Home Blog Page 11

দু’দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী

বাংলাদেশ সরকারের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ এল-খেরেজি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সৌদি উপমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ত্যাগ করার আগে এই সংক্ষিপ্ত সফরে সৌদি উপমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে অংশ নেবেন সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী। পরে দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

শ্রম অভিবাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকার পটভূমিতে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণের পথনকশা তৈরি, ১৪ সূচকে নজরদারি

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে টেকসই, মসৃণ ও স্থিতিশীল উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে সরকার ২০২৬ থেকে ২০২৯ সময়ের জন্য একটি জাতীয় রোডম্যাপ বা পথনকশার খসড়া তৈরি করেছে। উত্তরণ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অধীনে একটি ড্যাশবোর্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অর্থনীতি ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত ১৪টি প্রধান কর্মক্ষমতা সূচক (কেপিআই) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ৯ শতাংশে উন্নীত করা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে অন্তত ছয় মাসের সমপরিমাণে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে নেওয়া, তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানির অংশ অন্তত ২৫ শতাংশে উন্নীত করা, কনটেইনার খালাসের গড় সময় ১০ দিন থেকে কমিয়ে ১-২ দিনে নামিয়ে আনা এবং সব সরকারি ব্যবসায়িক সেবা শতভাগ ডিজিটাল ও সমন্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩০ লাখ অতিরিক্ত দক্ষ শ্রমিক তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, ব্যবসা অনুমোদনের সময় কমানো, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি, সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইএসজি বা পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন মানদণ্ড অনুসরণকারী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও নজর রাখা হবে।
সরকারের মতে, উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন কোনোভাবেই উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করা। এ কারণে রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উৎপাদনশীলতা ও শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন ও বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা
বাংলাদেশ এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানায়। গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেন। পরে সিডিপি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন নীতিগতভাবে সমর্থন করলেও সময়সীমা উল্লেখ করেনি। একইভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে।
এ অবস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ থেকে ১৮ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তর সফর করে। সফরকালে প্রতিনিধি দল সিডিপির চেয়ারম্যান, ইকোসকের সভাপতি ও সহসভাপতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এবং জি-৭৭ ও চায়না গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির লক্ষ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় নিশ্চিত করা। বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারও বাংলাদেশকে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়ভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ উপস্থাপনের পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি  রোডম্যাপের খসড়া প্রস্তুত করেছে।
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি তদারকির জন্য সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত সপ্তাহের বৈঠকে অংশীজনের মতামত নিয়ে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে জাতিসংঘ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

চার ধাপে সংস্কার কর্মসূচি
তিন বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ‘কুইক উইন অ্যাকশন’ জুন ২০২৭-এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় খেলাপি ঋণ আদায়ের কাঠামো তৈরি, ব্যাংকের চাপ সহনশীলতা পরীক্ষা, সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান, ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করা এবং জাতীয় ইএসজি কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের কাজ শেষ হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের মধ্যে এনবিআরের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর জাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চালু, অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি, টেকনোলজি মডার্নাইজেশন ফান্ড গঠন এবং এপিআই পার্ক কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত ওষুধ, আইসিটি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও চামড়া শিল্পে বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বন্দর দক্ষতা বাড়িয়ে কনটেইনার খালাসের সময় দুই দিনের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ ধাপে ২০২৯ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে উত্তরণের আগে সামগ্রিক অগ্রগতি মূল্যায়ন, বাকি সংস্কার সম্পন্ন এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বেসরকারি খাতের জন্য ১৫ কর্মপরিকল্পনা
পুরো উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে প্রধান বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে ১৫টি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিল্পে অটোমেশন, ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রযুক্তি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে রপ্তানি ভ্যালু চেইনে যুক্ত করতে প্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র গঠন। এ ছাড়া রয়েছে বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ইএসজি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা; আইএলওর শ্রমমান, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও জেন্ডার সমতা বাস্তবায়ন; শিক্ষানবিশ, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি; এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক শিল্প কারিকুলাম চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশ; উচ্চমূল্যের পণ্য, নিজস্ব ব্র্যান্ড ও উন্নত প্যাকেজিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া; উৎপাদনশীলতা ও জ্বালানি দক্ষতার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ; ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ইনভেন্টরি ব্যবস্থা চালু; কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজ বিনিয়োগ বাড়ানো মতো পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য রয়েছে। এ ছাড়া  নীতিগত সংস্কারে সরকারকে প্রমাণভিত্তিক মতামত প্রদান; শিল্প পার্ক, লজিস্টিক হাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কোল্ড-চেইনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ২০২৯ সালের শেষে চূড়ান্ত সক্ষমতা মূল্যায়ন করে উত্তরণ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নে সরকারকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ইআরডি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় এলডিসি মনিটরিং অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন কমিটি’ পুরো রোডম্যাপ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেবে। এ ছাড়া ‘পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টর টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হবে, যা নীতিমালার বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে আইনি সংস্কারের সুপারিশ করবে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার সমকালকে বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাণিজ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অগ্রগতি খুবই সীমিত। অথচ উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। সে বাস্তবতায় টিকে থাকতে বাণিজ্য ও শুল্ক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, উত্তরণের জন্য দুই বছর হোক বা তিন বছর— যে অতিরিক্ত সময়ই বাংলাদেশ পাবে, প্রস্তুতি জোরদারের জন্য তা হবে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সময়কে কাজে লাগাতে সরকারের উচিত দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা, সুনির্দিষ্ট ও মনিটরিংযোগ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা এবং এর অগ্রগতি দৃশ্যমান করা। এতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সিনেমার ব্যস্ততার মাঝে ছোটপর্দায় ফিরছেন ইধিকা

