লিভারের জন্য হলুদ সহায়ক নাকি ক্ষতিকর? গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সতর্ক বার্তা

0
21

হলুদ, যাকে মসলা হিসেবেও ব্যবহার করা হয়, যুগ যুগ ধরে রান্না ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় খাবারে প্রায় প্রতিটি কারি, চা বা স্যুপে এক চিমটি হলুদ দেওয়া হয়। এর প্রধান উপাদান কুরকুমিন শুধু খাবারে রঙ যোগ করে না, এটি প্রদাহ-রোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার রোগীদের মধ্যে অনেকেই হলুদ ব্যবহার করে লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে চান।

তবে সমস্যা শুরু হয় অতিরিক্ত হলুদ সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে। হার্ভার্ড প্রশিক্ষিত মার্কিন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এই বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাধারণভাবে কারি, চা বা গোল্ডেন মিল্কে আধা থেকে এক চামচ হলুদ সাধারণত নিরাপদ এবং লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। কিন্তু উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট সব সময় নিরপদ নয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কুরকুমিন লিভার সমস্যার কারণ হতে পারে।”

ড. শেঠি আরও বলেন, “খাবারে হলুদ প্রতিদিন অর্ধা থেকে এক চামচ ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে এবং লিভারকে ক্ষুদ্র মাত্রায় রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে ক্যাপসুল, ট্যাবলেট বা এক্সট্র্যাক্ট আকারে উচ্চমাত্রার হলুদ দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার পূর্ববর্তী লিভার সমস্যা থাকে বা নির্দিষ্ট জেনেটিক ফ্যাক্টর থাকে, যেমন HLA-B*35:01 মার্কার, তবে ঝুঁকি বেড়ে যায়।”

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, খাবারে হলুদ উপভোগ করুন, তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তার পরামর্শ নিন এবং লিভারের কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। লিভারের সমস্যা থাকলে বা উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় ক্লান্তি, হলদে চোখ বা ত্বক, বমি ভাব, পেটের ব্যথা এসব লক্ষণ খেয়াল রাখুন।

সারসংক্ষেপে, দৈনন্দিন খাবারে হলুদ নিরাপদ ও উপকারী, লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে সাবধানতা অপরিহার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here