তেলের ডিপোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ বিপিসির

0
4

জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান প্রধান ডিপোর নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।
বিপিসি এক চিঠিতে জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিলারদের আকস্মিক বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কিছু স্থানে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের ডিপো।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের এসব ডিপো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইভুক্ত হওয়ায় এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই সম্ভাব্য যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব স্থাপনায় জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে বিপিসি।
মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন
জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। এসব সেলে অভিযোগ বা তথ্য জানাতে একাধিক যোগাযোগ নম্বরও নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়েছে।
এতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ছাড়াও বিপিসির বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল হিসেবে কাজ করবে চট্টগ্রামের বিপিসির বিজনেস সাপোর্ট সেন্টার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপো, শোর ট্যাংক, ফ্লোটিং, ডিসপাচ ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোথাও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুত বা সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল সেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। এসব সেলে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here