সমবয়সি না বড়, কোন দাম্পত্য বেশিদিন টিকে?

0
27

দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক গবেষক, মনোবিজ্ঞানী ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সমবয়সি দম্পতির সম্পর্ক বেশি টেকসই, নাকি বয়সে বড় পার্থক্য থাকা দাম্পত্য?

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সের ব্যবধান কম—বিশেষ করে ০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে—দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দম্পতিদের মধ্যে চিন্তাভাবনা, জীবনদৃষ্টি ও সামাজিক বাস্তবতা প্রায় একই হওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয়।

একই প্রজন্মের মানুষ হওয়ায় এই দম্পতিরা শিক্ষা, কর্মজীবন, সন্তান লালন-পালন এবং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে একসঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বন্দ্ব কম হয় এবং যোগাযোগের ঘাটতিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।

অন্যদিকে, বয়সে বড় ব্যবধান থাকা দাম্পত্যেও সম্পর্ক টিকে থাকে—তবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক পরিপক্বতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যবধান থাকলে দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এ ধরনের সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, জীবনধারার পার্থক্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। এখানে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ভূমিকা রাখে। বয়সের বড় পার্থক্য থাকলে সামাজিক চাপ, আত্মীয়স্বজনের হস্তক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও বেশি হয়, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণে বয়সই শেষ কথা নয়। পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, আবেগী বুদ্ধিমত্তা, দ্বন্দ্ব সমাধানের দক্ষতা এবং আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তাই দাম্পত্য টিকে থাকার মূল ভিত্তি

সব মিলিয়ে বলা যায়, সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দাম্পত্য সাধারণত বেশি আনন্দময় হলেও, বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য সফলভাবে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে পারে আর এই সম্পর্কে থাকে পারসস্পরিক সম্মানবোধ , দায়িত্ববোধ ও স্নেহ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here