বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক চাপ যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই চাপ ধীরে ধীরে কখন যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় রূপ নেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছেন, অথচ বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে এই মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা
কয়েক ঘণ্টা বা একদিন মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ, হতাশা বা শূন্যতা অনুভব করলে তা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
২. আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলা
যে কাজগুলো একসময় আনন্দ দিত—গান শোনা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সেগুলোতে আর আগ্রহ না থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ডিপ্রেশনের অন্যতম প্রধান উপসর্গ।
৩. ঘুমের সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমান বা একেবারেই ঘুমাতে পারেন না। মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়াও লক্ষণ হতে পারে।
৪. ক্ষুধা ও ওজনের পরিবর্তন
খাবারে অনীহা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়াও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।
৫. সারাক্ষণ ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সব সময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না থাকে এবং ছোট কাজও কষ্টকর মনে হয়—তাহলে তা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৬. নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া
বারবার নিজেকে দোষারোপ করা, অপরাধবোধে ভোগা বা মনে হওয়া—‘আমি কিছুই পারি না’, ‘আমি বোঝা’—এই ভাবনাগুলো ডিপ্রেশনের গুরুতর লক্ষণ।
৭. মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও অসুবিধা দেখা দেয়।
৮. মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা
সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষণ হলো—মৃত্যু নিয়ে বারবার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার কথা ভাবা। এমন চিন্তা মাথায় এলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
কী করবেন?
ডিপ্রেশন কোনো দুর্বলতা নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থতার প্রথম ধাপ।
মনে রাখবেন: সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডিপ্রেশন থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।




