Home Blog Page 107

‘কত স্বপ্ন ছিল, আজ বুকের ধনের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি’ বুলেট হত্যাকাণ্ড তদন্তে মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, সিআইডি, পিবিআই

চট্টগ্রাম থেকে গভীর রাতে কুমিল্লা নগরীতে ফিরে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি। তবে পুলিশ বলেছে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য  সংস্থা। শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী। আজ রোববার দুপুরে সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআই কুমিল্লার এক পরিদর্শক সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির মোবাইল, ভিসা কার্ড ও মোবাইল বিকাশসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে।

এদিকে আজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের পার্ক রোডের কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয়। এ সময় বুলেট বৈরাগীর বাবা-মা ও স্ত্রী উর্মী হিরার আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। অফিসের সহকর্মীরা তাদেরকে সান্ত্বনা দেন। পরে কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদারসহ অন্যরা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কাস্টমস কমিশনার বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা পুলিশের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের সহকর্মীর এ অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মামত। কাস্টমস বিভাগ সব সময় বুলেটের পরিবারের পাশে থাকবে।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বুলেট বৈরাগীর বাবা সুশীল বৈরাগী। তিনি বলেন, ‘কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটাকে নিয়ে। তার জন্য কুমিল্লার ভাড়া বাসা নিয়ে থাকলাম। আর আজ বুকের ধনের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়ায় বুলেট বৈরাগীর শেষকৃত্য হবে বলেও জানান তিনি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তফা রোববার সমকালকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  শনিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট সম্মিলিতভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। আশা করি দ্রুত রহস্য বের করা সম্ভব হবে।

গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার হয় বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ। তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ভুইয়া হেরিটেজ নামে ভাড়া বাসায়। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার মেয়ে উর্মির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ৯ মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল বিভাগীয় প্রশিক্ষণ নিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে উঠেন। তার কুমিল্লার বাসায় ফেরার কথা ছিল। যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়।

নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী সমকালকে জানান, বুলেট তার একমাত্র ছেলে। ওই রাতে সর্বশেষ ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছে। পরে রাত আড়াইটার পর তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তার মরদেহ পাওয়ার খবর আসে।

চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণকে বেঁধে নির্যাতন

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মোবাইল ফোনে ডেকে এনে হৃদয় হাওলাদার (২৩) নামের এক তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে রোববার সকালে উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাঁকে উদ্ধারে যাওয়া বাবাকেও এ সময় পেটানো হয়।

হৃদয় দক্ষিণ কৈখালীর মো. আবদুল বারেক হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এতে বলা হয়, একই গ্রামের পারভেজ ও সাব্বিরের সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয় ও টাকা লেনদেন নিয়ে হৃদয়ের দ্বন্দ্ব চলছিলো। দুইদিন আগে হৃদয় পাশের বীনাপানি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে যান। রোববার সকালে পারভেজ তাঁকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে আনেন। হৃদয় নিজ বাড়িতে আসার পথে পারভেজ, সাব্বির, মিজান, প্রিন্স ও মেহেদী তাঁকে রশি দিয়ে গাছে বেঁধে ফেলে। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে আবদুল বারেক হাওলাদার ছেলে হৃদয়কে উদ্ধার করতে যান। এ সময় তাঁকেও মারধর করা হয়। লিখিত অভিযোগে হৃদয় দাবি করেন, মারধরকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এমনকি দুই লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেন পারভেজ ও তাঁর লোকজন।

বারেক হাওলাদারের ভাষ্য, পারভেজের কাছে তাঁর ছেলে হৃদয় ২০ হাজার টাকা পাবে। এ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে হৃদয়কে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন পারভেজ। তাঁর অভিযোগ, হৃদয় এলাকায় চোর হিসেবে পরিচিত। সুপারি ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, এ বিষয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ’ শেষে পাকিস্তানে ফিরবেন ইরানের প্রতিনিধিরা

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের নৈশভোজের আয়োজন যে হোটেলে করা হয়েছিল সেটি ওয়াশিংটন ডিসিতে। হোটেলের ভেতরের একটি বলরুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেলে বন্দুক কীভাবে ঢুকল- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপস্থিত থাকা অতিথিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বলরুমের বাইরে একটি মেটাল ডিটেক্টর বসানো ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ পথ বা এর আগে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি বলরুমের একেবারে বাইরে ছিল। মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, ‘ওই চেকপয়েন্ট সক্রিয় থাকায় কেউ আহত হননি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরে তিনিই বলেন, ‘বন্দুকধারী বলরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। সেটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল।’