ছোটপর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইধিকা পাল। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর দুই বাংলায় একের পর এক সিনেমায় কাজ করছেন তিনি। সিনেমার ব্যস্ততার মাঝে ছোটপর্দায় ফিরছেন এই অভিনেত্রী। আসছে মহালয়ায় একটি টিভি চ্যানেলে দুর্গারূপে দেখা মিলতে যাচ্ছে ইধিকার।

আনন্দবাজার, এই সময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমা মুক্তির পর বড়পর্দায় আর দেখা মেলেনি ইধিকা পালের। সম্প্রতি সৃজিত মুখার্জির নতুন সিনেমায় কাজ শুরু করেছেন। এর বাইরে আর কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হননি। যে কারণে হাতে অনেকটা সময় আছে, যেটি কাজে লাগাতে পুনরায় ছোটপর্দায় ফেরার কথা ভাবছেন অভিনেত্রী।

জানা গেছে, মহালয়ায় একটি টিভি চ্যানেলে দুর্গারূপে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন ইধিকা। সেই সুবাদে তাঁকে এবার দেখা যাবে মহিষাসুরমর্দিনীতে। ইতোমধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রতিবছরই মহিষাসুরমর্দিনী নিয়ে দর্শকের মনে আগ্রহ তৈরি হয়। রেডিওর সঙ্গে টেলিভিশনের মহালয়া নিয়েও উৎসাহ দেখা যায়। দুর্গার রূপে দেখা যাবে কোন নায়িকাকে? তা নিয়ে নানা জনের নানা পরামর্শও থাকে। একটা সময় ইন্দ্রাণী হালদার, দেবশ্রী রায় থেকে কোয়েল মল্লিকসহ অনেককে দেখা গেছে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে।

শোনা গেছে, এবার ‘সান বাংলা’-এ দেবীরূপে আগমন হবে অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়ের। তাঁর শুটিংও হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। এখন খবর, প্রথম সারির আর একটি বিনোদনের চ্যানেলে দেবীরূপে দেখা যাবে  ইধিকাকে। সঙ্গে নাকি দেখা যেতে পারে অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিককেও।

এদিকে ইধিকার ছোটপর্দায় ফেরা নিয়ে নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের মাঝেও নানারকম আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। তবে বেশির ভাগ নেটিজেন ইধিকাকে পুনরায় ছোটপর্দায় দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, টিভি সিরিয়ালের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন কলকাতার অভিনেত্রী ইধিকা পাল। সেই সুবাদে বাংলাদেশি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয়েছিল তাঁর। এরপর একই অভিনেতার বিপরীতে ‘বরবাদ’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইধিকা। বাংলাদেশের এই দুটি সিনেমা ব্লকবাস্টার হয়েছিল।

পাশাপাশি কলকাতায় দেব বিপরীতে ‘খাদান’ সিনেমায় অভিনয় করেও দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছিলেন। এই সিনেমাও বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়েছিল। যে কারণে সিনেমায় অভিনয় নিয়েই এখন সব ব্যস্ততা ইধিকার। তারপরও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ছোটপর্দায় ফেরার আভাস দিয়েছেন দুই বাংলার নন্দিত এই অভিনেত্রী।

স্পেনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ‘অভিবাসী হামলা’ হয়েছে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে চাপের কাছে মাথানত না করায় স্পেনকে শাস্তি দিতেই মরক্কো থেকে অভিবাসীর ঢল নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দেশ দুটি পরিকল্পিতভাবে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান।

গত কয়েকদিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসী স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করেন। এই সংখ্যা ছিটমহলটির নিয়মিত জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে মানব ঢলের এই ঘটনায় অন্তত ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিবাসী ঢলকে স্পেনের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। দূতাবাসের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সমন্বয়ে স্পেনকে অস্থিতিশীল করতে এর আয়োজন করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।

