ইল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয় মেয়েদের। এরপর ছাদখোলা বাসে গন্তব্য হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটারে। আলো ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দেশবাসীকে ট্রফি উৎসর্গ করেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ ফুটবলজয়ী নারী ফুটবল দলকেও এভাবেই বরণ করেছিল বাফুফে। সেবারের সেই উৎসবের আমেজ এবার দেখা যায়নি। তবে, মানুষের আগ্রহ কম থাকলেও গানের তালে নেচে-গেয়ে ট্রফির সঙ্গে লাল সবুজ পতাকা হাতে উদ্যাপনটা জমপেশই করেছেন সবাই। বিমানবন্দর থেকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছাদখোলা বাসে করে দলকে নেওয়া হয় হাতিরঝিলে। সেখানে এম্ফিথিয়েটারে সাজানো মঞ্চে রাত ৯টার একটু পর একে একে ওঠেন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। দলের ১৩ জন সদস্য মঞ্চে উপস্থিত হলেও অধিনায়ক সাবিনা তখনও মঞ্চে ওঠেননি। অনুষ্ঠান সঞ্চালকের অনুরোধে দর্শকরা সমস্বরে ‘সাবিনা, সাবিনা’ বলে ডাকতে থাকেন। পরে মূল ফটক দিয়ে ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন অধিনায়ক।
দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। মঞ্চে উঠে সাবিনা বলেন,‘সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। ম্যাচ জেতার পর যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় যাই তখন দেশের মানুষের ভালোলাগা-ভালোবাসা দেখতে পাই। ওই জায়গা থেকেই মোটিভেশন আসে, মেয়েরা উৎসাহিত হয়। মেয়েদের খেলার আগ্রহ, জেতার আগ্রহ বাড়ে।
সেই জায়গা থেকে এই ট্রফি আপনাদের জন্যই। দেশের মানুষের জন্য।’ তিনি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ফুটসাল টিম ম্যানেজার, কোচিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সাত দেশের অংশগ্রহণে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলটি ৫টি ম্যাচ জিতে এবং একটি ম্যাচ ড্র করে শিরোপা নিশ্চিত করে। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ১১ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয় ভুটান।
বাংলাদেশের ইরানি হেড কোচ সাইদ খোদারাহমি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে তিনি আনন্দিত,‘বাংলাদেশে ফুটসালের নতুন যাত্রা মাত্র কয়েক মাসের, তবে এভাবেই সাফল্য আসতে থাকবে। ফুটসাল চেয়ারম্যান ও টিম ম্যানেজার ইমরানুর রহমান জানান, স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই মেয়েরা ট্রফি এনে দিয়েছে। সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের,‘সবাই মিলে চেষ্টা করলে ফুটসালের জন্য মাঠ করা যায়।
এছাড়া সবাই যেন খেলোয়াড়দের পাশে থেকে সহযোগিতা করে তাহলে খেলাটি এগিয়ে যাবে।’ ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সাবিনাদের দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছিল ফেডারেশন। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সেই টাকা পাননি ফুটবলাররা। তাই ঋতুপর্ণারা এশিয়া কাপ নিশ্চিত করার পরও কোনো ঘোষণা দেয়নি ফেডারেশন।
সেটা অনুকরণ করেই কিনা এবার ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন দলকেও ছাদখোলা বাস ও হাতিরঝিলে আলো ঝলমলে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। যথারীতি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মেয়েদের। কিন্তু কোনো রকম আর্থিক পুরস্কারের নিশ্চয়তা দেননি তিনি! বলেছেন,অবশ্যই ওদের জন্য কিছু করা হবে, পুরস্কার দেওয়া হবে, তবে সেটা কিভাবে, কি পরিমাণে সেটি প্রকাশ কররেননি।
বাফুফে সভাপতি সাবিনার প্রশংসা করে বলেন,‘অভিনন্দন বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলকে। অধিনায়ক সাবিনাকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন। কারণ সাবিনা বাংলাদেশের একমাত্র ত্রীড়াবিদ, যে কি না দুইটা ভিন্ন খেলায় তিনবার দেশকে সাফ জিতিয়েছেন। তার নাম বাংলাদেশ যুগের পর যুগ মনে রাখবে।’




