রমজান সামনে রেখে খেজুর বাজার জমজমাট

0
9

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের বাজার এখন জমজমাট। পাইকারি ও খুচরা বাজারের পাশাপাশি ফুটপাতে বসেছে খেজুরের মৌসুমি বাজার। দাম অনেকটা গত বছরের মতোই। ফলে বেচাকেনাও বেশ ভালো। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ পচা খেজুর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি খেজুর ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট-বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকায় বেড়েছে খেজুরের বেচাকেনা। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় আমদানিকারকদের বেশিরভাগ আড়ত অবস্থিত। তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন জাতের খেজুর পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এখানে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়ত এলাকায় প্রতি ৫ কেজি প্যাকেটের খেজুরের দাম ধরা হয়েছে মরিয়ম ভিআইপি ৫ হাজার টাকা, কালনি ২ হাজার ৯০০, ফরিদা ১ হাজার ৭৫০, সুক্কারি ১ হাজার ৮৫০, সুফরি ২ হাজার, ছড়া ২ হাজার ২০০, মেভজুল ৫ হাজার ৭০০, মিনিফি ১ হাজার ৮০০, রাবেয়া ২ হাজার ৫০, কালমী ২ হাজার ৬০০, খুরমা ১ হাজার, মরিয়ম জমজম ৪ হাজার ৭০০, মাসরুক ২ হাজার ৩০০, মেভজুল বড় ৭ হাজার ২০০, মেভজুল মাঝারি ৬ হাজার ১০০, মাবরুম ৫ হাজার, সুল্যাস ২ হাজার ৩০০, দুখানী মরিয়া ৪ হাজার এবং মালমী (ভিআইপি) ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, ৩ কেজি প্যাকেটের মধ্যে আজোয়া ২ হাজার ৭০০, কালমী ২ হাজার ২০০ এবং মাবরুম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১ কেজি প্যাকেটের ক্ষেত্রে মেভজুল বড় ১ হাজার ৫৫০, মেভজুল মাঝারি ১ হাজার ৪০০, মেভজুল ছোট ১ হাজার ৩০০ এবং মাবরুম মাঝারি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে এ দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি।
এদিকে খেজুর ব্যবসায় অসাধু উপায় অবলম্বনকারিদের নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরাসরি মেঝেতে পণ্য রাখা যাবে না; কাঠের তক্তা বা চাটাইয়ের ওপর রাখতে হবে এবং বস্তাবন্দি খেজুর স্বচ্ছ পিপি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যেন মশা-মাছি না বসে। মেয়াদোত্তীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাল্টা বা ম্যান্ডারিন বিক্রির আগে সমিতির পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং কোনোভাবেই খাদ্য-অযোগ্য পণ্য বাদামতলী মন্ডিতে বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া খেজুর পরিমাপের স্কেল বা পাল্লা পরীক্ষা করে ব্যবহার, মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং বিক্রির মেমো বা রশিদ কার্বন কপিসহ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনো সময় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর বা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ কারণে সব ব্যবসায়ীকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here