ইরান যুদ্ধ থেকে শিগগিরই বের হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রয়োজন পড়লে আবার ফিরে এসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ট্রাম্প। এর আগে, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে ‘শিগগিরই’ বোঝাতে একটি সময়সীমা তুলে ধরেন তিনি। সেটি হলো, দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই অথবা তিন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন। একই সময়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনও করছেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প আদৌ তাড়াতাড়ি যুদ্ধ শেষ করবেন কিনা? গত সপ্তাহে তার দেওয়া একটি বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের সময়ে এক দিনের কোনো সীমা নেই। দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই অথবা তিনও লাগতে পারে।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে চাপে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ–সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার ভাষণের একটি দিক হবে ন্যাটোর প্রতি তাঁর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা। তার মতে, ইরানে মার্কিন লক্ষ্য অর্জনে এই জোটের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব রয়েছে। ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি ‘অবশ্যই’ বিবেচনা করছেন বলে জানান। ১৯৪৯ সালে মার্কিন সিনেটে এই জোটের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যখন দরকার পড়ল, তখন তারা বন্ধুর পরিচয় দেয়নি। আমরা কখনো তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি…এটা সব সময় একতরফা ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্র কখন ইরান যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে নির্দিষ্ট করতে বলতে পারব না…আমরা খুব দ্রুতই সরে আসব।’




