Home Blog Page 134

২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকি চায় বিদ্যুৎ বিভাগ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযুক্ত হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। আরও ২ হাজার কোটি টাকা করে অতিরিক্ত চাওয়া হয়েছে।
নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ অর্থ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন উৎপাদন ইউনিটগুলোর বকেয়া পরিশোধ এবং প্রাথমিক জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়াসহ ভর্তুকি বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে ইতোমধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী অতিরিক্ত ভর্তুকি অনুমোদিত হলে মাসিক ব্যয় দাঁড়াবে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এতে পুরো অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি জোগান দেওয়া কঠিন। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়ায় বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন বাড়ছে ভর্তুকির চাপ
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০-এর আওতায় প্রতিযোগিতাহীনভাবে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় এবং উৎপাদন না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মতো শর্ত যুক্ত হওয়ায় ভর্তুকির চাপ দ্রুত বেড়ে যায়। এ কারণে এক পর্যায়ে বাজেট থেকে শুধু বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপরীতে ভর্তুকি দেয় অর্থ বিভাগ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই ভর্তুকি হিসেবে সরকারকে বহন করতে হয়। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কেন্দ্রগুলোর

বিপরীতে ভর্তুকি না দেওয়ায় এ খাতে বকেয়া দায় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন এ অধ্যাদেশের নাম ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগের আইনের অধীনে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে সরকার। তবে কোনো কেন্দ্র থেকে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে বলে মনে হলে, সেই দাম পুনর্বিবেচনা করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

তারা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে কয়েকটি বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের কারণে সে উদ্যোগ অগ্রসর হয়নি। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে পারলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে।

নিজস্ব কেন্দ্র ভর্তুকির আওতায় আনার প্রস্তাব
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইপিপি, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি করে কম দামে বিক্রি করায় বিপিডিবি ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। একইভাবে জিটুজি ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্র, পটুয়াখালীর ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, মাতারবাড়ীর আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্রসহ সরকারি ও বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় ক্ষতি বাড়ছে।

এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম ২০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ২ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় আরও বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নেপাল থেকে আমদানির ক্ষেত্রে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য মোট ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন, যা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ আমদানি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কেন্দ্রে ব্যয় হবে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ‘পিক ডিমান্ড’ মোকাবিলায় ২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে এবং আইপিপি ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধে বিলম্ব হবে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে বর্তমান আর্থিক সংকোচন নীতির মধ্যে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি জাতীয় বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম সমকালকে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা সরকার থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। গত ১৫ বছর ধরে এই খাতে যে ব্যাপক লুণ্ঠন হয়েছে, তা বন্ধ করতে পারলেই বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, অতীতে সরকার লুণ্ঠনকারী ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করেছে বলেই তারা সুবিধাভোগী হয়েছে। বর্তমান সরকারের একই পথে হাঁটার কোনো কারণ নেই।
সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে গিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে পড়ছে এবং বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। প্রতিদিন জনগণের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন সরকারের জন্য সময়ের দাবি।

সংকট মোকাবিলায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণের চিন্তা
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। এলএনজির বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১০০ ডলারে উঠেছে। আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুন পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।
জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত।

তারা জানান, জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এ কারণে সরকার আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও এআইআইবির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে চাইছে। আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে। সামনের মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

‘তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব!’

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রাণ হারানো ১৮ বাংলাদেশির একজন শহীদুল ইসলামের খালাতো ভাই আলী আহমদ (২২)। ভয়াবহ এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন রোহান আহমেদ। ২৫ বছরের এই যুবকের মাধ্যমে শহীদুল জেনেছেন সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর বর্ণনা।

তিনি বলেন, ‘কাতার থেকে আমার এক ভাই গ্রিসে ফোন দিয়ে ঘটনার সব তথ্য সংগ্রহ করে। দিরাই উপজেলার রোহান নামের যে ছেলেটি জীবিত ফিরেছে, সে জানিয়েছে, গেমের (ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা) বোট ছাড়ার পর পথ হারিয়ে ফেলে। বোটে এক দালাল জসিমের শ্যালক ছিলেন। দুই দিনে পৌঁছানোর কথা; কিন্তু এর মধ্যে তিন দিন তিন রাত সাগরে ভাসতে ভাসতে না খেয়ে প্রথমে মারা যায় জসিমের শ্যালক। বোটের চালক লাশ সাগরে ফেলতে দেননি। পরে একে একে আরও কয়েকজন মারা যায়। এবার তাদের সবার লাশ সাগরে ফেলে দেয় অন্যরা।’

