Home Blog Page 115

রোদে ঘুরলেও পানির বোতল ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

বাড়তে শুরু করেছে দিনের তাপমাত্রা। তীব্র গরমে অনেকেই নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খান। অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা পানি শরীরে স্বস্তি এনে দেয়। কিন্তু রাস্তায় বেরোলে হুট করে ঠান্ডা পানি পাওয়া যায় না। ফ্রিজের পানি নিয়ে বেরোলেও তা দ্রুত গরম হয়ে যায়। রোদে ঘুরলেও পানির বোতল ঠান্ডা রাখতে কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন। যেমন-

বরফভর্তি বোতল

রাস্তায় বের হওয়ার আগে পানিভর্তি বোতল ফ্রিজ়ারে রেখে দিন। বোতলের পানি বরফ হয়ে যায়। অর্ধেক বরফ জমাট বাঁধলেও হবে। তার পরে ওই বোতল ভিজে রুমালে মুড়ে এবং প্লাস্টিকে ভরে ব্যাগে ঢুকিয়ে নিন। বরফ জমে থাকলে পানি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে কিছুটা সময় নেবে। তাহলে রাস্তায় বেরিয়েও ঠান্ডা পানি দিয়ে গলা ভেজাতে পারবেন।

ভিজে কাপড়ে মুড়ে নিন

অনেকেসময় ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নিয়ে বেরোনোর আধ ঘণ্টা যেতে না যেতেই তা গরম হয়ে যায়। এই সমস্যা এড়াতে ভিজে কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। ভিজে রুমাল বা কাপড় বোতলের গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিন। এতে তাপ সরাসরি বোতলের গায়ে আসবে না।

মাটির বোতল ব্যবহার করুন 

বাড়িতে মাটির কলসি ব্যবহার করতে পারেন। আর রাস্তায় বেরোলে সঙ্গে নিতে পারেন মাটির বোতল। পরিবেশবান্ধব এই বোতলে পানি ভরে রাখলে ঠান্ডা থাকে। এই পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এই গরমে মাটির বোতল থেকে পানি খেলে শরীর হাইড্রেটেডও থাকবে।

বেছে নিতে পারেন ইনসুলেটেড বোতল

ডাবল-ওয়াল বা ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড বোতল গরমকালের জন্য বেশ ভালো। এতে পানি প্রায় ১৮-২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা থাকে। ইনসুলেটেড বোতলে পানি ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। বেরোনোর আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ব্যাগ ঢুকিয়ে নিন। সারাদিন রাস্তায় ঘুরে কাজ করলে এই বোতল আপনার সঙ্গী হতে পারে।

বোতল ঠান্ডা রাখার টিপস

ফ্রিজ ছাড়াও পানির বোতল ঠান্ডা করা যায়। একটি পাত্রে বরফ কুচি নিন। তার মধ্যে পানি বোতল বসিয়ে রাখুন। উপর লবণ ছড়িয়ে দিন। দেখবেন, ফ্রিজ ছাড়াই পানির বোতল ঠান্ডা হয়ে গেছে। বাড়িতে থাকার সময়ে এই টিপস কাজে লাগাতে পারেন।

জৈব পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, খরচ কম, স্বাদ বেশি

আগে তরমুজ চাষ করে লাভ হতো না, এবার নতুন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এতে খরচ কমেছে। ফলনও বেশি হয়েছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার চাষি ইসমাইল মাঝি। কখনও নিজের জমিতে, কখনও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেন আবুবকরপুর ইউনিয়নের এই কৃষক।

তিনি জানান, গত বছর বাজারের কেনা বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনিসহ অনেক চাষি। এ বছর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ আবাদ করে ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভবান হয়েছেন। এ বছর তিনি আড়াই একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। জমি বর্গার টাকা ও আবাদ খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা পেয়েছেন।

