উচ্চকক্ষের সদস্য কারা হচ্ছেন সর্বত্র আলোচনা

0
6

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পথে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসন নিয়ে বিজয়ী বিএনপি। সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে- এ নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের ‘উচ্চকক্ষ’।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর এখন আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের বিষয়টি। কারা হচ্ছেন এই উচ্চকক্ষের সদস্য আর কী হবে তাদের যোগ্যতা- তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা। এ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার করে কিছু বলা নেই। দলগুলো যাদেরকেই মনোনয়ন দেবে তারাই হবেন জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য। সেক্ষেত্রে নি¤œকক্ষের নির্বাচনে পরাজিত অনেক প্রার্থীকেই সংসদের উচ্চকক্ষে দেখা যেতে পারে। নি¤œকক্ষের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সরকার ও বিরোধী দল কে কতটি আসন পাচ্ছে, তাও নির্ধারিত হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সাধারণত উচ্চকক্ষ ও নি¤œকক্ষের নির্বাচন একই সঙ্গে হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নি¤œকক্ষের নির্বাচন আগে হয়ে যাওয়ায় একটি বিশেষ বিধান রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, তবে এই সুযোগ থাকবে শুধু ত্রয়োদশ সংসদের জন্য।
উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ওপর। সম্ভাব্যভাবে সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিও থাকতে পারে। যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন করবেন। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, নারী বা সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হবে এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করবেন।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট। ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে। বাকি ৫ জন সদস্যকে রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে মনোনীত করবেন। এই পরিষদের প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নি¤œকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সংসদ কার্যত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়ে যাবে। উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ হবে আইন পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা। বিশেষ করে সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের বিশেষ ক্ষমতা থাকবে। তবে এই কক্ষ সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে পারবে না, যদিও তারা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে।
এছাড়া উচ্চকক্ষের আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রান্তিক কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। দুই কক্ষের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উচ্চকক্ষের পাশাপাশি নি¤œকক্ষ বা জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা হবে ৫০৫টি। এর মধ্যে ৪০০টি আসন হবে নি¤œকক্ষের। ৩০০টি আসনে প্রচলিত সরাসরি ভোট পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। বাকি ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, তবে তারা সারাদেশের নির্দিষ্ট ১০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here