পেটের আলসার কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। শুরুতে সামান্য ক্ষত হলেও সময়মতো সতর্ক না হলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমনকি পেটে ছিদ্র পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু অজান্তেই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা কিছু পরিচিত খাবারই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সতর্ক করলেন পুষ্টিবিদ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেটের আলসারকে বলা হয় পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)। এই রোগে পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের আবরণে ক্ষত সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে রক্তক্ষরণ, তীব্র ব্যথা এমনকি প্রাণঘাতী জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
অ্যাপোলো ২৪/৭ ডা. উৎস বসু’স ক্লিনিকের প্রধান ডায়েটেশিয়ান ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও জীবনযাপনের কারণে পেটের আলসারের হার দ্রুত বাড়ছে। তাঁর মতে, আলসার থাকুক বা না থাকুক—কিছু খাবার নিয়মিত এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, পেটের আলসার বাড়াতে পারে এমন ৫টি খাবার, যেগুলো এখনই কমানো জরুরি—
১. অ্যালকোহল: আলসারের নীরব শত্রু
মদ, বিয়ার বা যেকোনো অ্যালকোহলিক পানীয় পাকস্থলীর আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত মদ্যপানে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে আলসার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে। যাঁদের আগে থেকেই আলসার আছে, তাঁদের জন্য অ্যালকোহল একেবারেই নিষিদ্ধ।
২. অতিরিক্ত চা-কফি
চা বা কফি মাঝেমধ্যে ক্ষতিকর না হলেও অতিরিক্ত ক্যাফিন পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। এতে আলসারের ক্ষত আরও গভীর হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ—দিনে ২–৩ কাপের বেশি চা-কফি নয়।
৩. লেবু ও লেবু জাতীয় ফল
অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে লেবু জাতীয় ফল সাবধানে খাওয়া জরুরি। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাকস্থলীতে অতিরিক্ত জ্বালা তৈরি করে, যা আলসারের কারণ হতে পারে বা বিদ্যমান আলসারকে আরও খারাপ করে তোলে।
৪. অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার
বনস্পতি, পাম তেল, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড হজমে দেরি ঘটায় এবং পাকস্থলীতে চাপ বাড়ায়। এর ফলে অ্যাসিড ক্ষরণ বেড়ে আলসারের ঝুঁকি বাড়ে। বাইরে তৈরি খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
৫. বেশি ঝাল ও মশলাদার খাবার
মশলা আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়ালেও অতিরিক্ত ঝাল পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত ঝাল খেলে আলসারের ক্ষত সারতে চায় না। তাই মশলা ব্যবহার করুন পরিমিত পরিমাণে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পেটের আলসার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সময়মতো খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় এমন খাবার এড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”
পেটের সামান্য জ্বালা বা অস্বস্তিকে অবহেলা না করে এখনই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। কারণ সচেতন থাকলেই পেটের আলসারের মতো ভয়ংকর সমস্যা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।




