ত্বকের অন্যতম বড় সমস্যা ব্রণ। বয়স কম হোক বা বেশি—তৈলাক্ত ত্বক, হরমোনজনিত পরিবর্তন, ধুলোবালি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই ব্রণ সমস্যায় ভোগেন। দুই গাল, কপাল, থুতনি—কোনো জায়গাই যেন বাদ যায় না। বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহার করেও যখন কাজ হয় না, তখন ভরসা হতে পারে কিছু পরিচিত ঘরোয়া ফেসপ্যাক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণজনিত জ্বালা কমাতে পারে।
তুলসী-নিম ফেসপ্যাক: তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কার্যকর
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে তুলসী ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। পরিষ্কার মুখে এই প্যাক লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও কোমল থাকতে পারে।
তুলসী, ওটস ও দুধের প্যাক: জেল্লা ফেরাতে সহায়ক
তুলসী পাতার গুঁড়োর সঙ্গে
🔹 ১ চামচ ওটস গুঁড়ো
🔹 ১ চামচ কাঁচা দুধ
ভালভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে।
শীতকালীন ব্রণের জন্য বিশেষ প্যাক
শীতকালে অনেকেরই হঠাৎ ব্রণ বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে
তুলসী গুঁড়ো, নিমপাতা বাটা, হলুদ গুঁড়ো ও চন্দন গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। কয়েক মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
হলুদ ও মধু: প্রদাহ কমাতে সহায়ক
আধ চা-চামচ হলুদ ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
হলুদ প্রাকৃতিক প্রদাহবিরোধী উপাদান, আর মধু ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
রসুন-দুধ প্যাক: সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার
একটি রসুনের কোয়া থেঁতো করে অ্যালোভেরা বা জোজোবা তেলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ২ টেবিল চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। সংবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
🔹 যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন
🔹 অতিরিক্ত ব্রণ বা ব্যথা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
🔹 পরিষ্কার মুখে ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘরোয়া এই ফেসপ্যাকগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান।




