বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা কিংবা নিস্তেজ ভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেস, পানিশূন্যতা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি ত্বকের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে তোলে। ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে শুধু স্কিনকেয়ার নয়, খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন কিছু খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও প্রদাহনাশক উপাদান ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, কোলাজেন ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে টানটান রাখে। এসব উপাদান দিয়ে তৈরি কয়েকটি সহজ পানীয় নিয়মিত খেলে বয়সের ছাপ পড়া ধীর হতে পারে।
ডালিম ও পুদিনার পানীয়
ডালিম পলিফেনল ও ভিটামিন সি–তে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি বলিরেখা কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। পুদিনা শরীর ঠান্ডা রাখে, হজম শক্তিশালী করে এবং ডালিমের পুষ্টিগুণ শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।
হলুদ ও আদার পানীয়
হলুদের কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত। আদায় থাকা জিঞ্জেরোল রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীর উষ্ণ রাখে। এই পানীয়তে সামান্য গোলমরিচ যোগ করলে কারকিউমিনের শোষণ আরও বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদাহ কমলে অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকিও কমে।
গাজর ও কমলার রস
গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ–তে রূপান্তরিত হয়, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। কমলার ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এই রস ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে কার্যকর।
অ্যালোভেরা ও শসার পানীয়
অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও ই, যা ত্বকের সুরক্ষা স্তর মেরামতে সহায়ক। শসা শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ত্বকের ফোলাভাব ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। এই পানীয় ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে বিশেষভাবে উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব পানীয় নিয়মিত গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে বয়সের ছাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।