ইরানি দূতাবাস কয়েকটি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। তাদের মতে, এটি ইউরোপের ডানপন্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি উপহার। একইসঙ্গে আমেরিকান সাম্রাজ্য ও ইসরায়েলি দোসরদের বিরুদ্ধে সাহস দেখানোর শাস্তি। কারণ, সাম্রাজ্য কখনও অবাধ্যতা সহ্য করে না।

ইরানের এমন অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই মন্তব্য করেনি। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সংকট মোকাবিলায় স্পেনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

এক্স পোস্টে ড্যানন লিখেছেন, স্পেন সবসময় ইসরায়েলকে জ্ঞান দেয়। অথচ তারা আফ্রিকায় এখনও ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে। বিশ্ববাসীর কাছে এর কারণ আগে ব্যাখ্যা করা উচিত।

ভারত-বাংলাদেশে আন্দোলনের তুলনা তসলিমার, জবাব দিলেন দীপকে

নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের করা একটি মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের আন্দোলনের তুলনা করা ঠিক হচ্ছে না।

তসলিমার মন্তব্য প্রসঙ্গে সোমবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দীপকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে যন্তর মন্তরের তুলনা করা হচ্ছে শুধু বদনাম করার জন্য।’ দুই দেশের আন্দোলনের পার্থক্য বোঝাতে দীপকে বলেন, ‘আমরা আলাদা।’

রোববার করা এক মন্তব্যে তসলিমা নাসরিন সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভারতে সিজেপির আন্দোলন সম্পর্কে তেমন একটা খবর রাখেননি। তবে এর একটি ভিডিও ক্লিপ দেখে তাঁর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে হয়েছে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। কারণ আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররা কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়। শেখ হাসিনাও তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন হলো। পরে দেখলাম এর পেছনে জিহাদিরা ছিল। এর ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।’

তসলিমার মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দীপকে বলেছেন, দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিজেপির দায়িত্ব বেড়ে গেছে। শিগগিরই দলের পরিসর বাড়ানো হবে।

গত মাসে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। পরে এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

উন্নয়নের জন্য নীতি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘পলিসি ইন্ডিপেনডেন্স’ বা ‘নীতি স্বাধীনতা’ অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্বায়ত্তশাসন সংকুচিত হয়েছে। দেশীয় অগ্রাধিকারের পরিবর্তে বাইরের চাপের প্রভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।  নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন করতে না পারলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গবেষণা সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের নীতি স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ষাটের দশকে দক্ষিণ কোরিয়া যখন তাদের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করে, তখন বিশ্বব্যাংক ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু কোরিয়া তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী ও জাপানের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যবহার করে সেই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করে। একইভাবে ভিয়েতনাম সংস্কারের জন্য বিশ্বব্যাংকের বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিল– টাকা দিয়ে সংস্কার কেনা যায় না, আমরা আমাদের মতো করেই সংস্কার করব।

ড. আনিসুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে। বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব যার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, একবার তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেন স্বাস্থ্য হানিকর আইসক্রিমের ওপর কর কমানো হচ্ছে, যার উত্তরে জানানো হয়েছিল যে বাচ্চারা এটি পছন্দ করে এবং অভিভাবকরা এতে খুশি হবেন। আনিসুজ্জামান মনে করেন, এ ধরনের খামখেয়ালি বাজেট প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দখলদারিত্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া নাগরিক ও সরকারের মধ্যে আস্থার চরম সংকট এবং নাগরিক সমাজের বিভক্তিকে তিনি উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল– কেন অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর উত্তরে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটি করা বা না করা উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের সামনে বড় ঝুঁকি ছিল। তিনি একে একটি ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) জানতেন, ‘আমরা ফাঁদে পড়েছি। এ অঞ্চলের মধ্যে ভিয়েতনাম চুক্তি করেছে, মালয়েশিয়া করেছে, ইন্দোনেশিয়া করতে যাচ্ছে। এমন একটা পর্যায়ে তারা চুক্তি করতে বললে, চাইলেই কী তা উপেক্ষা করা যায়? আমাদের বড় বাজার (তৈরি পোশাক) সেখানে।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি হয়তো এমন চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন, কিন্তু যখন কেউ সরকারে থেকে নীতিনির্ধারণ করেন, তখন তাঁকে অনেক সময় আদর্শের চেয়ে বাস্তবতাকে  বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। তাঁর মতে, ওই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, ১৯৯১ সালে বাজারভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাত্রা শুরু হয়। তবে গত তিন দশকে অনেক প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি।

এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের শর্তগুলো মূলত সুশাসন ও সংস্কারকেন্দ্রিক এবং এগুলো বাংলাদেশের নিজের উন্নয়নের জন্যই প্রয়োজন।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের এই সময়ে বাংলাদেশকে এখন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। তিনি প্রকৃত নীতি স্বাধীনতার জন্য দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবমুক্ত থাকার ওপর জোর দেন। গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন স্থানীয় প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করছে। তবে সফল হতে হলে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মেধা পাচার রোধের তাগিদ দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, উচ্চ সুদের অভ্যন্তরীণ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর

সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৯ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উপাত্ত জানা গেছে। গতকাল রোববার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদেশি ঋণের মোট পরিশোধের মধ্যে মূল ঋণ ছিল ২৯৫ কোটি ডলার। বাকি ১৫৪ কোটি ডলার ছিল ঋণের সুদ। আগের অর্থবছর মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২৬০ কোটি ডলার। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ১৪৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন বলছে, আগে নেওয়া ঋণের সুদাসল বাড়লেও নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, অর্থ ছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধ বেশি অথচ অর্থ ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম আসার কারণ জানতে চাইলে ইআরডির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি–এডিপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। গত অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। সংগত কারণেই উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। একই কারণে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

এডিপি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ অর্থবছর শেষে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৬৮ হাজার কোটি টাকাই অব্যবহৃত থেকে গেছে। পুরোনো উপাত্ত বলছে, গত দুই দশকের এডিপি বাস্তবায়ন এতটা বাজে হয়নি। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই এডিপি বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশের কম ছিল না।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। এ পরিমাণ প্রায় ২০৭ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরিমাণে যা প্রায় ১৯১ কোটি ডলার। দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে রাশিয়া ১০৪ কোটি ডলার, জাপান ৭৯ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক–এআইআইবি ৬৯ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, ভারত ২৭ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছর নতুন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, এডিবির কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৬৮ কোটি ডলারের ঋণদানের প্রতিশ্রুতি। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৮২ কোটি ডলার। অন্যদের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে এআইআইবি, ৩১ কোটি ডলার দিয়েছে জাপান আর ২৭ কোটি ডলার দিয়েছে চীন।

নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। অ-ডানপন্থিদের জুলাই সংগঠনে ডানপন্থিরা জায়গা পাবেন না। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মাহফুজ আলম।

পোস্টে মাহফুজ আলম আরও লেখেন, এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রাক্কালে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজ আলম।

‘ছেলের লাশ পাই নাই, দুই বছর হয়ে গেল আমার বুক খালি’ স্বজন হারানোর বর্ণনা দিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা

চব্বিশের ২০ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগের খাম্বার কাছে গুলিতে নিহত হন আব্দুর রহমান জিসান (২০)। তিনি পানির ব্যবসা করতেন। জিসানের বাবা আফ্রিকাপ্রবাসী বাবুল সরদার জানিয়েছেন, ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ওই বছর ৩০ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন। গুলিটি মিরাজের বাঁ পাঁজর ভেদ করে বের হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। মিরাজের বাবা মো. আব্দুর রব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। দোষীদের ফাঁসি হোক, এটাই আমার চাওয়া। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

রায়ের বাজার এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা যান মো. সোহেল রানা (৩৯)। তাঁর মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ পাই নাই। কোনো মামলাও করি নাই। মামলা করে কী হবে। ছেলে তো পাব না। দুই বছর হয়ে গেল আমার বুক খালি। হত্যার বিচার হয় নাই। কোথায় বিচার হচ্ছে তাও জানি না।’

বাবুল সরদার, আব্দুর রব ও রাশেদা বেগমের মতো অর্ধশতাধিক স্বজন গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ার কনফারেন্স রুমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী : শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সামনে স্বজন হারানো ঘটনা বর্ণনা করেন। কেউ সন্তান, কেউ বাবা ও ভাই হত্যার বিচার চেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।

স্বজন জানান, দুই বছর ধরে প্রিয়জনদের হারিয়ে তারা নির্বাক। নানা আশার বাণী শুনলেও দৃশ্যমান কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাননি। চব্বিশের শহীদ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শুনে ন্যায়বিচার ও নিশ্চিত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন চিফ প্রসিকিউটর।

গণশুনানির পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সঠিক ও মানসম্মত বিচারের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করতে চাই।’ এ জন্য তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, তদন্ত সংস্থাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন এই যাত্রাবাড়ীতে। আমরা প্রাথমিকভাবে ৮৫ জনের তালিকা পেয়েছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে ৫০-৫৫ জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কেউ থানায় বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। অনেকগুলো মামলা ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন আছে। এই এলাকার সব হত্যা মামলা একত্রিত করে একটা অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যথায় পৃথকভাবে এসব মামলার বিচার করতে গেলে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।’

এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থনে শহীদ না হলে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হতো না। আমরা শহীদ পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেজন্য সরকারসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

গাজীপুরে ভূমি অফিসের ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাদের বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ভূমি কর্মকর্তা ও সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিমসহ চারজনকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি সফিপুরে অপর একটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান।