Home Blog Page 107

দালালের খপ্পরে লন্ডন যাওয়ার বদলে পথে পথে ৫৫ বছর

তরুণ বয়সে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন ইসাক মিয়া। স্বপ্ন পূরণে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। সিলেট গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁর আর বিদেশ যাওয়া হয়ে ওঠেনি। স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় বাড়িতেও ফেরা হয়নি। এরপর পথে পথে কেটে গেছে জীবন।

ইসাক মিয়ার বর্তমান বয়স ৮০ বছর ছুঁইছুঁই। জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধকে খুঁজে পেয়েছেন স্বজনরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সন্ধান পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে ছুটে আসেন ভাগনে ও ভাতিজা। দুপুরে ওই বৃদ্ধকে তাদের হাতে তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

ইসাক মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। মৃত সাদ মিয়ার সাত সন্তানের মধ্যে ইসাক সবার ছোট। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরপর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে জমি বিক্রি করে ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে রোগশোকে কাতর হয়ে সম্প্রতি কুমারখালী রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন। তাঁর অবস্থা দেখে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন স্থানীয়রা। এরপর একটি জাতীয় দৈনিকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওর সূত্রে তাঁর খোঁজ পান স্বজনরা। কুমারখালীতে আসেন ভাগনে বাচ্চু মিয়া (৬০) ও হাজী সাজাহান মিয়া (৬৫) এবং ভাতিজা তাহের মিয়া (৩৫)।
গতকাল কুমারখালী রেলস্টেশনে দেখা গেছে, বয়সের ভারে অনেকটা নুইয়ে পড়েছে ইসাকের শরীর। অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনও বসছেন চেয়ারে, কখনওবা মেঝেতে শুয়ে পড়ছেন। তাঁকে পেয়ে আবেগাপ্লুত স্বজনরা। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে ইসাক মিয়া বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার লাইগা জাগাজমি সব বেইচা দিয়া সিলেট গেছলাম। দালালে টেহা মাইরা দিছে। পাগলের মতো পথে পথে ঘুরছি। আজ ভাগনে নিতে আইছে। বাড়ি

যামু। ভাল লাগছে।’
তাঁর ভাগনে বাচ্চু মিয়া জানান, তাঁর মায়েরা সাত ভাই-বোন। তারা হলেন কালা মিয়া, ধলা মিয়া, ইসাক মিয়া, জজ বানু, কালেস্টার বানু, বালেস্টার বানু ও মালেস্টার বানু। তাঁর ছোট মামা ইসাক মিয়ার লন্ডনে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেজন্য সাত ভাই-বোন মিলে প্রায় ৫৫ বছর আগে দুই বিঘা জমি ও ৪০ শতাংশ বসতভিটা ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা নিয়ে মামা বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁর ভাষ্য, ইসাক মিয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো ভাই-বোন বেঁচে নেই।

আরেক ভাগনে সাজাহান মিয়ার ভাষ্য, সপ্তাহখানেক আগে অনলাইনে এক ভিডিওতে দেখা যায় কুমারখালী স্টেশনে তাঁর মামা ইসাক। তিনি গ্রামের নাম ও তাঁর বাবা-ভাইদের নাম বলছেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিক মনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে নিতে এসেছেন। তাঁর বাড়িতে কেউ নেই। তারাই তাঁর চিকিৎসা করাবেন এবং যতদিন বাঁচেন আদরযত্নে রাখবেন। ভাতিজা তাহের মিয়া বলেন, ‘বাবার মুখে চাচার অনেক গল্প শুনতাম। এত দিন পরে চাচাকে ফিরে পাব তা কল্পনাও করিনি। বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন।’
ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রায় ২৬ দিন আগে কুমারখালী স্টেশনের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন ইসাক মিয়া। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন মৃত। তবে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর  কথা বলা শুরু করেন।

সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় ইসাক মিয়া হারিয়েছেন অর্থ, পরিবার, এমনকি মানসিক ভারসাম্যও। তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্বজনরা নিতে এসেছেন।
স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার, থানার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কে এম শাহিন প্রমুখ।
ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, প্রায় ৫৫ বছর পথে পথে ঘুরে গণমাধ্যমের কল্যাণে ইসাক মিয়া বাড়িতে ফিরছেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকার কম কার্যকর রাসায়নিক প্রয়োগ মশকনিধনে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী নয় চসিক

মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে চট্টগ্রামের সিটি মেয়রসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফর আটকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য আমেরিকা না গিয়ে দেশের কোনো ডোবার পাশে বসলেই উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রথমে দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। মূলত, কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শন করতেই আমি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার জন্য সরকারি অনুমোদন চেয়েছিলাম। পরে অবশ্য তিনি এই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের এমন অবস্থান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সরব ছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দেশজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মশক নিধনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের গবেষণায় ‘দেশি ভেষজ প্রযুক্তি শতভাগ কার্যকর’ বলে মত এলেও রাসায়নিক প্রয়োগেই বেশি আগ্রহী চট্টগ্রাম সিটি। অথচ চসিকের গবেষণায়ও এসব রাসায়নিক কম কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও গত ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকার কম কার্যকর রাসায়নিক প্রয়োগ করেছে সংস্থাটি। যদিও মশক নিধনে এসবের কার্যকারিতা মাত্র ১৬-২৫ শতাংশ।

সর্বশেষ মার্কিন কোম্পানি ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি থেকে মশা নিধনে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার আধুনিক প্রযুক্তির কীটনাশক বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস কিনেছে চসিক। বর্তমানে এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখতে মার্কিন ওই কোম্পানির অর্থায়নে আমেরিকার ফ্লোরিডায় যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই বিদেশ সফর মানা করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সফরের সারসংক্ষেপে নির্দেশনা দিয়েছেন, মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন সমকালকে বলেন, যে কোম্পানির আমন্ত্রণে আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তাব এসেছে তাদের ওষুধ এরই মধ্যে ব্যবহার করেছি আমরা। মশক নিধন কার্যক্রম দেখা ও শেখার জন্য নয়, ওই কোম্পানির কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শন করার কথা ছিল আমাদের। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নথিতেও সেটা উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইলটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেশি প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ প্রয়োগ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো এখনও অনুমোদিত নয়।

মেয়রের বিবৃতি
গতকাল বিকেলে ডা. শাহাদাত হোসেনের ফেসবুক পেজে ‘ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে ?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বরাতে উল্লেখ করা হয়, স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে।

তবে গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে মেয়র উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সফর বিষয়ে তিনি কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দেননি। সফরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসম্পৃক্ততাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
এ বিষয়ে নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আর কোনো ওষুধ কোম্পানি যদি কারও ভ্রমণের ব্যবস্থা করে তাহলে সেখানে তাদের একটা আগ্রহ থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মশক নিধনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গবেষণা দরকার। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কোনো কীটতত্ত্ব বিভাগ নেই। তাদের উচিত কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করা। বারবার বিদেশে গিয়ে তো আর মশা নিধন শেখা সম্ভব না।

শতভাগ কার্যকর ঔষধি গাছের নির্যাস
২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়োগকৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণা চালায়। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন চবি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ওই সময় চসিক পূর্ণাঙ্গ মশক নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে লিকুইড এডালটিসাইড (ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন ও ডেল্টামোথ্রিনের মিঙার) কীটনাশক এবং মশার লার্ভা নিধনে স্প্রে করে ‘এম ফস ২০ ইসি (ক্লোরপাইরিফস)’ নামের লার্ভিসাইড ব্যবহার করত।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, আমরা চার বছর আগে ২৫০টি ঔষধি উদ্ভিদের নির্যাস নিয়ে গবেষণা করেছি। ১৫ ধরনের উদ্ভিদের নির্যাস পেয়েছি, যেগুলো ব্যবহারে পাঁচ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে লার্ভা মারা যাচ্ছে।

গবেষক শ্যামল চৌধুরী বলেন, আমার উদ্ভাবিত মসকুবার ভেষজ ওষুধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে মশক নিধনে শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের আমলে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ লিটার ওষুধ কেনা হলেও পরে চসিক আর আগ্রহ দেখায়নি।