শহীদুল বলেন, ‘ক্ষুধার যন্ত্রণায় এবং বোটে থাকা জসিমের মরদেহের গন্ধে একসময় আমার খালাতো ভাই আলী মারা যায়। তখনও বোটে ছিল আমার এক ভাগনির জামাই নাঈম। সে আলীর মরদেহ ফেলার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে– আমি তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব রে! বোট তীরে পৌঁছানোর ঘণ্টা দুয়েক আগে নাঈমও মারা যায়। অথচ দালাল আজিজুল ফোন দিয়ে বলেছিল, সবাই পৌঁছে গেছে।’

এই বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদুল ইসলাম। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন দিরাই উপজেলার, পাঁচজন জগন্নাথপুর উপজেলার এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার। প্রথমে জানা গিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন। পরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। তারা হলেন– করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস।

শহীদুল ছাড়াও নিহত অন্যদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দালাল আজিজুল ইসলাম এবং দুলাল মিয়ার কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

দালাল বলেছিল ‘গেম সাকসেস’

আজিজুলের বাড়ি জগ্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামে। তিনি লিবিয়ায় থাকেন। এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠান আজিজুল। তার খপ্পরে পড়ে ভাইকে হারিয়েছেন ইছগাঁওয়ের শহীদুল। তিনি বলেন, ‘আজিজুলের মাধ্যমে অনেকে সাগরপথে গ্রিস-ইতালি গেছে। আমার আরেক ভাই তিন মাস আগে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে গ্রিসে পৌঁছায়। গেম দেওয়ার আগে যাদের পাঠানো হবে, তাদের মধ্য থেকেই দুই-একজনকে বোট চালানো শেখানো হয় এবং ম্যাপ অনুসরণ করে বোট চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ানো হয়। এই যাত্রায় আজিজুল বলেছিল, সবাইকে বড় বোটে ছাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ফোন দিয়ে জানায়, বড় বোট হচ্ছে না, ছোট বোটে গেলেও সমস্যা হয় না। এরপর গেম দেওয়ায়। পরে আজিজুল ফোন দিয়ে জানায়, গেম সাকসেস হয়েছে।’

প্রাণহানির খবর জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার বিকেলে শহীদুলকে ফোন করেন আজিজুল। এ ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘যা হওয়ার হয়েছে, সবই তকদিরে ছিল। আমারে মাফ করে দিও। যাদের দুর্ঘটনা ঘটছে, আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেব।’ শহীদুল বলেন, ‘এখন আর আজিজুলকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।’

আখলুছের স্বপ্ন ডুবল সাগরে

আজিজুলের পাল্লায় পড়ে ছেলে শায়েক আহমদ জনিকে (২৫) হারিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়া। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সংসারের অভাব দূর করবেন, একটু সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে। মাত্র চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন শায়েক। দালালের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে কয়েকটি দেশ মাড়িয়ে পৌঁছান লিবিয়ায়। সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই ও মিসর পাড়ি দিয়ে তার এই যাত্রায় ছিল অনিশ্চয়তা। তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সব কষ্ট সহ্য করছিলেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। সেখান থেকে ইউরোপ যেতে অবৈধ সাগরপথে পাড়ি দেওয়ার জন্য আবারও সাড়ে সাত লাখ টাকা দাবি করে দালালরা। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেন আখলুছ মিয়া।

গত ২০ মার্চ ছিল পরিবারের সঙ্গে শায়েকের শেষ কথা। ফোনের ওপারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি গেম ঘরে (যেসব জায়গায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রাখা হয়) অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, মারধর আর অমানবিক পরিবেশে দিন কাটছে তাঁর। অসহায় কণ্ঠে বাবাকে অনুরোধ করেন, ২৩ মার্চের মধ্যে যদি গেম না হয়, তাহলে যেন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। না হলে তিনি আর বাঁচতে চান না।

