Home Blog Page 128

১১ দলীয় ঐক্যের হুঁশিয়ারি সংসদে না হলে রাজপথে ফয়সালা

সময়ক্ষেপণ না করে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা বলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ক্ষমতায় গিয়েই বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছু হটেছে। গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করছে। এটি করা হলে দেশে আরেকটি ৫ আগস্ট সৃষ্টি হতে পারে। সংসদে ফয়সালা না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই গণভোটের রায় কার্যকর করা হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে নেতারা এমন হুঁশিয়ারি দেন। জুলাই সনদ কার্যকর ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের রাজপথের প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি এটি।

এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ চারটি বাতিল এবং ১৬টি এখনই উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত সংসদের বিশেষ কমিটি। এর প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্য বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, গণভোট অস্বীকার করা মানে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা। যা সংসদে সমাধানযোগ্য, সেটি সংসদেই সমাধান করুন। সংসদের কথা রাজপথে আনা হলে জনগণের জন্য ফল সুখকর হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি তলে তলে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। ক্ষমতায় গিয়ে সেই গণভোটের রায়কেই অস্বীকার করছে বিএনপি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে; কিন্তু গণভোটের পক্ষের ৭০ শতাংশ মানুষ রাজপথে রয়েছে। গণভোটের রায় কার্যকর ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও কথা হবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, আমরা ভাবতে পারিনি বিএনপি এত দ্রুত গণভোট ও জুলাই সনদের সঙ্গে মোনাফেকি করবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়।

 

নির্বাচনের পর ওয়াদা ভুলে গেছে বিএনপি: জামায়াত আমির

নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি ওয়াদা ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত গণভোটের বিষয়ে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দলের অবস্থান একই ছিল। তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকারি দল ওয়াদা ভুলে গেছে। গণভোটের গণরায় ইতোমধ্যে সরকারি দল অস্বীকার করেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৫ আসনের এমপি শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক। ঘরে ও বাইরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সবার দায়িত্ব। সরকারি দল যারা আছেন তাদের প্রধান দায়িত্ব। বিরোধী দলের দায়িত্ব জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করা।

শফিকুর রহমান বলেছেন, ইতোমধ্যে জাতীয় জীবনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যে জুলাই আজকে পরিবেশ দিয়েছে, সেই জুলাই নির্বাচন দিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বলছে, ‘জনগণ তাদের ৫১% ভোট দিয়েছে’। কিন্তু সংবিধানের যেসব আইনের কারণে এতদিন জনগণ অধিকারহারা ছিল, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সেই জায়গাগুলো সংস্কারে গণভোটে জনগণ ৬৮ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, গণভোটে জামায়াতজোট যেভাবে হ্যাঁ ভোট চেয়েছে, তারেক রহমানও সেভাবে চেয়েছিলেন। বিএনপির পক্ষে সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটের প্রস্তাব করেছিলেন। তাতে জামায়াতসহ অন্যরা সমর্থন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর তাঁরা বদলে গেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।  এখন বলছে, সংবিধানে সংস্কারের কথা নেই! সংবিধানে সংস্কারের কথা না থাকার পরও ৩১ দফায় লিখেছিলেন কীভাবে? গণভোট চাইলেন কেন? হ্যাঁ ভোটে জনগণকে আহ্বান জানালেন কেন? এসব দ্বিচারিতা। নিজেদের ওয়াদার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার, অগ্রাহ্য ও অপমান করা।

বিরোধীদল রাজপথে যাবে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, আশা করেছিলাম সংসদ গণভোটের ফল গ্রহণ করবে। সংসদে গ্রাহ্য না হওয়ায়, জনগণের দাবির কথা নিয়ে জনগণের সাথে একাত্ম হয়েছি।

শফিকুর রহমান বলেন, ইরানে  ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্বর আক্রমণে বিশ্বে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানির উপর প্রভাব পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দেখেছেন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হাজারো গাড়ির মিছিল তেলের জন্য। অথচ বিষয়টি যখন সংসদে আমরা জানতে চেয়েছি, তখন এমনভাবে বিবৃতি দিয়েছে সরকার, যেন বাংলাদেশ তেলের উপর ভাসছে।