টেলটিতে বন্দুকধারী বন্দুক নিয়ে কীভাবে ঢুকেছিলেন সেটির প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফ ক্যারল। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দুকধারী কীভাবে হোটেলে ঢুকলেন এবং সেখানে (বলরুমের কাছে) পৌঁছালেন, তা বোঝার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের অতিথি ছিলেন। তবে কখন চেক-ইন করেছিলেন বা তাঁর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে ক্যারল বিস্তারিত জানাননি। তিনি উল্লেখ করেন, নৈশভোজের জন্য নির্ধারিত বলরুমের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর কাছে থেকে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

বলরুমে কী হয়েছিল?
এএফপির সাংবাদিক ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের বার্ষিক এই নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যের পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তা টিম মঞ্চে অবস্থান নেয়। মঞ্চে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বসেছিলেন। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন।

আতঙ্কে বলরুম ছেড়ে যান অতিথিরা। ছবি: এএফপি

আতঙ্কে বলরুম ছেড়ে যান অতিথিরা। ছবি: এএফপি

বলরুমে উপস্থিত কয়েক’শ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হলে তারা হোটেলের লবিতে এবং সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অনুষ্ঠানের অতিথি আহত হননি।

গুলির ঘটনা যেভাবে ঘটল
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে একজন বন্দুকধারী বলরুমের ঠিক বাইরে হোটেলের লবিতে থাকা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে যান। তিনি জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি চেকপয়েন্টে হামলা চালাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির পর তাঁকে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে তোলা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকা এই ব্যক্তিই ঘটনার একমাত্র সন্দেহভাজন।

বন্দুকধারী গুলি করার পর সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। ছবি: এএফপি

বন্দুকধারী গুলি করার পর সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। ছবি: এএফপি

মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্বিতীয়টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে?
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, হোটেলের লবির কার্পেটে খালি গায়ে উপুড় হয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তাঁর হাত পেছনে বাঁধা। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরান্স শহরের বাসিন্দা।

সন্দেহভাজনের ছবি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সন্দেহভাজনের ছবি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাতেই এফবিআই এজেন্টদের টরান্সের একটি বাড়ির বাইরে দেখা গেছে। লিংকডইনে ‘কোল অ্যালেন’ নামে একটি প্রোফাইলে এমন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে, তাঁর চেহারা ট্রাম্পের পোস্ট করা ব্যক্তির মতোই।

লিংকডইনের অ্যাকাউন্টধারী কোল অ্যালেনের পরিচয় হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, কোল অ্যালেন নামে একজন ২০১৭ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

এক্সপ্লেইনার ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে বন্দুকধারী কীভাবে ঢুকেছিলেন, বলরুমে কী ঘটেছিল

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের নৈশভোজের আয়োজন যে হোটেলে করা হয়েছিল সেটি ওয়াশিংটন ডিসিতে। হোটেলের ভেতরের একটি বলরুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেলে বন্দুক কীভাবে ঢুকল- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপস্থিত থাকা অতিথিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বলরুমের বাইরে একটি মেটাল ডিটেক্টর বসানো ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ পথ বা এর আগে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি বলরুমের একেবারে বাইরে ছিল। মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, ‘ওই চেকপয়েন্ট সক্রিয় থাকায় কেউ আহত হননি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরে তিনিই বলেন, ‘বন্দুকধারী বলরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। সেটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল।’

হোটেলটিতে বন্দুকধারী বন্দুক নিয়ে কীভাবে ঢুকেছিলেন সেটির প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফ ক্যারল। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দুকধারী কীভাবে হোটেলে ঢুকলেন এবং সেখানে (বলরুমের কাছে) পৌঁছালেন, তা বোঝার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের অতিথি ছিলেন। তবে কখন চেক-ইন করেছিলেন বা তাঁর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে ক্যারল বিস্তারিত জানাননি। তিনি উল্লেখ করেন, নৈশভোজের জন্য নির্ধারিত বলরুমের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর কাছে থেকে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