শায়েকের স্বজন এবং পাশের ইছগাঁওয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইছগাঁওয়ের মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল প্রায় ১০ ধরে লিবিয়ায় আছেন। জগন্নাথপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে দেশে থাকা আরও কিছু দালালের মাধ্যমে মানব পাচার করেন তিনি। গ্রিস, ইতালি ও লিবিয়ায় যাওয়ার লোভে অনেকেই তাকে টাকা দিয়েছেন। কেউ যেতে পেরেছেন, কেউবা টাকা খুইয়েছেন। জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আজিজুলের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

‘তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও’

আলী ছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার নিহত অন্য যুবকরা হলেন– চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২) ও পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের সাবেক শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬)।

গতকাল দুপুরে ইমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা আকি বেগম আহাজারি করছেন। তাঁর আহাজারি দেখে কাঁদছেন অন্য স্বজনরাও। আকি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে দালাল মেরে ফেলেছে, তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও।’

নাঈমের বাবা দুলন মিয়া বলেন, ‘আজিজুল ইসলামের সঙ্গে গ্রিসে পাঠানোর জন্য ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জানুয়ারি মাসে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর গেম দেওয়ার কথা বলে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে দালাল। দাবির টাকা পরিশোধ করার পরও গ্রিসে পাঠাতে টালবাহানা করে। অবশেষে ২১ মার্চ গেম দেওয়া হয়। কথা ছিল গেম দেওয়ার আগে আমাদের জানানো হবে। কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। শনিবার জানতে পারি, আমার ছেলে মারা গেছে।’

ইজাজুল জানিয়েছিলেন দালাল খাবার দিচ্ছে না

ইজাজুল হক রেজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এলাকার লোকজনের ভিড়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ইজাজুলের পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ইজাজুলের বাবা সামছুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছাতকের শক্তিগাঁও গ্রামের দুলাল মিয়ার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তিন মাস আগে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখান থেকে গ্রিসে পাঠানোর কথা ছিল। সব টাকা পরিশোধ করা হলেও গ্রিসে পাঠানোতে কালক্ষেপণ করতে থাকে দালাল। আমার ছেলে ঈদের আগে ভয়েস কলে জানায়, দালাল খাবার দিচ্ছে না। বড় কষ্টে আছে। দোয়া করতে বলেছে। এরপর আমার ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। আমরা দালালের সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। এখন শুনি আমার ছেলে মারা গেছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের একই গ্রামের দুই যুবক সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পুরো গ্রামের মানুষ শোকাহত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে দালাল চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দিচ্ছে। তাদের ফাঁদে দেশের হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। দ্রুত সব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বাবার নিষেধ অমান্য করে মৃত্যুপুরীতে ময়না

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিপদসংকুল পথে পাড়ি জমিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবার জানায়, উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ময়না। তবে সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

আবু সর্দার বলেন, ‘লিবিয়া যাওয়ার পর আমি তাকে দুইবার নিষেধ করেছিলাম যেন এভাবে ঝুঁকি না নেয়। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেই সে এই পথে গেছে।’

নুরুজ্জামানের বড় ভাই হেলাল সর্দার বলেন, ‘গত ২২ মার্চ আমার ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সে জানায়, তারা সেদিনই নৌকায় উঠবে। পরে আমাদের গ্রামের একই নৌকার এক যাত্রী রোহান জানায়, আমার ভাই মারা গেছে।’

ফাহিম ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান

দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমের (২০) স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাবেন। বুকভরা আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর পরবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডুবেছে সাগরে। ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাহিম। তাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা। হেলেনা বেগম বারবার বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বুকের ধনকে আমি আর ফিরে পাব না, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।’

কাউকে না জানিয়ে লিবিয়া চলে যান আমিনুর

পাইলগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান তাঁর ছোট ভাই আমিনুর রহমানের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সে আমার ছোট। দালালের মাধ্যমে বিদেশ যেতে আমাদের পরিবারের কেউ রাজি হবে না বুঝতে পেরে কাউকে না জানিয়ে লিবিয়ায় চলে যায়। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক মাস আগে জানতে পারি সে লিবিয়ায়। সর্বশেষ ঈদের দিন আমার ভাই আব্বা-আম্মার সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর আর কথা হয়নি। শনিবার আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’