সরকারকে সতর্ক করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কিছু লোক যারা সরকারকে তেল দেয়, তারা সংকটটি দেখতে দিচ্ছে না। অতীতে অনেকে এই তেলে পিছলে কোমড় ভেঙেছে। চাই না তারা দেশকে নিয়ে কোনো বিপদে পড়েন। জ্বালানি সংকট নিয়ে বহুদলীয় সংলাপ হোক।

জামায়াতের মিরপুর পূর্ব থানার আমির শাহ আলম তুহিনের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

ভালো রাজনীতি ছাড়া ভালো অর্থনীতি সম্ভব নয়

দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে ভালো রাজনীতি এবং অর্থনীতি প্রয়োজন। দুইয়ের সম্পর্ক যমজ ভাইয়ের মতো। একে অন্যের পরিপূরক। ভালো রাজনীতি ছাড়া ভালো অর্থনীতি সম্ভব নয়। আবার ভালো অর্থনীতি ছাড়া ভালো রাজনীতির নজিরও পৃথিবীর কোথাও নেই। এই দুইয়ের অভাবেই দারিদ্র্য ও বৈষম্য তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বাংলাদেশ ও নেপাল এ বাস্তবতার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। নতুন বাস্তবতায় রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে জেন-জির (জেনারেশন জেড) নেতৃত্বে আবার গণঅভ্যুত্থান হতে পারে।

নেপালের রাজনীতিক এবং দেশটির প্রথম বিলিয়নিয়ার বিনোদ কে চৌধুরীর লেখা বই ‘মেইড ইন নেপাল–লেসন ইন বিজনেস ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব এভারেস্ট’-এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের প্রতিনিধি, রাজনীতিক, কূটনীতিক, উদ্যোক্তারা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। ঢাকার বনানীর হোটেল প্লাটিনাম গ্র্যান্ড হোটেলে এ আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ-আইসিসিবি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। নেপালের রাজনীতি, ব্যবসা–বাণিজ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ও এ দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং প্রতিবন্ধতা–এসব বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিনোদ কে চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান ও ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। আইসিসিবির সহসভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানসহ বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বিনোদ কে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালে কাছাকাছি সময়ে সরকার পরিবর্তন আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা বিএনপিকে এক ধরনের জনসমর্থন দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিনোদ কে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল আরও বড় পরিসরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চায়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন না করলে তা সম্ভব নয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, রাজনীতিতে অবস্থান যা-ই থাকুক না কেন, সম্পদ বৃদ্ধি, উন্নত ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য দূরবর্তী কোনো দেশের চেয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ট্রানশিপমেন্ট চালুর বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।
মূল বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে ভালো রাজনীতি ও অর্থনীতি প্রয়োজন। এই দুইয়ের সম্পর্ক পরস্পর যমজ ভাইয়ের মতো। ভালো রাজনীতি ছাড়া ভালো অর্থনীতি সম্ভব নয়, আবার ভালো অর্থনীতি ছাড়া ভালো রাজনীতি কোনো দেশে নেই। এই দুইয়ের অভাবেই দারিদ্র্য ও বৈষম্য তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
আইসিসিবি সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক কারণে সার্বিক অর্থনীতি এখন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। কঠিন চ্যালেঞ্জের পরিবেশেও কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান দিকনির্দেশনা রয়েছে বইটিতে। ধৈর্য্য, উদ্ভাবনী ধারণা, পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে এতে। ফলে বইটি উদীয়মান উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

বিনোদ কে চৌধুরী নেপালভিত্তিক সিজি গ্রুপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান। তিনি নেপালের প্রথম এবং একমাত্র বিলিওনিয়ার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। পর্যটন, হোটেল, রিসোর্ট ও আতিথেয়তা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শিল্পে বিশ্বের ৩৫টি দেশ তাঁর গ্রুপে বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশে তাঁর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াই ওয়াই নুডলস’ অনেক ধরে এ দেশের বাজারে রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি বিওয়াইডিতেও বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। বিনোদ কে চৌধুরী নেপালের সাবেক সংসদ সদস্য। ছিলেন নেপাল চেম্বারের সভাপতি।

৩০ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে হামের টিকাদান শুরু

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশের ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে নির্ধারিত ২১ মে পর্যন্ত।

