উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী ঘিরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় বেশ কিছু চক্র অর্ধশতাধিক অবৈধ বোমা মেশিন স্থাপন করে তিস্তা নদী হতে পাথর তুলে আঙুল ফুলে কলা গাছে পরিনত হচ্ছে। পাশাপাশি পাথর উত্তোলন ও তা পরিবহনে নদীর তলদেশ তলিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ওই এলাকার গ্রাম গুলো সড়ক ও বসতভিটাগুলোতে। অনেকে ভুমি ধ্বসের আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সুত্র মতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখরিবাড়ি ও খালিশাচাঁপানী এলাকায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন স্থাপন করে পাথর উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলনকৃত পাথর প্রথমে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ও পরে ট্রলিতে পরিবহন করা হয়। এতে নদীপাড়ে অরাজকতা সৃস্টি করে।
এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ পেয়ে নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করার দায়ে ১১ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও কয়েকটি বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিনষ্ট করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টেপাখড়িবাড়ি ও খালিশাচাপানি ইউনিয়নের তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্বে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরানুজ্জামান। তাকে সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা।
জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল। অভিযোগ পেয়ে বিকেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পাথর উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। পরে নদী থেকে উত্তোলিত পাথর বহনের কাজে ব্যবহৃত ১১ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ৬টি শ্যালো ও কয়েকটি বোমা মেশিন বিনষ্ট করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষে এটি বন্ধে কাজ করছি। অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতে অভিযান চলমান থাকবে।