সুপ্রিম কোর্টে মামলার জালিয়াতি রোধে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা

উচ্চ আদালতে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও মামলার নোটিশ সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত  বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোটিশ প্রদানের বিদ্যমান পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্লার্ক ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর আদালতে কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে উল্লেখিত টেন্ডার নম্বরের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে একই আদালতে তালিকাভুক্ত আরও বেশ কয়েকটি মামলায় একই ধরনের গরমিল পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী ও নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীর মধ্যে অমিলও পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হলো— ১. মূল পিটিশনের সনাক্তকারী আইনজীবী ও নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবী একই ব্যক্তি হতে হবে। ২. এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে নোটিশ জারি করতে হবে। ৩.  জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত থাকতে হবে। ৪. এফিডেভিট সম্পন্নের পর মূল আবেদনপত্রের ফটোকপি ও ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠার অনুলিপি জমা দিতে হবে। ৫. কোনো মামলা এক আদালত থেকে অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত হলে নতুন নোটিশের সঙ্গে পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা নোটিশের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

বিচারিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এসব নির্দেশনা কার্যকর করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে মানুষ

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল গত এপ্রিলে। সেই ধাক্কায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ। এর মধ্যেই জুনে আবার বাড়ল অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আজ বুধবার বিদ্যুতের নতুন দরের ঘোষণা আসছে, যা চলতি জুন থেকেই কার্যকর হতে পারে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের বাস্তবতা দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের  জীবনে।

সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুতের দর বাড়ার পেছনে রয়েছে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আর্থিক চাপ।

তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কিছুটা কমলেও এর প্রধান ভার বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অনিয়মের কারণে সৃষ্ট ঘাটতির বোঝা জনগণের ওপর চাপানো উচিত নয়। ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে অপচয় ও অদক্ষতা দূর করার পরই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত সোমবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলে সেই সুবিধাও দ্রুত ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

গত এপ্রিলে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বাড়ে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকে। তবে জুনের জন্য ১২ কেজিতে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম এক হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়েছে।
এপ্রিলে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। তখন অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুনে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি হয়েছে। আজ নতুন দর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। কত শতাংশ বাড়বে– সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে সূত্র জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১.৫০ টাকা (২১ শতাংশ) করার আবেদন করে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেসকো ৯.৬৭ শতাংশ, ডিপিডিসি ৬.৯৬ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০ শতাংশ, আরইবি ৫.৯৩ শতাংশ, নেসকো ইউনিটপ্রতি ৩ পয়সা এবং পিডিবি ২৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানায়।

রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, সব কিছুর দাম বাড়ছে, তবে সেভাবে আয় বাড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়াতেই হয়, তাহলে যাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়? সব দায় কি সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে?

পুরানা পল্টনের হকার রফিকুল ইসলাম বলেন, এলপিজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মাস চলতে হিমশিম খেতে হয়। এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এভাবে কী জীবন চলে?
ঢাকার গোপীবাগের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, জ্বালানি তেল আর গ্যাসের দাম বাড়ার পর সংসারের খরচও বেড়ে গেছে। বাজারে গেলে এখন আর আগের মতো তালিকা ধরে কেনাকাটা করা যায় না। এক কেজি চাল, তেল, সবজিতেই হিসাব করতে হয়।

রাইড শেয়ারিং চালক সুমন মিয়া বলেন, অকটেনের দাম বেড়েই চলছে। যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চান না। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। আগে দিনে কিছুটা সঞ্চয় থাকত, এখন সেটা আর হয় না।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঈদের আগে সমকালকে বলেছিলেন, রপ্তানি খাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ব্যয় চাপের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

ক্যাবের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের আগে এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করে। কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও সেবা– সব খাতে ব্যয় বাড়ে, যার ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, দাম নয়। উৎপাদন খরচ বাড়লে রপ্তানি খাতও চাপে পড়বে।

