দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ পাঁচটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এলপিজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীরা দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, যার ফলে বেশ কিছু জেলায় সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
বাজারে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি বিভাগ যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এলপিজি আমদানির এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এলপিজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির অনুমতি পেতে ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড ও ডেল্টা এলপিজি কোম্পানির আবেদনের বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়ে বিইআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত গ্যাসের প্রকৃত মজুদ এবং সাপ্লাই চেইনের অবস্থা যাচাই করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের স্টোরেজগুলো পরিদর্শন করবে।
সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ঢাকা, গাজীপুর এবং সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও দেশের অন্যান্য কিছু জেলায় এখনও সীমিত পরিসরে বিক্রি চলছে।
বিকেলে বিইআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ধর্মঘট প্রত্যাহার বা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন যে আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আমদানির অনুমোদন এবং শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো কার্যকর হলে বাজারে গ্যাসের দামও কিছুটা কমতে পারে। মূলত একটি জাতীয় দৈনিকে এলপিজি আমদানির জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়েছে।