বলরুমে কী হয়েছিল?
এএফপির সাংবাদিক ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের বার্ষিক এই নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যের পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তা টিম মঞ্চে অবস্থান নেয়। মঞ্চে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বসেছিলেন। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন।

বলরুমে উপস্থিত কয়েক’শ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হলে তারা হোটেলের লবিতে এবং সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অনুষ্ঠানের অতিথি আহত হননি।

গুলির ঘটনা যেভাবে ঘটল
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে একজন বন্দুকধারী বলরুমের ঠিক বাইরে হোটেলের লবিতে থাকা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে যান। তিনি জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি চেকপয়েন্টে হামলা চালাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির পর তাঁকে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে তোলা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকা এই ব্যক্তিই ঘটনার একমাত্র সন্দেহভাজন।

মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্বিতীয়টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে?
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, হোটেলের লবির কার্পেটে খালি গায়ে উপুড় হয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তাঁর হাত পেছনে বাঁধা। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরান্স শহরের বাসিন্দা।

এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাতেই এফবিআই এজেন্টদের টরান্সের একটি বাড়ির বাইরে দেখা গেছে। লিংকডইনে ‘কোল অ্যালেন’ নামে একটি প্রোফাইলে এমন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে, তাঁর চেহারা ট্রাম্পের পোস্ট করা ব্যক্তির মতোই।

লিংকডইনের অ্যাকাউন্টধারী কোল অ্যালেনের পরিচয় হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, কোল অ্যালেন নামে একজন ২০১৭ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

মাত্র দুই মাসে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি সরকার মাত্র দুই মাসেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিরোধীদলীয় চিফহুইপ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হয়েছে, নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাসে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকারের। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  সমাবেশেটির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বীক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

অলি আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হোন।

মামুনুল হক বলেন, বিএনপি গণভোট তলে তলে ‘না’ এর পক্ষে প্রচার করেছিল। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের।

এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের উদ্বেগ, সরকারের দাবি গুজব বিভিন্ন স্থান থেকে চারজন গ্রেপ্তার

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেছেন, আজ রোববার অনুষ্ঠেয় ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো এটিকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ ও ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করেছে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য ও হতাশা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) তাদের গ্রেপ্তার করে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফটোকপি দোকানের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের নামে কিছু সেট ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক সমকালকে জানান, কয়েকজন ছাত্রী তাঁর কাছে একটি প্রশ্নপত্র নিয়ে এসে তা সমাধান করে দিতে অনুরোধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং কোনো ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষার্থীদের দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

সিদ্ধেশ্বরী এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার আগের দিনও তারা ফেসবুকে একই ধরনের কিছু প্রশ্ন পেয়েছিল। শুরুতে সেগুলোকে সাধারণ সাজেশন বলে মনে হলেও পরে পরীক্ষার হলে গিয়ে অনেক প্রশ্নের সঙ্গে মিল খুঁজে পায় বলে দাবি করে তারা। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রের কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, সামাজিক মাধ্যমে তারা জেনেছে দিনাজপুর অঞ্চল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যদিও এ তথ্যের সত্যতা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি, তবু এমন গুঞ্জন তাদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে। অনেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতির বদলে অনলাইনে কথিত প্রশ্ন খোঁজার দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলেও স্বীকার করেছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহা: তৌহিদুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি‌। এটি শুধুই গুজব।’

গতকাল দুপুরে ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলছেন, বারবার এমন অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

চারজন গ্রেপ্তার
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিফাত আহমেদ সজিব, মেজবাউল আলম, মোহাম্মদ সালমান ও মহিউজ্জামান মুন্না।

তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি এনসিপির
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে: অ্যাটর্নি জেনারেল

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে তিনি এ তথ্য জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও কিছুদিন প্রয়োজন। পরে আদালত তদন্ত শেষ করার জন্য আরও ৬ মাস সময় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাস সময় দেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র‍্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে সাংবাদিক সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাবকে সরিয়ে দিতে সম্পূরক আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়।২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলায় মোহাম্মদ শিশির মনিরকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় খুন হন।