আব্দুল কাদির প্রাণে বাঁচলেও দুশ্চিন্তায় পরিবার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন প্রতিনিধি জানান, সাগরপথে গ্রিসে যাত্রা করেছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের যুবক আব্দুল কাদির (২৬)। তিনি উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাবিয়ানগর গ্ৰামের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে থাকা ২২ জন প্রাণ হারালেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। বাড়িতে তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।

আব্দুল কাদিরের মা আম্বিয়া বেগম জানান, বাড়ির জমি ও বাসস্থানের জায়গা বিক্রি করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ টাকা খরচ করে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তাঁকেসহ জীবিত কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আব্দুল কাদির প্রাণে বেঁচে ফিরলেও দুশ্চিন্তায় তাঁর পরিবার। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে সংগ্রহ করা এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় আম্বিয়া বেগম। অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কাদিরের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি।

দায়ীদের তথ্যানুসন্ধান করছে প্রশাসন

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিহতদের বাড়ি যাচ্ছেন তারা। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাওয়া হবে– কবে, কার প্ররোচনায় কত টাকার বিনিময়ে তারা গিয়েছিলেন। এই চক্রে কারা কারা জড়িত, এসব জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘কেউ বৈধ পথে যায়নি। এ কারণে তাদের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমরা তা প্রকাশ করব। হতাহতের বাড়ি বাড়ি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। আমরা জানতে চাইব, কাদের কাছে তারা টাকা দিয়েছেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, লেনদেন করেছেন, দালাল কী আশা দিয়েছে। তাদের ঠিকানা জানতে পারলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব।’

‘আমার সাড়ে ৩ বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল’

আমার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই। নির্দোষ মানুষটাকে কেন হত্যা করল? যারা মারিছে, তাদের ফাঁসি চাই। কেন আমার ছোট সন্তানডারে এতিম করল? এখন কাকে আব্বা বলে ডাকবে।’

কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আফিয়া খাতুন (২৭)। তিনি নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পাম্পের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করা নাহিদ সরদারের (৩৩) স্ত্রী। তাদের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লি গ্রামে। পাশের তুলারামপুর গ্রামে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ছিলেন নাহিদ। গতকাল রোববার সকালে নিহত নাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। স্ত্রী আফিয়া খাতুন, মা শিউলি বেগমসহ কয়েকজন আহাজারি করছেন। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাহিদের মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে। তাদের চারপাশ ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে তেল নিতে আসেন ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে না থাকায় তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লি যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পেছন দিয়ে এসে ট্রাকচালক সুজাত তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাহিদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাতে ফিলিং স্টেশনে থাকা কর্মী সোহান হোসেন বলেন, ‘ম্যানেজার নাহিদ কাকাকে সুজাত বলেছিল, তুই তেল না দিলে তোকে আজকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে দেব। তেল না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু ট্রাক নিয়ে তিনি পাম্পেই বসে ছিলেন। রাত ২টার দিকে ম্যানেজার বাসায় রওনা দিলে সুজাতও ট্রাক নিয়ে পেছনে যায়। তখন আমাদের কাছে খটকা লাগে। এগিয়ে যায়ে দেখি, সুজাত আমাদের ম্যানেজারের গাড়ির ওপর দিয়ে গাড়ি চালায় দিয়ে চলে গেছে। আমরা যেতে যেতে নাহিদ কাকা মারা যায়। আরেকজন ছিল, তার অবস্থা গুরুতর।’

ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে নিহত নাহিদের চাচা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর বিকেলেই অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলীকে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৬-এর একটি দল।

বকেয়া পরিশোধে ভাঙা হবে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাংক জামানত

বিপিএলের দল ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ব্যাংক জামানত নগদায়ন করে এ বকেয়া পরিশোধ করা হবে। ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস খেলোয়াড়দের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক জামানত নগদায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। গতকাল তিনি জানান, আজ দুপুরের মধ্যে ব্যাংক জামানত নগদায়ন করা হবে।

২০২৬ সালের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস ব্যর্থ হয়েছে। রোববার পর্যন্ত এ ফ্র্যাঞ্চাইজির বকেয়া ছিল তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। ক্রিকেটারদের কেউ কেউ চুক্তির মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের খেলা শেষ হওয়ার ৬৩ দিন পার হয়ে গেলেও বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজানুর রহমান। বিসিবি ব্যাংক জামানত থেকে ক্রিকেটারদের সম্মানী পরিশোধ করতে গেলে রিমার্কের ওই কর্মকর্তা বিসিবির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে লবিং করে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