দুই মাসে তিন গুণ মেঘনা পেটের শেয়ারদর

অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কোম্পানির শেয়ারদর। গত এপ্রিলের শুরুতেও বন্ধ এই কোম্পানির শেয়ার ২৬ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে এ শেয়ার সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ৮২ টাকা ৯০ পয়সায়। এই দর শেয়ারটির এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দু্ই মাসেরও কম সময়ে এই কোম্পানির শেয়ারের দর তিন গুণ হয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই হয়েছে দ্বিগুণ। অথচ তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ। ১২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির অর্ধেকের বেশি শেয়ার ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীর হাতে।

অস্বাভাবিক এ দর বাড়ার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকেও স্টক এক্সচেঞ্জকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, কারসাজি ছাড়া এ শেয়ারের দর এতটা বাড়ে না। কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। প্রায় প্রতিবছর শেয়ারটি নিয়ে একাধিক দফায় কারসাজি করে দর বাড়িয়ে মুনাফা করছে একাধিক চক্র। এ নিয়ে বহু তদন্ত হয়েছে, কারসাজি থামছে না।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ারের দর যতটা বাড়বে বা কমতে পারে (শেয়ারদরে সার্কিট ব্রেকার), সে হিসাবে গতকালসহ ঈদের ছুটির পর দুই দিনে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে শেয়ারটির দর দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (৮২ টাকা ৯০ পয়সায়) উঠে যায়। তা সত্ত্বেও পৌনে তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
শুধু মেঘনা পেট নয়, গত কয়েক মাস ধরে একই ব্যবসায়ী গ্রুপের মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক নামে কোম্পানিটিরও শেয়ারদর বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষে এ কোম্পানির শেয়ারদর ২৪ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। কয়েক দফায় বেড়ে এ শেয়ারটি ৪৬ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দিতে বিশেষ নির্দেশনা

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলােকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে– সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিজনিত ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী স্মার্ট কার্ডধারী কৃষক এবং ১০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা এ ঋণের আওতায় আসবেন।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্মার্ট কার্ড থাকুক বা না থাকুক, হাওরাঞ্চল বা দেশের অন্যত্র যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক কোনোভাবেই ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

এবারের দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলায় ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে হাওর এলাকায় এক লাখ ১২ হাজারেরও বেশি কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নেত্রকোনাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার, কিশোরগঞ্জে ৫২ হাজার ৫০০ এবং সুনামগঞ্জে ৬০ হাজারের বেশি কৃষি পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাতটি হাওর অধ্যুষিত জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা মোট আবাদি জমির ১০ শতাংশের বেশি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ ধান নষ্ট হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

সার্কুলার জারি স্মার্ট কার্ডধারী কৃষকরা ঋণে অগ্রাধিকার পাবেন

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরও পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দ্রুত ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট থেকে থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রণীত ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ১০ টাকার হিসাব খোলা এবং ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্ড না থাকা প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি গ্রীষ্মকালীন অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে হাওর এলাকায় পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে কৃষক স্মার্ট কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইতালি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের কালাব্রিয়া অঞ্চলের উপকূলের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের কাছে গতকাল সোমবার গভীর রাতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার (১৫৩ মাইল) গভীরে। এটি কালাব্রিয়া অঞ্চলের কোসেনজা শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার (২৩ মাইল) দূরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ফক্স ওয়েদারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইতালির বাসিন্দারা এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন।

ইউএসজিএস জানায়, ইতালির সারাসেনা শহরের প্রায় ১০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ১২টা ১২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৫৩ মাইলের বেশি এবং এটি কালাব্রিয়ার কোসেনজা শহর থেকে প্রায় ২৩ মাইল দূরে ছিল।

‘আমার বউ সব জানে’

সাজ্জাদ-খুশবুর সংসারের বয়স ৮ মাস। সাজ্জাদ চাকরি করে আর খুশবু ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে মুঠোফোনে দুজনের কথা হয়। ইদানিং সাজ্জাদ সম্পর্কে খুশবুর কানে কিছু উড়ো খবর আসে। নীচতলার ভাবি নাকি সাজ্জাদকে কোন মেয়ের সাথে ঘুরতে দেখেছে। ভাবীর কথায় মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে খুশবুর।

