ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় জোনায়েদ সাকি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের ২২ দিনের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে মোট ৮৬ টি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয় । পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তাঁরা এই কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী।
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করেছে সরকার। এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বেশ কয়েকজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া নারীদের একজন ফাতেমা তুল জোহরা। উদ্বোধনের পর তিনি অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।
কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।
জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল,
জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মোঃ আব্দুর রউফ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক পিএসসি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. জিয়া উদ্দিন জিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, একে এম (ভিপি) মুসা প্রমুখ।