লক্ষ্মীপুরে মাটির নিচে ‌‘রহস্যময়’ সুড়ঙ্গ, ভেতরে মিলেছে বিছানা-বালিশ

লক্ষ্মীপুরে এক বাগানের নিচে মিলেছে ‘গোপন ও রহস্যময়’ এক সুড়ঙ্গ। বাইরে থেকে ডালপালা দিয়ে ঢাকা থাকলেও ভেতরে ছিল ওঠানামার সিঁড়ি এবং বসবাসের জন্য বিছানা-বালিশের ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে এটিকে মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের একটি বাগানে এ সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র কৌতূহল ও আতঙ্ক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সুড়ঙ্গটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ভেতরে ৩-৪ জন অনায়াসে অবস্থান করতে পারতেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি ছিল মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা। রাতের অন্ধকারে এখানে চলত গোপন সভা।

একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুড়ঙ্গের ভেতরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যায় এবং সেখানে সাজানো রয়েছে বিছানা-বালিশ, যা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন সাহা নামের এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেন। নিয়মিত সেখানে বসে মাদক সেবন করতেন বলেও দাবি তাদের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন সাহার স্ত্রী ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তার দাবি, সুড়ঙ্গটি তার স্বামী তৈরি করলেও সেখানে মাদক সেবন হতো কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন।

দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, মাদক সেবনের সুবিধার জন্যই সুড়ঙ্গটি তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মাদক-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করেন না বলে মন্তব্য করেছেন  বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তাদের (জামায়াতে ইসলামী) যে অতীত, সে ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করা যায়; সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের সঙ্গে যৌথ সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা কখনোই সুস্থ চিন্তা করেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী আমির বলছেন, ‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে।’ আমি এটা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি (জামায়াত আমির) বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তার কথায় প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সব পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান, পত্রপত্রিকা, মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে-এই নির্বাচনটি কালের অর্থাৎ, বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়; নিন্দা জানাচ্ছি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপরে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধুমজাল সৃষ্টি করা, আবার একটা বিভেদ সৃষ্টি করা। আমরা ৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট, সুযোগকে নষ্ট করা এবং আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা (জামায়াত) করছে কিনা সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।

মহান মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভাটিকে সফল করার জন্যে আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।

মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে, তারা মহান মে দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করবেন, প্রত্যেকটি ইউনিটের আমাদের জেলা এবং উপজেলা ইউনিটগুলোতে একইভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাও সেইভাবে দিবসটি পালন করবেন। আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটা উৎসবের দিন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করবার দিন হিসেবে আমরা এটাকে নিতে চাই। যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরও বেগমান করতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা সবসময় লক্ষ্য করেছেন, আমরা এর আগেও বলেছি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে… সে নির্বাচনের আগে থেকেই। তখনও আপনার অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফ্যাক ইনফরমেশন, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এসএম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ,সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ম্যাচ চলাকালে মারা গেলেন নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার

ফুটবল মাঠে ফের নেমে এলো বিষাদের ছায়া। একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠেই মারা গেলেন নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার মাইকেল এনেরামো। শুক্রবার নাইজেরিয়ার কাদুনায় অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

এনএফএফ জানায়, কাদুনায় প্রীতি ম্যাচটি চলাকালে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান ৪০ বছর বয়সী এনেরামো। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাঠে উপস্থিতরা তাৎক্ষণিক সহায়তার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

শারীরিক শক্তি এবং আগ্রাসী ফুটবল শৈলীর জন্য ফুটবল ভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। তিউনিশিয়ার ক্লাব ‘এস্পেরান্স স্পোর্টিভ দে তিউনিস’-এর সমর্থকরা ভালোবেসে তাকে ‘ট্যাংক’ বলে ডাকতেন। তার নৈপুণ্যে ক্লাবটি বেশ কয়েকটি শিরোপা জয় করে। এ ছাড়া তুরস্কের বিভিন্ন ক্লাবেও সফলতার সঙ্গে খেলেছেন তিনি। নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এনেরামো। ২০০৯ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার।

এনেরামোর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে নাইজেরিয়ার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এনএফএফ-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি এক শোকবার্তায় বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং হৃদয়বিদারক। এই মুহূর্তে শোক প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। আমি শুধু প্রার্থনা করি ঈশ্বর তাকে চিরশান্তি দান করুন এবং তার পরিবার ও নাইজেরিয়ার ফুটবল পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন।’