ইফতারে মুড়িমাখা কতটা স্বাস্থ্যকর

0
4

পবিত্র রমজান মাস এলে ইফতারের সময় টেবিলে যে খাবারটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেটি হলো মুড়ি। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি—সব কিছুর সঙ্গেই মুড়ির দারুণ বন্ধুত্ব। অনেকের কাছে তো ইফতারি মানেই মুড়িমাখা। কিন্তু দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই মুড়ি কি সত্যিই শরীরের জন্য ভালো? নাকি এতে লুকিয়ে আছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি?

মুড়ি মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। এটি দ্রুত শক্তি যোগায়, যা রোজা ভাঙার পর শরীরের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, ছোলা প্রোটিন, ফাইবার ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের ভালো উৎস।

আরছোলা-মুড়িমাখা একসঙ্গে খেলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তি (কার্বোহাইড্রেট) এবং কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি (প্রোটিন ও ফাইবার) পায়। তাই শুধু মুড়ির তুলনায় ছোলা, মুড়িমাখা তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ।তবে সমস্যা হয় যখন এতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার, তেল বা লবণ যোগ করা হয়। তখন ক্যালরি ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়।

ইফতারে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ অনেকের প্রিয়। কিন্তু এসব খাবার সাধারণত ডিপ ফ্রাই করা হয়। ফলে এতে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ করে। এতে ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খালি পেটে বেশি তেলযুক্ত খাবার খেলে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

খাওয়ার পর রক্তে শর্করা দ্রুত ওঠানামা করতে পারে।এছাড়া রোজা ভাঙার পর হঠাৎ বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শরীরের উপর চাপ পড়ে। এতে ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

একেবারে বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমিত পরিমাণ জরুরি। স্বাস্থ্যকর ইফতারের জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা যেতে পারে। যেমন, ইফতার শুরু করুন পানি ও খেজুর দিয়ে। অল্প পরিমাণ ছোলা, মুড়িমাখা খান।

ভাজাপোড়া খেলেও ১–২ পিসের বেশি না খাওয়াই ভালো। সম্ভব হলে এয়ার ফ্রায়ার বা কম তেলে ভাজা বিকল্প বেছে নিন এবং ইফতারে শসা, টমেটো, ফল রাখুন। এভাবে খেলেই ইফতার হবে স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয়।

ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, যাদের ওজন বেশি, গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে তাদের জন্য অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা ঠিক করাই উত্তম।

ইফতারে ছোলা, মুড়িমাখা নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়; বরং এটি তুলনামূলকভাবে ভালো একটি বিকল্প। তবে এর সঙ্গে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া যোগ হলে ক্যালরি, তেল ও লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।তাই ইফতারের খাবারে থাকুন সচেতন। কারণ সুস্থ শরীরই পারে রমজানের ইবাদতকে করে তুলতে পরিপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here