ঢাকার নবাবগঞ্জে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসূচির সূচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রথম ধাপে ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। আগে যারা নিয়মিত টিকা পায়নি, তারাও এই কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবে। এমনকি যারা ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছে, তারাও ঝুঁকি বিবেচনায় পুনরায় এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

vaccination 1775363709

টিকা নিতে কেন্দ্রগুলোতে এসে আগে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এমআর টিকার একটি ডোজ নেওয়ার এক মাস পর শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা নেওয়া যাবে।

এদিকে, যেসব শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে, তাদের টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে, যাতে জটিলতা কমানো যায়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে ট্রাম্প

চুক্তি করার জন্য ইরানকে সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নরকের দরজা আপনাদের জন্যই খুলে যাবে।’

ইরানের সামরিক কমান্ডের এই জবাব মূলত একদিন আগে ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানের ওপর নরক নেমে আসবে (রূপক অর্থে- কঠোর হামলা)।

ভূপাতিত বিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের তথ্য জানানোর পর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প তাঁর আগের এই হুমকির পুনরাবৃত্তি করেছেন। লিখেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দশদিন সময় দিয়েছিলাম। সেই সময় ফুরিয়ে আসছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। এরপরই তাদের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবারের এই নতুন পোস্টের জবাবে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীআবাদি বলেছেন, এসব হুমকি ‘অসহায়ত্ব, স্নায়বিক, ভারসাম্যহীন এবং মূর্খতাসুলভ কাজ’। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আলীআবাদি বলেন, ‘আপনাদের জন্যই নরকের দুয়ার খুলে যাবে।’

এদিকে রোববার কুয়েত ও ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের নতুন দফার হামলা প্রতিহত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করছে। আর বাহরাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ইরানি আগ্রাসনে’ তাদের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে।

এখন থেকে নববর্ষে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে যে শোভাযাত্রা হয়, সেটি এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এর আগে, গত বছর পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। তার আগে এটি ছিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণসহ অন্যান্য সকল আয়োজন থাকবে। চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়, তার যে যে বৈশিষ্ট্য আছে, সবই থাকবে।’

ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেবেন?

ইরান যুদ্ধে নুতন মোড়, ট্রাম্প চীন যাওয়ার আগেই হয়তো যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেবেন। বলবেন, আমাদের টার্গেট অর্জন হয়েছে, রেজিম পরিবর্তন হয়েছে, আলী খামেনীসহ উর্দ্ধতন কর্তারা নিহত হয়েছেন, এখন যারা আছেন তারা ততটা খারাপ না? ইরান এখন আর নিউক্লিয়ার হুমকি নয়, ওদের বিমান, নেভি, মিলিটারি ধ্বংস হয়েছে। ইরানের উঠে দাঁড়াতে পঁচিশ বছর সময় লাগবে। হরমুজ প্রণালী যাঁরা ব্যবহার করে তারা ব্যবস্থা নিক, আমাদের দায় নেই? মুখ্যত: যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সেনা নামবে না, কারণ মৃত্যু’র ঘটনা বাড়বে। আমেরিকানরা তাঁদের সেনার মৃত্যু পছন্দ করেনা। এটি গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে ভোট দরকার। ট্রাম্প হয়তো আর রিস্ক নিতে চাইবেন না! ইসরাইল যুদ্ধ চালিয়ে যাবার পক্ষে, এদের ধারণা ইরান ভেতর থেকে ভেঙ্গে পড়ছে। আমেরিকা ও ইসরাইলের খবর বিশ্ববাসী জানলেও ইরানের ভেতরের খবর অজানা। ইসলামী ও কম্যূনিষ্ট শাসন ব্যবস্থায় সবকিছু গোপন থাকে। ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে প্রায় ৩০হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমেরিকায় এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইউ-টিউবার-রা সবাই ট্রাম্পকে ধুয়ে দিচ্ছে, একজনও কিন্তু গ্রেফতার হচ্ছেনা, সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে কঠিন কঠিন প্রশ্ন করছে, ইরান বা মুসলিম বিশ্বে বা ক্যমুনিষ্ট বিশ্বে এসব অচল। এজন্যেই আমেরিকা ইজ গ্রেট। তবে যুদ্ধ বন্ধের আগে ট্রাম্প হয়তো ইরানের বারোটা বাজিয়ে দেবেন।

 