শুধু ইসমাইল মাঝি নন; চরফ্যাসনের অনেকেই জৈব সার ব্যবহারে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে কীটনাশকের খরচ কম এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার কারণে তরমুজের আকার বড় হয়েছে। এগুলো বেশ মিষ্টি। দামও পাওয়া যায় বেশি।

খরা আর লবণাক্ততার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। সবুজ লতাপাতার মধ্যে পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে চারদিকে। রাসায়নিক নির্ভরতা থেকে সরে এসে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। সেই সিদ্ধান্তই এনে দিয়েছে বাম্পার ফলন, কম খরচ আর নতুন আশা। ভোর থেকে শুরু হয় তরমুজ তোলার কাজ। শ্রমিকরা দলবেঁধে মাঠে যান। কেউ বাছাই করেন, কেউ আবার ট্রাকে তোলেন। গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক ঢুকছে। অনেক জায়গায় রাস্তা এতটাই সরু যে ট্রাক যাওয়া কঠিন। তবু থেমে নেই গতি। নদীর ঘাটে গেলে দেখা যায় আরও বড় আয়োজন– কার্গো জলযান আর লঞ্চ ভিড়ছে, তরমুজ বোঝাই হচ্ছে। এগুলো যাচ্ছে বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা এখন সরাসরি মাঠে হাজির। আগের মতো আড়তে অপেক্ষা নয়; এখন ক্ষেতেই লেনদেন। এই মৌসুমে চরফ্যাসনের গ্রামগুলোতে একটা ভিন্ন রকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। দিনমজুররা কাজ পান, নারীরা বাছাই ও পরিবহনে যুক্ত হন, কিশোররা ছোটখাটো কাজ করে আয় করে। এমনকি শিশুরাও আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে– তরমুজ কাটার সময় তাদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসে। কেউ তরমুজ কেটে বিক্রি করছে, কেউ পাইকারি দামে বিক্রি করছে। হাটবাজারে ভিড় বাড়ে। গ্রামের অর্থনীতি যেন হঠাৎ করেই গতি পায়। এই পুরো চিত্র দেখলে বোঝা যায়, একটা ফসল পুরো সমাজকে আলোড়িত করতে পারে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক বিস্তৃতি রয়েছে চরকলমী, মুজিবনগর, নজরুলনগর, নীলকমল, নুরাবাদ, আবুবকরপুর, আহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। চাষ হয়েছে গ্লোরি, হাইব্রিড, ড্রাগন, থাই সুপার, সাইকিং, বেঙ্গল কিং, গ্রেড ওয়ান, বিগ ফ্যামিলি, আনন্দসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ একর জমিতে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষকরা হঠাৎ করে জৈব পদ্ধতিতে আসেননি। এর পেছনে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত বছর বাজার থেকে কেনা রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন। ফলন কমে যায়, রোগবালাই বাড়ে, খরচ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর অনেকে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন। এতে তারা দেখেন, মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে, রোগ কম হয়, খরচও কমে। সবচেয়ে বড় কথা, ফলন ভালো হয়।

তরমুজচাষি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগে বুঝতাম, বেশি ওষুধ মানে ভালো ফলন। এখন বুঝি, কম খরচে ঠিকমতো চাষ করলে ফলন ভালো হয়, লাভও হয়।’ চরফ্যাসন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের কৃষক শাকিল ফরাজী তিন একর জমিতে প্রথমবারের মতো জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতের ফলন অন্যদের তুলনায় বেশি হয়েছে। শাকিল বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কখন চারা রোপণ করতে হবে, কীভাবে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে– এসব শেখানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা দেখে শিখতে পারেন।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ বেশি হয়েছে। ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক সহজলভ্য হওয়ায় এসব ব্যবহারে প্রায় ৪০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন চাষিরা। আশা করি, আগামী বছর এই পদ্ধতির প্রতি কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করে তরমুজের আবাদ সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রকল্পের আওতায় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি তরমুজ তিন থেকে পাঁচ কেজি ওজনের হয়। এ তরমুজের খাদ্যগুণ ও নান্দনিকতায় ক্রেতারা মুগ্ধ। এ জন্য দাম ভালো। অল্প খরচে কৃষকরা এ ফলের আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে কৃষকরা যাতে আরও ব্যাপক পরিসরে জৈব পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদে উদ্বুদ্ধ হন, সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ভোলা জেলার চরফ্যাসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি উত্তম চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত জাতের চারা রোপণের বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রদর্শনী উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চরফ্যাসনে কোনো হর্টিকালচার সেন্টার নেই। প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি হর্টিকালচার সেন্টার ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের উন্নতমানের চারাপ্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জৈব পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক প্রশিক্ষণ মিললে উপকূলীয় এলাকাও কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু এই ধারা ধরে রাখতে হলে জৈব সার ও বালাইনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

