রোজায় লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার

0
6

পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্যের মজুত থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার। তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও তারা ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ছেন। এতে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারি সংস্থাগুলো। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম। এর পাশাপাশি সরকারি অন্য সংস্থাগুলোও বাজার তদারকি করবে।  এদিকে, রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার বিকেলে চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। সবাইকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজারে অভিযান পরিচালনা করবেন, তখন পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।  ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার। এদিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার কাওরান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিশেষত ইফতারের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ছোলা, চিনি, খেজুর, শসা, লেবু ও ডালের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্যাকেটজাত চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এক হালি করে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; বড় আকারের লেবুর দাম আরও বেশি। শসা কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা এবং বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলা ও রান্নার উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা নজমুল হোসেন বলেন, রমজানের জন্য বেশি দামে ডিম কিনেছি, তবে অতিরিক্ত মুনাফার আশা করছি না। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতার কারণে খুচরা দামে চাপ তৈরি হয়। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের কাঁচা বাজারে দেখা গেছে, লেবুর হালি ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, ধনে পাতা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আলু ২৫, টমেটো ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। আর আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে। কাঁচা বাজার ও ফুটপাতে লেবুর দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। কাঁচা বাজারে যেই লেবুর হালি ১০০ টাকা, ফুটপাতে তা ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার সিএমএম কোর্ট সংলগ্ন ফুটপাতে লেবু ৪০ টাকা হালি বিক্রি করছেন এক নারী। তিনি বলেন, কাওরান বাজার থেকে লেবু কিনে আনি। মাঝে-মধ্যে শ্যামবাজারেও যাই। মুনাফা করি কম। নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাম জানান, কয়েকটি সবজি ছাড়া তেমন কিছুর দাম বাড়েনি। তবে আশা করি, যেগুলোর দাম বেড়েছে, সেগুলোও কমে যাবে। রায়সাহেব বাজারে দেখা গেছে, কক মুরগি ৩৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৮০, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা খলিল বলেন, রোজার মাসে মুরগির দাম বেড়ে যায়। যে কক মুরগি ২৮০ টাকা করে বিক্রি করতাম তা এখন ৩৪০-৩৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের বেশি টাকায় কিনতে হয়, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করি। রায়সাহেব বাজারে মুরগি কিনতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, মুরগির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। মেসে থেকে পড়াশোনা করি। হিসাব করে চলতে হয়। এ জন্য দাম বেড়ে গেলে সমস্যায় পড়ি। রায়সাহেব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রায় সাহেব বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা জানান, দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে। রমজানের আগেও ১ হাজার ২০০ করে বিক্রি করতাম।
তবে বিভিন্ন বাজারে খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ করেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা জানান, রমজানের আগেও গরুর মাংস ৮৫০ করে বিক্রি করছি। এখন ৫০ টাকা কমে ৮০০ টাকায় দিতে পারছি। আমরা চাই কমেই বিক্রি করতে। কিন্তু মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে দাম বেড়ে গেলে কিছু করার থাকে না। কয়েকটি মাছের বাজারে দেখা গেছে, ছোট ইলিশ ৬৫০, মাঝারি ৮৫০ এবং বড় ইলিশ ১ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২২০ টাকা, ছোট রুই ২৮০ টাকা, বড় রুই ৩৫০ টাকা, ছোট পাঙাশ ২০০ টাকা, বড়টা ২৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমেছে ডিমের। ফার্মের লাল ডিমের হালি ৪০, সাদাটা ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে; যা অন্য সময় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। রমজানে প্রতিবছরই ডিমের দাম কম থাকে বলে জানান এই ডিম বিক্রেতা। ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, প্রায়ই রায়সাহেব বাজার থেকে ডিম কিনি। তবে আজকে দেখছি দাম কম।

কয়েকদিন আগেও একই ডিম হালিতে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছি। দাম কম থাকলে ভালো লাগে। এদিকে, দেশের বাজারে শুধু রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন। তাই রোজার চাহিদাকে সামনে রেখে প্রায় দুই মাস আগেই ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ মিলিয়ে এবার রোজার বাজারে ছোলার সরবরাহ ভালো। সরবরাহ বেশি থাকায় ছোলার দাম কম থাকবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রোজার বাজার ধরতে গত নভেম্বরে ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টন। গত বছর রোজার আগে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টন। সেই হিসাবে গতবারের তুলনায় ২২ শতাংশ বা ৩৬ হাজার টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে এবার।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ছোলার আমদানি হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই। সরবরাহ ভালো থাকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম। ডলার সংকট না থাকায় ছোলার আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। ক্রেতারাও বলছেন, এবার নির্বাচনের প্রভাবে বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। তবে আপাতত সেটি হয়নি। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন পুরোদমে চলছে রোজার পণ্যের বেচাকেনা। বাজারটি ঘুরে ও সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের এ সময়ে পাইকারিতে প্রতিকেজি ছোলার দাম ছিল ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। এবার সেই দাম ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে রয়েছে।

