যুদ্ধে ইরানের বন্ধু হিসেবে থাকছে যে যে দেশ!

0
8

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় প্রাণহানি এক হাজার ছাড়িয়ে গেলেও তেহরানের দুই প্রধান কূটনৈতিক মিত্র রাশিয়া ও চীন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। দুই দেশই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকলেও যুদ্ধের ময়দানে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর কোনো আইনি বা সামরিক ইঙ্গিত এখনো দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ থাকলেও তাতে যুদ্ধের সময় একে অপরকে সামরিক সহায়তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিটি মূলত জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক। চীন বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে অস্ত্র পাঠানোর মতো ঝুঁকি নিতে নারাজ। তেহরানের তেলের প্রায় ৮৭ শতাংশ চীনে রপ্তানি হলেও বেইজিংয়ের কাছে ইরান একটি ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক অংশীদার মাত্র। ফলে কূটনৈতিক নিন্দা আর শোক বার্তার বাইরে মস্কো ও বেইজিংয়ের কাছ থেকে কার্যকর সামরিক সহায়তা না পেয়ে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং রণক্ষেত্রে কার্যত একাই লড়ছে ইরান।

রাশিয়ার সাথে ইরানের চুক্তিটি উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী নয়। এখানে কেবল এক পক্ষ যুদ্ধে জড়ালে অন্য পক্ষ শত্রুতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে, যুদ্ধের পক্ষ নেওয়ার নয়।

মস্কো এখন ইউক্রেন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার সময়ও রাশিয়া কেবল নিন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা ইরানের ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলছে চীন। তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বেশি আগ্রহী।

ইরান তেলের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হলেও চীনের বিশাল বিশ্ববাণিজ্যে ইরানের গুরুত্ব সামান্য। ফলে বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তেহরানের হয়ে যুদ্ধে জড়াবে না।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ইরানের আঞ্চলিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল মাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here