বাবা–মায়ের এই ভুলেই সন্তান হয়ে উঠছে জেদি

0
49

বাবা–মা সবসময়ই সন্তানের মঙ্গল চান। সন্তানকে সঠিক জীবনদর্শন শেখানো, ভালো-মন্দ বোঝানো এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবুও অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করে ফেলেন, যা সন্তানের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা–মায়ের কিছু অভ্যাসই শিশুদের একগুঁয়ে ও জেদি করে তুলতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জেদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই সময়টিতে সঠিকভাবে লালন-পালন না হলে শিশুর আচরণে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে। দেখা যায়, সন্তান কোনো কথা শুনতে চায় না, সামান্য কিছু না পেলেই কান্নাকাটি করে বা হাত-পা ছুড়ে আবেগ প্রকাশ করে। তাই এই বয়সে বাবা–মায়ের আচরণে সচেতন হওয়া জরুরি।

অকারণে রাগারাগি

অকারণ রাগ বা উচ্চস্বরে কথা বলা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। বাবা–মা ঘন ঘন রাগ করলে কিংবা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলে শিশুর নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হয়। এতে সে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি ও ভাবনা বাবা–মায়ের সঙ্গে ভাগ করতে চায় না।

সন্তানের সব ইচ্ছা পূরণ করা

অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানের সব চাওয়া পূরণ করলেই তাঁরা ভালো বাবা–মা। কিন্তু বাস্তবে এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সব ইচ্ছা সহজে পূরণ হলে শিশুর মনে জন্ম নেয়—সে যা চাইবে, যখন চাইবে, তাই পাবে। এতে ধীরে ধীরে সে একগুঁয়ে হয়ে ওঠে এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে।

সবার সামনে সমালোচনা করা

প্রত্যেক শিশুরই আত্মসম্মানবোধ থাকে। সবার সামনে সন্তানের ভুল ধরা, নিন্দা করা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে তার মনে গভীর প্রভাব পড়ে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং সে প্রতিবাদী ও জেদি হয়ে উঠতে পারে।

ভুল উপেক্ষা করা

শিশু ভুল করলে যদি বাবা–মা তা উপেক্ষা করেন, তাহলে সে মনে করতে পারে তার ভুলের কোনো পরিণতি নেই। এতে শিশুর দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে না। তাই সন্তানের ভুল হলে তা বুঝিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।

মারধর করা

অনেক সময় রাগের মাথায় বাবা–মা সন্তানকে মারধর করেন। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুর আত্মবিশ্বাসে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মারধরের ফলে শিশুর মধ্যে ভয়, রাগ ও জেদ তৈরি হয়। সন্তান ভুল করলে শান্তভাবে বিষয়টি বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সৌজন্যবোধ শেখানো জরুরি। কাউকে কিছু দিলে ধন্যবাদ জানানো, বড়দের সম্মান করা—এ ধরনের অভ্যাস শিশুর আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here