অভিনয় ছাড়াও নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে: ববি

নতুন একটি সিনেমায় আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘তছনছ’ সিনেমার এই গানে পর্দায় পারফর্ম করেছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। প্রাণবন্ত নৃত্য ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতিতে গানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন তিনি।

‘নো চিন্তা ডু ফুর্তি/এনজয় কর নাইট/ ডিজে পার্টির ড্যান্স ফ্লোরে লাল নীল লাইট’– এমন কথার পার্টি ঘরানার গানটি লিখেছেন সুদীপ কুমার দ্বীপ। এর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ সজীব। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে ফোকাস স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গানটি সিনেমার একটি বিশেষ মুহূর্তে ব্যবহার করা হবে, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি বিনোদন যোগ করবে।

গানটি প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, দীর্ঘদিন পর আইটেম গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আগে বেশ কিছু প্রস্তাব পেলেও গানের কথা পছন্দ না হওয়ায় সেগুলোতে কণ্ঠ দেননি। তবে ‘তছনছ’-এর এই গানটির কথা, সুর ও উপস্থাপনা তাঁর কাছে ভিন্নমাত্রা তৈরি করেছে। তিনি আশা করছেন, গানটি মুক্তির পর শ্রোতাদের মাঝে ভালো সাড়া ফেলবে।

এদিকে ববি বলেন, ‘এই গানের জন্য নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে। নাচের রিহার্সাল থেকে শুরু করে লুক– সবকিছুতেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা আমাকে ভিন্ন রূপে দেখবেন।’

বর্তমানে স্টেজ শো ও নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোনাল। ‘কসম’ নাটকে তাঁর গাওয়া গান ‘বন্ধু তোরে দেখতে মন চায়’ শ্রোতারা বেশ গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে এক সময় অভিনয়ে নিয়মিত থাকলেও এখন অনিয়মিত কাজ করছেন চিত্রনায়িকা ববি। কাজ করেন খুব বুঝেশুনে। আর মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর বেশ কটি সিনেমা। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ সিনেমা ছিল ‘ময়ুরাক্ষী’। অনেক দিন হলো তাঁর নতুন সিনেমা মুক্তি পায়নি। পর্দায় না থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে সরব তিনি। জানা গেছে, তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক সিনেমার কাজ।

জ্বালানি সংকট রাতভর লাইনে থেকেও তেল মিলছে না ছুটির দিনেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটে ছুটির দিনেও স্বস্তি মেলেনি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত বিক্রিতে দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল মিলছে না। তেলের জন্য রাতভর পাম্পেই অবস্থান করছেন অনেকে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশজুড়ে এখন অধিকাংশ পাম্পে ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দেওয়া হচ্ছে না। তবুও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার নতুন করে লাইন তৈরি হচ্ছে। এক ধরনের চক্রে আটকে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা।

রাজধানীর মহাখালী, খিলক্ষেত, বাংলামটর, রমনা, আসাদগেটসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই পেট্রোল পাম্পের সামনে সকাল থেকেই ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বেশ কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তারা। কেউ কেউ রাত কাটিয়েছেন গাড়িতে বসেই, কেউ রাস্তার পাশে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তেলের নিশ্চয়তা পাননি অনেকেই। অনেক পাম্পের সামনে অপেক্ষার প্রহর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তবুও তেল মেলেনি।

