বড় চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো

0
9

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বার্থ জড়িয়ে থাকা এই সরু সমুদ্রপথে মাইন পাতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা, মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হামলার তথ্য— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনও মাইন পাতা হলে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তবে তার এই সতর্কবার্তাটি কিছুটা ঘুরিয়ে বলা ছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না যে এমন কিছু করা হয়েছে, কিন্তু যদি করা হয়ে থাকে, তাহলে ‘ভালো হবে সেগুলো সরিয়ে ফেলো’।

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পরই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ইরান হয়তো প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে অথবা বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের প্রায় ১৬টি মাইন বসানোর নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে।

মূলত হরমুজ প্রণালি একটি সরু সমুদ্রপথ— এর প্রস্থ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার। এর এক পাশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের হাতে। কুয়েত, ইরাক, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলবাহী ট্যাংকার যেতে হলে এই পথই ব্যবহার করতে হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমুদ্রপথে বের হওয়ার জন্য এটিই একমাত্র পথ। ফলে এই প্রণালির ওপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছে বা ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে হুমকি দিতে ইরানের প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নেই। ছোট সাবমেরিন বা দ্রুতগতির স্পিডবোট ব্যবহার করেও তারা এ ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, প্রণালিতে এমন ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। তবে পরে তাকে সেই পোস্ট মুছে ফেলতে হয়, কারণ দেখা যায় বাস্তবে তখনও তেমন কিছু ঘটেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here