পূর্ববর্তী খবর: দ্রৌপদী’র সন্মান রক্ষায় মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিলো। হেলেন-র জন্যে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিলো। শুধুমাত্র অষ্টাদশী মালেকা আজিজি’র জন্যে ইরান ধ্বংস ধ্বংস হওয়া দরকার। মাশা আমিনীর প্রসঙ্গ নাই বা টানলাম। আমার এই পোষ্টে একজন লিখলেন, আপনি মুসলিম বিরোধী। আর একজন লিখলেন, কিছু মানুষ আছে যারা চায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো গাজায় পরিণত হোক। গাজার প্রসঙ্গ প্রথম এলো, হামাস ৭ই অক্টবর ২০২৩ রাতের আঁধারে ইসরাইলে এক জলসায় আক্রমণ করে হাজার খানেক ইহুদিকে নির্মমভাবে হত্যা করে, এবং প্রায় ৫শ’ জনকে অপহন করে নিয়ে যায়। ইসরাইল গাঁজা আক্রমন করে, হামাস এখন নিখোঁজ, গাজা হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখানে দোষ কি ইসরাইলের না হামাসের? ইসরাইল বা যেকোন রাষ্ট্রই কি তা করতো না?

 

পাকিস্তান যত মুসলমান হত্যা করেছে, কোন রাষ্ট্র বা অমুসলমানরা তত মুসলমান হত্যা করেনি। বাংলাদেশে প্রায়শ: কোরান অবমাননার জন্যে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা হয়, অনেক হিন্দু ছেলেমেয়ে এখন জেলে। অথচ বাংলাদেশের হিন্দু কোরান অবমাননা করেনা, নবীর অপমান করেনা, মুসলমানরাই একাজ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালাতে। যেমন কুমিল্লায় ইকবাল হনুমানের কোলে কোরান রেখেছিলো। ১৮টি জেলায় বাড়ীঘর পুড়েছে হিন্দুর, ৩জন নিহত হয়েছে। ভালুকায় ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ দিপু চন্দ্র দাশকে ইসলাম অবমাননার অজুহাতে পিটিয়ে মেরে আগুন জ্বলিয়ে দেয়া হলো, জনতা ‘আল্লাহুআকবার’ রব দিয়ে উল্লাস করছিলো, অথচ বেচারা ইসলাম অবমাননা করেনি। এনিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ হয়েছে, মুসলমানদের তেমন প্রতিবাদ দেখিনি!

 

ইরাক যুদ্ধের সময় আমি মিডিয়ায় অনবরত লিখেছি। তখনও লিখেছিলাম ইরাক শেষ, তখনও কিছু মানুষ আমাকে ‘মুসলিম বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিলো। ইরাক কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আসলে এই লোকগুলো ভাবে ‘আবাবিল পাখি’ এসে আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে। এঁরা ডিগ্রিধারী, দু’জনকে আমি চিনি, ভদ্র, ক্লিনশেভ, আমেরিকায় থেকেও ইরানকে জেতানোর জন্যে মরিয়া, এঁরা এযুগে বাস করে, মানসিকতা ১৪শ’ সাল আগের। বাংলাদেশের মিডিয়ায় দেখবেন ইরান এযুদ্ধে জয়ী হয়ে গেছে, হোয়াইট হাউস মোল্লাদের দখলে, নেত্তনাহু’র জন্যে ফাঁসির দড়ি রেডি। এদের আপনি কি বলবেন? অথচ এ যুদ্ধে আমেরিকার ৭জন সৈন্য মারা গেছে, ইসরাইলের ২জন, ইরানের সংখ্যাটি কত? ইরান ফাইট দিচ্ছে, এটুকুই যথেষ্ট। আমেরিকা একই পুরো পৃথিবী বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। ইসরাইল একাই ইরানের জন্যে যথেষ্ট। কিন্তু কে শুনে কার কথা?