গতকাল বিকেল ৪টায় মৎস্য ভবন এলাকার রমনা পাম্পে তেল নিতে অপেক্ষমাণ নাজমুল সাদাতের সঙ্গে কথা হয় সমকালের। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে শিল্পকলার গেটের বিপরীতে লাইনে ছিলেন। নাজমুল বলেন, সকাল ৬টায় এসে এই সিরিয়াল পেয়েছেন। ১০ ঘণ্টা হয়ে গেছে লাইন আগায়নি। তাঁর সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন এই পাম্পের লাইন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আবার পাম্পে গিয়ে শেষ হয়েছে।

সন্ধ্যায় তেজগাঁও এলাকার সিটি ফিলিং স্টেশনেও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেন কারচালক মকবুল হোসেন। তিনি ১১ ঘণ্টা ধরে লাইনে রয়েছেন বলে জানান।

পাম্পকর্মীরা বলছেন, ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিলম্বই এই সংকটের মূল কারণ। অনেক পাম্পে সকালে তেল না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরে যখন তেল আসে, তখন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ভিড় করে। ফলে রেশনিং করে সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে লাইন কমছে না, অন্যদিকে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ সংকটকে ঘিরে ভিআইপি সুবিধা নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে। সাধারণ চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও তারা তেল পাচ্ছেন না। অথচ প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ লাইনের বাইরে গিয়ে মুহূর্তেই তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাম্পে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। মৎস্য ভবন এলাকার রমনা পাম্পে মোটরসাইকেলের চালকদের বিশৃঙ্খলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও জটিল। নগরে ৪৬টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল মিলছে না। কাতালগঞ্জের খান ব্রাদার্স, নতুনপাড়ার বিআরটিসি পাম্প, বালুছড়ার শিউলি পেট্রোল পাম্প, অক্সিজেন এলাকার ওয়াজেদ আলী সন্সসহ বেশ কয়েকটি পাম্প শুক্রবার সকাল থেকেই বন্ধ ছিল।

খুলশী এলাকার একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল হক জানান, ডিপো থেকে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ কম। শুধু সীমিত পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। গণি বেকারি এলাকার একটি পাম্পে দুপুর থেকে বিক্রি শুরু হলেও বিকেলের মধ্যেই শত শত মোটরসাইকেলের লাইন দেখা যায়।
সিলেটের চিত্র আরও হতাশাজনক। নগরের আম্বরখানা, পাঠানটুলা, চৌকিদেখিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। অনেক চালক ১৫ থেকে ২০টি পাম্প ঘুরেও জ্বালানি পাননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পাম্পে দৈনিক মাত্র ২০০০ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। এতে পরিবহন খাতে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে বহু গুণ।

উত্তরের জেলা বগুড়ায় জ্বালানি সংকট সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষিতে। চলতি বোরো মৌসুমে যখন সেচের জন্য ডিজেলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তা পাওয়া যাচ্ছে না। জেলায় প্রতিদিন ২৮০ থেকে ৩০০ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২০ থেকে ২৪০ টন। ফলে প্রতিদিনই ৫০ থেকে ৬০ টনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না, উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ছে।

নাটোরে এই সংকট ঘিরে উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বড়াইগ্রামে একটি পাম্পে ডিজেল দিতে দেরি হওয়ায় ট্রাকচালকের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই রাতে অন্য একটি পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তেল সরবরাহের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনকালে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পূর্ণ মজুত আছে এবং জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত ক্রুড অয়েল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদনে। এক পর্যায়ে পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাকি ইউনিটগুলোতে ‘ডেড স্টক’ দিয়ে শোধন কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে নতুন কার্গো আসার পর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, সরবরাহে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সরকার আগে থেকেই পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে। এই কৌশল কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানান, যাতে জনমনে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়।

বিশেষ সুবিধা চেয়েছে পুলিশ
এদিকে সংকটের মধ্যেই বিশেষ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, জ্বালানি নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, এতে জরুরি দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। আসামি ধরতে অভিযান, টহল কিংবা দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো সব ক্ষেত্রেই সময় নষ্ট হচ্ছে। তাই দেশের সব পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা লাইন বা বিশেষ বুথ চালুর দাবি জানিয়েছে তারা।
(তথ্য পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা)

পারমাণবিক সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়?

