প্রোটিনের ভাণ্ডার ডিম! কিন্তু কারা ভুলেও খাবেন না? জেনে নিন সতর্কতা

0
46

সুস্থ শরীর গঠনে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই তালিকায় ডিমকে ধরা হয় অন্যতম সেরা ও সহজলভ্য প্রোটিন উৎস হিসেবে। ডিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, আয়রন ও নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। তাই অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখেন—সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা বা রোগে এটি খাওয়া উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডিম খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক—কোন কোন সমস্যায় ডিম খাওয়া উচিত নয়।

🔹 হজমজনিত সমস্যা থাকলে
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডিম তুলনামূলকভাবে ধীরে হজম হয়। যাঁদের আগে থেকেই বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পরিপাকজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি ভাব, বমি বা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই হজমের সমস্যা থাকলে ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো।

🔹 উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে
যাঁদের শরীরে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বেশি, তাঁদের ডিম খাওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যেতে পারে।

🔹 হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে
হার্টের সমস্যা বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডিমের কুসুম নিয়মিত খেলে ধমনীতে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডিম না খাওয়াই শ্রেয়।

🔹 ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলে
ডায়রিয়া বা তীব্র পেট খারাপের সময় ডিম খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে হজমে চাপ পড়ে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থায় ডিম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

🔹 ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে
একসঙ্গে একাধিক ডিম খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

ডিম নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে সবার শরীরের চাহিদা ও শারীরিক অবস্থা এক নয়। কারও জন্য এটি উপকারী হলেও, কারও জন্য হতে পারে ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক সমস্যা, চলমান রোগ ও হজমক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here