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যে এপ্রিলে চীন যাচ্ছেন, যুদ্ধ এরআগে শেষ হতে হবে, পাকিস্তানে আলোচনা চলছে, মানলে ভাল, নইলে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। ইরান জনগণের ভাল চাইলে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে যাওয়া উচিত। হুতি ইসরাইলে আক্রমন করলেও কিচ্ছু আসে-যায়না, ভুল গেলে চলবে না, ইসরাইল একাই ৭টি আরব দেশের সাথে যুদ্ধ করে জিতেছে। তখন প্রায় সকল আরব দেশ ইসরাইলের বিপক্ষে ছিলো, এখন প্রায় সবাই ইরানের বিপক্ষে। সৌদি আরব ও আরব-আমিরাত ইরানকে ধ্বংস করার আহবান জানিয়ে রেখেছে। ইরান ইসরাইলের শত্রু, মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো মুসলিম দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু। ইরান নির্বিকারভাবে এর জনগণকে হত্যা করছে, অথচ বাংলাদেশিরা সন্ত্রাসী ইরানী সরকারের পক্ষে, এরাই আবার শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। স্বৈরাচার কি শেখ হাসিনা না সন্ত্রাসী ইরান সরকার?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক,
৩১ মার্চ ২০২৬

আরও পাঁচবার জেলে পাঠান, আদালতকে কেন বললেন রাজপাল

চেক বাউন্স ও প্রায় ৯ কোটি টাকার দেনা সংক্রান্ত মামলায় আইনি জটিলতায় পড়েন বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। এ ঘটনায় তাকে তিহার জেলে পাঠানোর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ২ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট মামলার রায় সংরক্ষণ করেছেন। শুনানির সময় আদালতে আবেগঘন বক্তব্যও দেন এই অভিনেতা।

মামলার শুনানি করেন বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মা। বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়ে রাজপাল যাদবের অবস্থান বারবার পরিবর্তন হওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অঙ্গীকারপত্রে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা আদালতে বলেন, রাজপাল যাদব ইতিমধ্যে সাজা মেনে নিয়েছেন, তাই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে দায়ের করা পুনর্বিবেচনা আবেদনে ১,৮৯৪ দিনের বিলম্ব ছিল, যার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আইনজীবীর ভাষ্য, সাজা ভোগ করলেও আর্থিক দায় থেকে মুক্তি মেলে না। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়।

শুনানির সময় আদালত দুই পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে। অভিযোগকারী পক্ষ পূর্ণ নিষ্পত্তি হিসেবে ৬ কোটি টাকা নিতে রাজি হলেও, সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি রাজপাল যাদব।

ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে তিনি আদালতকে জানান, ইতিমধ্যে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাঁচটি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে আদালতে রাজপাল যাদব বলেন, ‘দয়া করে আমাকে আরও পাঁচবার জেলে পাঠান।

জাল দিয়ে নাকি প্যাকেটসহ দুধ ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন? জেনে নিন

দুধ অনেকেরই পছন্দের একটি খাবার। কেউ আবার চা বানাতে বা কনফ্লেক্স খেতে প্রতিদিন দুধ ব্যবহার করেন। এ কারণে অনেকে প্রতিদিন প্যাকেটজাত দুধ কিনে রাখেন। তা ছাড়া নিয়মিত দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো। হাড় ও পেশি স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই খাদ্যের জুড়ি নেই। তবে সমস্যা দেখা দেয় প্রতিদিন দুধ কেনা এবং তা সংরক্ষণ করা নিয়ে।

যারা খাবার তৈরিতে নিয়মিত দুধ ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে অনেকেই একসঙ্গে ২-৩ প্যাকেট দুধ কিনে ফ্রিজে রাখেন। দুধ পচনশীল। এ কারণে না ফুটিয়ে রাখলে দুধ কেটে যায়। আবার প্যাকেটসহ বেশিদিন সংরক্ষণ করলে তার টেক্সচার ও স্বাদ বদলে যায়। এখন যেহেতু গরম বাড়ছে, তাই দুধও ঠিকমতো সংরক্ষণ করা জরুরি।

দুধ ফ্রিজে রাখা কি ঠিক?

আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের দুধ পাওয়া যায়। কোনওটায় ফ্যাটের পরিমাণ কম, আবার কোনওটা ফুল ফ্যাট মিল্ক। এই ধরনের দুধ সহজেই ফ্রিজে রাখতে পারেন। টোন্‌ড, ডবল টোন্‌ড এবং ফুল ক্রিম মিল্ক—প্রায় সব ধরনের দুধই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। তার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন-

যেভাবে ফ্রিজে দুধ রাখবেন

প্রথমে দুধটা ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা হতে দিন। দুধ একদম ঘরের তাপমাত্রায় চলে আসার পরে ফ্রিজে রাখুন। ডিপ ফ্রিজের নীচের যে ট্রে রয়েছে,সেখানে দুধটা ঢেকে রাখতে পারেন।

প্যাকেটসহও দুধ ফ্রিজে রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে প্যাকেটটা ভালো করে ধুয়ে নিন। তার পরে তা ডিপ ফ্রিজের তলায় যে ট্রে রয়েছে সেখানে রাখুন। ডিপ ফ্রিজেও রাখতে পারেন। এতে দুধ ভালো থাকবে।

ফ্রিজে কত দিন পর্যন্ত দুধ ভালো থাকে?​

দুধ সব সময়ে জাল দিয়েই ফ্রিজে রাখা ভালো। এ ক্ষেত্রে দুধ ১ দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা যাবে না। তা না হলে দুধে ছত্রাক জন্মাবে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে।

প্যাকেটজাত দুধ বেশ কিছু দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখতে পারেন। এক্সপায়ারি ডেট দেখে ফ্রিজে রাখুন। ওই তারিখের মধ্যে দুধ খেয়ে নিন।

আর কীভাবে দুধ সংরক্ষণ করবেন?

মাটির পাত্রে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সবচেয়ে ভালো থাকে। এ ছাড়া যে কোনও পাত্রে দুধ যায়। রান্নাঘর বা বাড়ির এমন জায়গায় দুধ রাখুন, যে অংশটা খুব ঠান্ডা। খাটের নিচে রাখতে পারেন।

দুধ ফুটিয়েও সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রথমে দুধ জাল দিয়ে নিন। তার পরে সেটি ঘরের তাপমাত্রা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিন। তার উপর দুধের পাত্র বসিয়ে দিলে দুধ ভালো থাকে।

দুধের প্যাকেট পানিভর্তি পাত্রে ডুবিয়ে বা ভিজে তোয়ালে মুড়ে রাখতে পারেন।

ঝুলে আছে ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ, নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার ভাগ্যে কী আছে? তিনি কি থাকছেন নাকি লাল-সবুজের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন মুখ? এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ বাফুফে ভবনে বসেছিল ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা। জানা গেছে, ক্যাবরেরার ওপর বাফুফের একচ্ছত্র আস্থা আর নেই। আগামী ৩০ এপ্রিল চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই স্প্যানিশ কোচের বিকল্প খুঁজতে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে ফেডারেশন।

সভা শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, ‘৩০ এপ্রিল ক্যাবরেরার সাথে আমাদের চুক্তি শেষ হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখন থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছি। আমরা উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কোচের সাক্ষাৎকার নেব।’

তবে ক্যাবরেরার জন্য দরজা একেবারে বন্ধ করেনি বাফুফে। তিনি যোগ করেন, ‘ক্যাবরেরা চাইলে তিনিও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। সবার সিভি যাচাই করে আমাদের কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কে হবেন পরবর্তী দুই বছরের কান্ডারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাফুফের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নেই। আমরা বিভিন্ন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করছি। যার প্রোফাইল সবচেয়ে ভালো হবে এবং যিনি আমাদের খেলোয়াড়দের দ্রুত বুঝতে পারবেন, তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে।’

পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, ক্যাবরেরার অধীনে গত চার বছরে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা মোট ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টি ম্যাচে, ড্র হয়েছে ১০টিতে এবং হারতে হয়েছে বাকি ১৯টি ম্যাচে। তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয় ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে।  সেই টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর পাশাপাশি দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেমিফাইনালে ওঠার দারুণ এক স্মৃতিও দলকে উপহার দিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দল নির্বাচন এবং স্কোয়াড গঠন নিয়ে তাকে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে তাকে নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল।

কোচ নিয়োগের পাশাপাশি আগামী জুনের ফিফা উইন্ডো নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়। বাফুফের লক্ষ্য জুনে থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করা। এর জন্য জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২৩ দলকেও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুনের ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে এখন থেকেই খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রাখার পরিকল্পনা করছে ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

শুধু হেড কোচ নয়, বাফুফে এখন একজন গোলকিপিং কোচ নিয়োগের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মেয়াদে একজন দক্ষ গোলকিপিং কোচের খোঁজও আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে।