শরীরে ইউরিক অ্যাসিড অতিরিক্ত জমে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত, জয়েন্টে ব্যথা, কিডনির সমস্যা এমনকি হার্টের রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নীরবে বাড়তে থাকে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই টের পান না। তবে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকেতগুলোকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে গুরুতর রোগের আশঙ্কা থাকে।
প্রথমত, হঠাৎ পায়ের আঙুল বা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে তা গেঁটে বাতের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড জমে জয়েন্টে প্রদাহ ও স্ফীতি তৈরি করে, যার ফলে তীব্র যন্ত্রণা হয়। দ্বিতীয়ত, ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দেখা দিলে এটি কিডনিতে ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিক জমার ইঙ্গিত হতে পারে, যা কিডনির পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তৃতীয়ত, ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়াও ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হতে পারে। অনেক সময় মানুষ একে সাধারণ অ্যালার্জি মনে করে এড়িয়ে যান, যা বিপজ্জনক হতে পারে। চতুর্থত, সারাদিন ক্লান্তি ও হালকা ব্যথা অনুভব করাও ইউরিক অ্যাসিডের নীরব সংকেত হতে পারে, কারণ এটি কোষে প্রদাহ তৈরি করে শরীরকে দুর্বল করে। পঞ্চমত, রাতে ঘুমের সময় জয়েন্টে টান বা ব্যথা, বিশেষ করে পায়ের অংশে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু খাবার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।




