বিএনপির স্থায়ী নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন,দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এখনই যদি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, ভবিষ্যতে এর ফল ভালো হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে তার পরিণতি “ভয়াবহ” হতে পারে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রোটোকল মেনে আমিই সবার আগে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবো—এটাই নিয়ম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু নেতা-কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
এর আগে রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনার পরপরই রাত ১টার দিকে শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রোটোকল ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুষ্পস্তবক ছেঁড়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।