মিঠু বলেন, ‘ঢাকার ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ করতে একটু দেরি হয়ে গেল। কারণ হলো নিয়মের ভেতরে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছি। লিগ শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব টাকা দেওয়ার কথা ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়মের ভেতরে থেকে সেটা করতে পারলেও ঢাকা ব্যর্থ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের থেকেও ১৫ দিন বেশি দেওয়া হয়েছিল তাদের। তারা পরিশোধ না করায় আমরা ব্যাংক জামানতের টাকায় খেলোয়াড়দের সম্মানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী লিগের খেলা শুরুর আগে ২৫ শতাংশ, ১০ জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ শতাংশ আর বাকি ২৫ শতাংশ খেলা শেষের ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হতো। ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার ও বিসিবির তথ্য অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর বেশির ভাগ ক্রিকেটারের ৭৫ শতাংশ বকেয়া রেখেছিল ঢাকা।

মিঠু বলেন, ‘ওয়ান ব্যাংকে দুই কোটি ও মিউচুয়াল ট্র্যাস্ট ব্যাংকে তিন কোটি টাকার জামানত আছে। সেগুলো কাল (আজ) নগদায়ন করে বকেয়া পরিশোধ করার পরও টাকা থাকবে। বেচে যাওয়া টাকা ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টসকে ফেরত দেওয়া হবে।’

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পদ ছাড়লেন আওয়ামী লীগ নেতা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী ছাবের আহমদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি দিলে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

রোববার সকাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী ছাবের আহমদের বিজ্ঞাপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তাকে “সুবিধাবাদী” হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অনেকেই বলছেন, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন বিএনপির ছায়াতলে ঢুকার কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি।

চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন বলেন, ‘২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার নেতাকর্মীদের চরম দমন পীড়ন করে ছাবের আহমদ। পুলিশ প্রশাসন ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও হামলা করেছিল। নির্বাচনের দিন অবৈধ ব্যালট মেরেছিল বিভিন্ন কেন্দ্রে। একপর্যায়ে বিজিসির হাতে হাতেনাতে শৌচাগার থেকে ব্যালট সহ ধরা পড়ে। কিন্তু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সেদিন আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল। গত এক দশক আমাদের নিপীড়ন করে এখন দলের পদ ছেড়েছে বিএনপির নেতাদের সমর্থন নিয়ে আবারও নির্বাচনে আসার জন্য। এসব সুবিধাবাদীদের দল প্রতিহত করবে।’

গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। নোটারী পাবলিকটি স্থানীয় একটি পত্রিকায় রোববার প্রকাশিত হলে তাকে নিয়ে উঠে আলোচনা সমলোচনার ঝড়। এরআগে ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার জুলধা এলাকার তেল শুক্কুর (আবদুল শুক্কুর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত হাজী ছাবের আহমদ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালিন চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত করতেন না পরিষদ। স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসাই প্রধান। এছাড়া তার একাধিক মাছ শিকারের জাহাজ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দেওয়া ও নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসার সুযোগ কম পেতেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিজ বাড়ি চরপাথরঘাটা গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকা খুলশীর নিজস্ব ফ্ল্যাটে।

২০১৬ সালে পশ্চিম চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাবের আহমদ চরপাথরঘাটার ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে আটকও হয়েছিলেন। এসময় শৌচাগার থেকে ৪০০ ব্যালট পেপার এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আরও ২০০ ব্যালট পেপার জব্দ করে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম।

হলফনামায় হাজী ছাবের আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। তবে এই পদটি তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিও করেননি বলেও দাবী করেন হলফনামায়।

অভিযোগের বিষয়ে হাজী ছাবের আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তির কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদত্যাগ করেছি। এখন এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সময় দিব। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না বলেও জানান তিনি।

পুরো একাদশ বদলেও কলম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

আসন্ন বিশ্বকাপের মহড়াটা দারুণভাবেই সেরে নিচ্ছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দলের নিয়মিত তারকাদের বিশ্রাম দিয়ে একেবারে ভিন্ন একাদশ মাঠে নামিয়েও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা।