রোজার প্রথম সপ্তাহের পর দাম আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রমজানের প্রথমদিন রাজধানীর শাহজাদপুরে ইফতারের জন্য ফল কিনতে আসেন মহিউদ্দিন। দাম শুনে প্রথমে আঁতকে ওঠেন। পরে মাত্র দুটি মাল্টা, চারটি কমলা, চারটি আপেল ও অল্প কিছু আঙুর কিনেছেন তিনি। এতেই তার গুনতে হয়েছে ৭৯০ টাকা। আমদানি করা ফলের দাম গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বরই, পেঁপে, কলা ও পেয়ারার মতো দেশি ফলের দামও ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইফতারে বাচ্চারা ফল খেতে চায়। আগে অন্তত এক কেজি বা দুই কেজি করে কেনার সাহস করতাম। কিন্তু এখন যা দাম, তাতে খুচরা কয়েক পিস করে কিনতে হলো। দেশি ফলের দামও অনেক বেশি।

শাহজাদপুর, কাওরান বাজার ও ইস্কাটন ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে খেজুর, মাল্টা, আঙুর ও আপেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মাল্টা ও কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকায়। এছাড়া লাল আপেল ৩৬০-৪০০ টাকা, সবুজ আপেল ৪৩০-৪৫০ টাকা, সবুজ আঙ্গুর ৪৩০-৪৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা ও নাশপাতি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইফতারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দাম এভাবে বাড়ছে। ইস্কাটনের ফল বিক্রেতা রেজাউল করিম টিবিএসকে বলেন, ‘রোজার কারণে ফলের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। এবার দেশি ফলের দামও আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা জানান, পেয়ারা, বরই, তরমুজ ও পেঁপের দাম অনেকটা বেড়েছে। কলার দামও আকাশছোঁয়া। ফলে, অনেক ক্রেতাই বাধ্য হয়ে নিয়মিত কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম আরও বেশি হারে বাড়ছে। নি¤œ-আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় তুলনামূলক কম দামের ‘জাহিদি’ খেজুরের দাম মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে দাব্বাস, কালমি এবং মেদজুলের মতো আমদানি করা ও উন্নত মানের খেজুরের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।
মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতাকেও দায়ী করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, আমদানি করা ফল, বিশেষ করে দাব্বাস খেজুরের চালান বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এই সরবরাহ ঘাটতি ও রমজানের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘চাহিদা অনেক, কিন্তু সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের চাহিদার তুলনায় পণ্যের জোগান যখন অনেক কমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।’ বর্তমানে ফলের ওপর সামগ্রিক আমদানি শুল্কের হার প্রায় ৯০ শতাংশ, যা সরাসরি খুচরা বাজারে ফলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মাহবুব কবির মিলন এই ৯০ শতাংশ শুল্ককে ‘জনস্বাস্থ্যের অন্তরায়’ বলে অভিহিত করেছেন।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ॥ ফলের দাম পকেটে টান ফেললেও রমজানের প্রথম দিনে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবু মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই দাম এখনো বেশ চড়া। বিক্রেতারা বলেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম সামান্য কমেছে। কাওরান বাজার, শাহজাদপুর, বাড্ডা ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়, যা মাত্র দুদিন আগেও ১২০-১৪০ টাকা ছিল। অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে প্রতিকেজি শসা ১০০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৮০-১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও দেশি টমেটো ৪০-৬০ টাকা, ওলকপি ৫০-৮০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকায়, দেশি গাজর ৪০-৬০ টাকায়। ধরনভেদে শিমের দাম কেজিপ্রতি ৪০-৭০ টাকা। প্রতিটি ফুলকপি ৪৫-৫০ টাকা ও বাঁধাকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকায়।
লেবু-শশা-বেগুনে সেঞ্চুরি ॥ রোজা শুরুর আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল লেবু, শশা ও বেগুনের দাম। এসব পণ্যের দাম দুই থেকে পাঁচগুণ বেড়েছিল। বাজারে যেসব লেবু সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, সেই লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, রোজার মধ্যে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার তিন চারদিন আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। যা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের মতো শশার কেজিও উঠেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। যা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল।

সাইদুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মোকামগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।
এদিকে, রোজার মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে এ দুই পণ্যের দাম রোজার আগে নির্বাচনের সময় যানবাহন বন্ধ থাকার সময় থেকেই বেড়েছে। আবু আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, ইফতারের সময় বেগুন, লেবুর প্রয়োজন হয়। এ রকম কিছু কিছু পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি। ক্রেতাদের আশা, তদারকি সংস্থার অভিযান ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাজারে পণ্যের দামে ভোগান্তি আরও কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here