় এলাকায় বাড়ি এসে পৌঁছে। এ সময় অনেক মানুষ তাঁর মরদেহ দেখতে ভিড় করেন।

পরে জোহরের নামাজের পর ঝাউতলা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হয়। এতে শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অলীউল আলম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়।

শামস সুমনের ছোট ভাই সাংবাদিক রাশেদ ইবনে ওবায়েদ রিপন জানান, সুমনের স্ত্রী-সন্তানেরা ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে যমুনা সেতু এলাকায় যানজটে পড়েছেন। তাই তাদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে । এ জন্য দাফনের সময়ের একটু পরিবর্তন করা হয়েছে। এশার নামাজের পর নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সুমনের মরদেহ দাফনের সময় ঠিক করেছেন তারা।

রাজশাহীতেই জন্ম তুখোড় অভিনেতা সুমনের। বেড়ে ওঠাও রাজশাহীতে। ভীষণ মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। ওই বছর তিনি মেধাতালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন।

এরপর ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

ছেলেবেলায় তিনি রাজশাহীতে বাংলাদেশ বেতারের অভিনয়শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ান। তিনি রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্যও। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকায় পাড়ি দেন। প্রথম দিকে মঞ্চনাটক করতেন। পরবর্তীতে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।

পরে বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে স্বপ্নপূরণ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ৬১ বছর বয়সে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বুধবার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here