নতুন সরকার গঠন করে চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার। আলোচনায় থাকলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার ও সেলিমা রহমান। অসুস্থতার কারণে জমির উদ্দিন সরকারকে বাদ পড়া স্বাভাবিক মনে করা হলেও অন্যদের না থাকা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান এবং সিনিয়র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আসাদুজ্জামান রিপন মনোনয়নই পাননি। টেকনোক্র্যাট কোটায় সুযোগ পাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল এবারের বিশেষত্ব। নতুন মন্ত্রিসভায় ৪০ জন নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন, যাদের অনেকেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সরকারের দায়িত্ব পেয়েছেন।
অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও সন্ধ্যায় পৃথক প্রজ্ঞাপনে ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির রিজভী, নজরুল ইসলাম খান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহানা আসিফ আসাদ।
নতুন মন্ত্রিসভায় শরিক দল থেকেও কয়েকজন জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং ববি হাজ্জাজ। তবে যুগপৎ আন্দোলনের অন্য শরিক— আন্দালিব রহমান পার্থ, মাহমুদুর রহমান মান্না, **সাইফুল হক**সহ কয়েকজন নেতার জায়গা হয়নি।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাদ পড়া কিছু সিনিয়র নেতাকে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনার কৌশল রাজনৈতিক মহলে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।