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিলে বিনিময়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের স্থগিত সম্পদ ছাড় দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিন পাতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চূড়ান্ত হলে চলমান যুদ্ধের ইতি ঘটতে পারে।

চুক্তির মূল বিষয় কী?
আলোচনায় থাকা প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু দুটি বিষয়—ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (প্রায় ২ হাজার কেজি) হস্তান্তর বা নিষ্ক্রিয় করবে। আরেকটি বিষয় হলো- যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্পদ অবমুক্ত করবে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

ইউরেনিয়াম নিয়ে সমঝোতার পথ
এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কয়েকটি বিকল্প আলোচনায় রয়েছে—ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো। ইরানের ভেতরেই ‘ডাউন-ব্লেন্ড’ (কম সমৃদ্ধ করা) অথবা আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় রাখা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছরের জন্য। এই ব্যবধানই এখন আলোচনার অন্যতম বড় বাধা।

চুক্তির সম্ভাবনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
সূত্রগুলোর ভাষ্য, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

আলোচনা সফল হলে ইসলামাবাদে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দুই পক্ষের লক্ষ্য
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরানো। অন্যদিকে ইরানের লক্ষ্য হলো- নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃপ্রবেশ এবং স্থগিত সম্পদ ফিরে পাওয়া।

তবে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ, অতীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর ইরান চুক্তির সময় অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা। এবার একই ধরনের প্রস্তাব সামনে আসায় ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রশ্ন উঠতে পারে।

এদিকে আলোচনার অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন- ‘কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।’ এতে আলোচনার বাস্তব অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

চুক্তি হলে কী হতে পারে?
এই চুক্তির ইতিবাচক দিক হলো- যুদ্ধের অবসান হবে। অন্যদিকে পারমাণবিক সংকট কমে আসবে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। তবে ঝুঁকি হচ্ছে- ইরান পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি রাখবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের বিশেষ করে ইসরায়েল আপত্তি জানাতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন সংকটের সম্ভাবনাও রয়েছে।

‘ক্যাশ ফর ইউরেনিয়াম’
এই প্রস্তাব একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত, অন্যদিকে বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ দিয়ে নিরাপত্তা কিনতে চাইছে। অন্যদিকে ইরান অর্থের বিনিময়ে চাপ কমাতে চাইছে। সম্প্রতি ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে- আর ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪ মারামারি ও আর্থিক বিরোধের জেরে আসাদুল হত্যা: পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসাদুল ও আসামিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে একসময় মারধর করে গুরুতর আহত করেন আসাদুল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এছাড়া আর্থিক লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।

তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

তারা হলেন- মো. মুন্না, আকতার হোসেন, মিরাজ ফকির ও নয়ন ওরফে খোকন। তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটর সাইকেল।

উপকমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

police 1776500311

তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তার আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও আছে। এই দুটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তার চারজনের বাইরেও আমরা আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদনও করবো।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান—এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশালের গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

বৈশাখের গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখবে যেসব অভ্যাস

বৈশাখের দিনে বা গরমে ঘোরাঘুরি মানেই ত্বকে রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির প্রভাব। প্রকৃতির এই রুক্ষ সময়টায় ত্বকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়- ‘ডিহাইড্রেইশন’ বা পানিশূন্যতা, র‌্যাশ, ব্রণ, রোদে পোড়া ভাব- সব মিলিয়ে ত্বক যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শুধু সুন্দর মেকআপ করলেই হবে না, বরং ঠান্ডা ও স্বস্তিতে রাখাও জরুরি।

তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ত্বককে রাখা যায় সুস্থ ও সতেজ। এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি বিশেষজ্ঞ ড. ব্লসম কোচার।

গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের ৭টি জরুরি অভ্যাস

১. সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
রোদ থেকে ত্বক রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সানস্ক্রিন। বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে ব্যবহার করুন। তারপর ২-৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগান। সেক্ষেত্রে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নিন।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে ত্বকে। তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এছাড়া তরমুজ, শসা, কমলার মতো জলসমৃদ্ধ ফল খান।

৩. হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন
গরমে ঘাম ও তেল বেশি জমে, তাই পরিষ্কার রাখা জরুরি। দিনে ২–৩ বার মুখ ধুতে পারেন। তবে সেক্ষত্রে হার্শ সাবান এড়িয়ে চলুন।

৪. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই-এটা ভুল। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৫. ঠান্ডা উপাদান ব্যবহার করুন
গরমে ত্বক জ্বালা বা লালচে হয়ে যেতে পারে। তাই অ্যালোভেরা, শসার নির্যাস ও হালকা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বককে ঠান্ডা ও আরাম দেয়।

৬. রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন
শুধু ক্রিম নয়, অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। রোদ থেকে বাঁচতে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে সানগ্লাস পরুন। সম্ভব হলে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলুন।

৭. ত্বকবান্ধব খাবার খান
ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে খাদ্যের ওপর। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বীজ খেতে পারেন।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।

জৈব পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, খরচ কম, স্বাদ বেশি

‘আগে তরমুজ চাষ করে লাভ হতো না, এবার নতুন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এতে খরচ কমেছে। ফলনও বেশি হয়েছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার চাষি ইসমাইল মাঝি। কখনও নিজের জমিতে, কখনও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেন আবুবকরপুর ইউনিয়নের এই কৃষক।

তিনি জানান, গত বছর বাজারের কেনা বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনিসহ অনেক চাষি। এ বছর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ আবাদ করে ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভবান হয়েছেন। এ বছর তিনি আড়াই একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। জমি বর্গার টাকা ও আবাদ খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা পেয়েছেন।

শুধু ইসমাইল মাঝি নন; চরফ্যাসনের অনেকেই জৈব সার ব্যবহারে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে কীটনাশকের খরচ কম এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার কারণে তরমুজের আকার বড় হয়েছে। এগুলো বেশ মিষ্টি। দামও পাওয়া যায় বেশি।

খরা আর লবণাক্ততার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। সবুজ লতাপাতার মধ্যে পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে চারদিকে। রাসায়নিক নির্ভরতা থেকে সরে এসে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। সেই সিদ্ধান্তই এনে দিয়েছে বাম্পার ফলন, কম খরচ আর নতুন আশা। ভোর থেকে শুরু হয় তরমুজ তোলার কাজ। শ্রমিকরা দলবেঁধে মাঠে যান। কেউ বাছাই করেন, কেউ আবার ট্রাকে তোলেন। গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক ঢুকছে। অনেক জায়গায় রাস্তা এতটাই সরু যে ট্রাক যাওয়া কঠিন। তবু থেমে নেই গতি। নদীর ঘাটে গেলে দেখা যায় আরও বড় আয়োজন– কার্গো জলযান আর লঞ্চ ভিড়ছে, তরমুজ বোঝাই হচ্ছে। এগুলো যাচ্ছে বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা এখন সরাসরি মাঠে হাজির। আগের মতো আড়তে অপেক্ষা নয়; এখন ক্ষেতেই লেনদেন। এই মৌসুমে চরফ্যাসনের গ্রামগুলোতে একটা ভিন্ন রকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। দিনমজুররা কাজ পান, নারীরা বাছাই ও পরিবহনে যুক্ত হন, কিশোররা ছোটখাটো কাজ করে আয় করে। এমনকি শিশুরাও আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে– তরমুজ কাটার সময় তাদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসে। কেউ তরমুজ কেটে বিক্রি করছে, কেউ পাইকারি দামে বিক্রি করছে। হাটবাজারে ভিড় বাড়ে। গ্রামের অর্থনীতি যেন হঠাৎ করেই গতি পায়। এই পুরো চিত্র দেখলে বোঝা যায়, একটা ফসল পুরো সমাজকে আলোড়িত করতে পারে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক বিস্তৃতি রয়েছে চরকলমী, মুজিবনগর, নজরুলনগর, নীলকমল, নুরাবাদ, আবুবকরপুর, আহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। চাষ হয়েছে গ্লোরি, হাইব্রিড, ড্রাগন, থাই সুপার, সাইকিং, বেঙ্গল কিং, গ্রেড ওয়ান, বিগ ফ্যামিলি, আনন্দসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ একর জমিতে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষকরা হঠাৎ করে জৈব পদ্ধতিতে আসেননি। এর পেছনে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত বছর বাজার থেকে কেনা রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন। ফলন কমে যায়, রোগবালাই বাড়ে, খরচ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর অনেকে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন। এতে তারা দেখেন, মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে, রোগ কম হয়, খরচও কমে। সবচেয়ে বড় কথা, ফলন ভালো হয়।

তরমুজচাষি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগে বুঝতাম, বেশি ওষুধ মানে ভালো ফলন। এখন বুঝি, কম খরচে ঠিকমতো চাষ করলে ফলন ভালো হয়, লাভও হয়।’ চরফ্যাসন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের কৃষক শাকিল ফরাজী তিন একর জমিতে প্রথমবারের মতো জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতের ফলন অন্যদের তুলনায় বেশি হয়েছে। শাকিল বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কখন চারা রোপণ করতে হবে, কীভাবে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে– এসব শেখানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা দেখে শিখতে পারেন।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ বেশি হয়েছে। ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক সহজলভ্য হওয়ায় এসব ব্যবহারে প্রায় ৪০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন চাষিরা। আশা করি, আগামী বছর এই পদ্ধতির প্রতি কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করে তরমুজের আবাদ সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রকল্পের আওতায় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি তরমুজ তিন থেকে পাঁচ কেজি ওজনের হয়। এ তরমুজের খাদ্যগুণ ও নান্দনিকতায় ক্রেতারা মুগ্ধ। এ জন্য দাম ভালো। অল্প খরচে কৃষকরা এ ফলের আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে কৃষকরা যাতে আরও ব্যাপক পরিসরে জৈব পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদে উদ্বুদ্ধ হন, সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ভোলা জেলার চরফ্যাসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি উত্তম চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত জাতের চারা রোপণের বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রদর্শনী উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চরফ্যাসনে কোনো হর্টিকালচার সেন্টার নেই। প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি হর্টিকালচার সেন্টার ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের উন্নতমানের চারাপ্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জৈব পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক প্রশিক্ষণ মিললে উপকূলীয় এলাকাও কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু এই ধারা ধরে রাখতে হলে জৈব সার ও বালাইনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে তিন পেসার

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। মিরাজের নেতৃত্বাধীন স্বাগতিক বাংলাদেশ দল আগে ফিল্ডিংয়ে নামছে।

মিরপুরে দিবারাত্রির এই ম্যাচটি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। বাংলাদেশে এমন সময়ে ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েই ম্যাচের সময় এগিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততার কারণে নিউজিল্যান্ড এই সিরিজে তাদের নিয়মিত তারকাদের কাউকেই পাচ্ছে না। ফলে একেবারেই নতুন চেহারার অনভিজ্ঞ এক দল নিয়ে খেলতে এসেছে তারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ২০০৪ সালের পর বাংলাদেশ সফরে এসে কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৩ সালের সফরে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে হেরেছিল তারা। আর সবশেষ ২০২৩ সালে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের জায়গায় দলে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।