ঢাকাকে মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর জামায়াতে ইসলামী

0
8

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগের এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবীদের উদ্যোগে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে “বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর” শীর্ষক একটি ব্যতিক্রমী পলিসি ডায়ালগের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে কল্যাণের জন্য। সে কারণে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ঢাকা শহর ও বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চাই। আল্লাহ তাআলা সুযোগ প্রদান করলে আমরা জাতিকে এমন একটি শহর ও দেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

তিন পর্বের বিস্তারিত আলোচনা

১ম পর্ব: সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এই পর্বে “Let Us Build Together Livable, Caring, Governable, Functional Cities and Towns” শীর্ষক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্রি. জে. (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য করার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। একই সাথে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ৬৪ জেলাকে সমৃদ্ধ করার রূপরেখা তুলে ধরেন। মানবিক শহরের ৭টি পিলারের কথা উল্লেখ করা হয়:

সকলের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি (পাওয়ার ও এনার্জি) নিশ্চিত করা।

আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হাতের নাগালে কর্মসংস্থান।

উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত উন্নয়ন।

গৃহায়ণ, আবাসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা।

অর্থনীতির চাকাকে সচল ও পুনর্গঠন।

২য় পর্ব: জাতীয় লক্ষ্য ও নীতিমালা “A National Vision for Livable & Human City” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন এক্সিস ট্রায়াঙ্গেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলম। তিনি জানান, বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। তথ্য দেওয়া হয় যে, এই শহরে বছরে ৩০০০ কোটি টাকা হকারদের থেকে এবং ১০৫৯ কোটি টাকা বাস ও বেসরকারি গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি হয়। এছাড়াও ৮২ ভাগ নারী হয়রানির শিকার হন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে এই চাঁদাবাজি ও হয়রানির অবসান হবে। আধুনিক ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্রিন পার্ক এবং ঢাকার চতুর্দিকে ‘ওয়াটার ব্লু জোন’ (Water Blue Zones) তৈরির মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যামমুক্ত শহর গড়া হবে।

৩য় পর্ব: অবকাঠামো ও পরিবেশ “Building Together” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন পরিকল্পনাবিদ খন্দকার মো. আনসার হোসাইন (সাবেক সচিব, বিআইপি)। তিনি বর্তমান এক্সপ্রেসওয়েগুলোর অপরিকল্পিত নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, এতে অর্থ অপচয় ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রাস্তাঘাট, জলাশয়, পুকুর ও নদ-নদীকে কাজে লাগিয়ে একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলবে, যেখানে নারী ও শিশুর জীবন নিরাপদ থাকবে।

প্যানেল আলোচকবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান, দেওয়ান এ. এইচ. আলমগীর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, প্ল্যানার মেহেদী আহসান, ড. আদিল মোহাম্মদ খান, ড. ফজলে এলাহী, প্রকৌশলী শাহজাহান আলম, খন্দকার মো. আনসার হোসেন, মারদিয়া মমতাজ, ড. মাহবুবুল বারী এবং ড. মোশলেহ উদ্দিন।

উদ্বোধন ও সমাপ্তি ক্বারি হাফেজ বেলাল হোসাইনের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শাসন করার সুযোগ পেলে ঢাকাসহ বাংলাদেশকে বসবাসের উপযোগী করা আর স্বপ্ন থাকবে না, বাস্তবে রূপ নেবে। সমাপনী বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (সাবেক নির্বাহী পরিচালক, ইয়ুথ গ্রুপ) উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক শহর গড়া আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here