সাজ্জাদ অফিস থেকে ফিরতেই শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এর কিছুদিন যেতে না যেতই খুশবুর এক বান্ধবী জানায়, খুশবু আর সাজ্জাদকে নাকি গতকাল সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে দেখেছে সে। খুশবু ভাবে, সে তো ছিলো না, তাহলে মেয়েটি কে। আবার কথা কাটাকাটি।

একদিন খুশবুকে নিয়ে শপিংয়ে বের হয় সাজ্জাদ। মার্কেটে সাজ্জাদের প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হয়। সাজ্জাদ স্ত্রীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকার পরিচয় করিয়ে দেয়। এবার খুশবুর সন্দেহ বিশ্বাসে রূপ নেয়। আবার ঝগড়াঝাটি, এবার খুশবু ব্যাগ গুছিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। বলে যায়, আর ফিরবেনা। এমনই গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের বিশেষ নাটক ‘আমার বউ সব জানে’।

মারুফ হোসেন সজীবের পরিচালনায় নাটকের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও আনিকা আইরা। নাটকটি প্রচার হবে আগামীকাল বুধবার রাত ১০টায় দীপ্ত টিভিতে।

সরকারের বিরুদ্ধে এখনও চক্রান্তের জাল বিস্তার করার চেষ্টা চলছে: রিজভী

সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে এখনও চক্রান্তের এক বিরাট জাল বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুধু নয়, মব কালচার তৈরি করা হচ্ছে।

সোমবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা ভ্যান অটোচালক দল।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সেটা হচ্ছে কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার না। বিএনপি বেকার তৈরি করেনি, বিএনপি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এই যে আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটির উপরে লোক সেখানে কাজ করে, এই কোটির উপর লোকের কর্মসংস্থানের মূল নায়ক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই থেকে শুরু হয়েছে বিদেশী কর্মসংস্থান।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের এই দেশে কেউ বেকার থাকবে না। নানা সেক্টরে নানা উদ্যোগে চাকরি ব্যবস্থা করা হবে। হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদেরকে পুনবাসন করা হবে। কারণ তাদের সন্তান ও পরিবারকে দেখার দায়িত্ব সরকারের।

আওয়ামী লীগের ৭২ থেকে ৭৫- শাসন আমলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ মুজিবের শাসন আমলে রংপুর-কুড়িগ্রাম অঞ্চলে শাড়ি না পেয়ে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জা নিবারণ করেছে বাসন্তী। বাসন্তীর ছবি উঠেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তার মানে কাপড় নেই, খাওয়া নেই, জীবনযাপনের কোনো ঠাঁই নেই—এই পরিস্থিতি ছিল ৭২ থেকে ৭৫-এ। তাঁর সাড়ে তিন বছর যেভাবে বাংলাদেশে দুঃশাসন চালিয়ে, অপশাসন চালিয়ে গোটা জাতিকে কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার প্রভুদের কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, জনগণের টাকা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে টাকা পাচার করেছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ১৬ বছরে শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা, তার আত্মীয়-স্বজনরা, তার দলের লোকরা পাচার করেছে।

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলে ‘ আমরা ওদের (আওয়ামী লীগ) সব ক্ষমা করে দিব। ক্ষমা করলে কি আপনাদের বাঁচাবে? আপনারা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আন্দোলন করেছিলেন তাদের সাথে ৯৪, ৯৫, ৯৬-এ, তার পরিণতি কি হয়েছে? তার পরিণতি হয়েছে আপনাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে। এই গায়ে পড়ে পিরিত করার পরিণাম কত ভয়াবহ হয়েছে?

মব কালচারকে ভয়ঙ্কর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আজকে যদি কোনো ছিদ্রপথে পুরনো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে আপনারা কিন্তু কেউ রক্ষা পাবেন না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব তো যাবেই, গণতন্ত্র তো গোরস্তানে চলে যাবে। তারপরের কি ভয়াবহ পরিণতি হয়, সেটা আপনারা টের পাবেন। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়া সবচাইতে ভালো।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো আধিপত্য শক্তির কাছে মাথানত করেনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুষার পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।