আগের ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারানোর পর এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ১১টি পরিবর্তন আনেন ফরাসি কোচ দেশম। মূল লক্ষ্য ছিল দলের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখা। আর কোচের সেই আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন বেঞ্চের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ২৯ মিনিটে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অভিষেক গোলের দেখা পান দেজিরে দুয়ে। এরপর ৪১ মিনিটে মার্কাস থুরামের একটি বুলেট গতির হেড কলম্বিয়ার জালে জড়ালে লিড দ্বিগুণ হয় ফরাসিদের। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে কলম্বিয়াকে ম্যাচ থেকেই কার্যত ছিটকে দেন তরুণ মিডফিল্ডার দুয়ে।

ফরাসিদের জমাট রক্ষণভাগের সামনে পুরো ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন কলম্বিয়ার দুই মহাতারকা হামেস রদ্রিগেজ ও লুইস দিয়াজ। ৭৭ মিনিটে জন আরিয়াস কলম্বিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ দিকে বদলি হিসেবে ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামলেও অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দেশমের দল।

তরমুজের উপর লবণ ছড়িয়ে খাওয়া কি ভালো?

গরম পুরোপুরি পড়ার আগেই বাজারে তরমুজ এসে গেছে। স্বাদের কারণে এই ফলটি সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। অনেকে আবার স্বাদ বাড়াতে মাঝেমধ্যে তরমুজের উপর নুন, চাটমসলা ছড়িয়ে খান। এ ভাবে তরমুজ খাওয়া কি ভালো? এ বিষয়ে নানা তথ্য জানানো হয়েছে ভারতীয় অনলাইন ‘এই সময়ে’’র এক প্রতিবেদনে।

 তরমুজের স্বাদ বাড়ায়

এক চিমটে লবণ দিলে তরমুজের স্বাদ আরও বেড়ে যায়। ২০২৩ সালে ইলাইফ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবণের মধ্যে থাকা ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদের রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এর ফলে মিষ্টি ভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে লবণ তরমুজের প্রাকৃতিক মিষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটায়

তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি থাকায় এটি শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে। এতে শরীরের জন্য উপকারী পটাশিয়াম, মিনারেলও পাওয়া যায়। কিন্তু এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে। এই গরমে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তরমুজের উপর লবণ ছড়াতে পারেন। লবণে থাকা সোডিয়াম, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটে।

হজমে সহায়তা করে

লবণ পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে তরমুজ দ্রুত হজম হয়ে যায়। যদিও তরমুজ সহজপাচ্য। তাও অনেকেরই তরমুজ খাওয়ার পর পেট ফাঁপে। তরমুজে লবণ ছড়িয়ে খেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

কতটা লবণ ব্যবহার করবেন?
বেশি লবণ দিলে তরমুজের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করে। এক বাটি তরমুজের উপর এক চিমটে লবণ বা চাটমশলাই যথেষ্ট। লবণ ছাড়াও বিট লবণ, চাটমশলা এবং লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এতেও তরমুজের স্বাদ বাড়বে।

কৃষিতে নারী মজুরি পান ২৬% কম

অন্যান্য পেশার মতোই কৃষিতেও নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্য বেশ প্রকট। কৃষি কাজে একজন নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম। এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ এক জরিপ বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে যেখানে একজন পুরুষ কৃষি শ্রমিক দৈনিক ৬২৫ টাকা মজুরি পেয়েছেন, সেখানে একজন নারী কৃষি শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন মাত্র ৪৬২ টাকা। কৃষি শ্রমে নিয়োজিত ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী শ্রমিকের মজুরির মাঠচিত্র জানতে এ-সংক্রান্ত জরিপ করে থাকে বিবিএস। ‘শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রম মজুরি’ নামের এই জরিপ প্রতিবেদনটি গতকাল রোববার বিবিএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

জানতে চাইলে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিআইএলএসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মজুরির এই বৈষম্য মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃষিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতেই এরকম মজুরি বৈষম্য রয়েছে। কৃষি কাজে একে তো মজুরি কম, তার ওপর আবার বৈষম্য।

বরেন্দ্র অঞ্চলে ঘোষণা দিয়ে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক মজুরি দেওয়া হয় নারী শ্রমিককে। নারীর এই মজুরি বৈষম্যের কারণে সে পারিবারিকভাবে নিগৃহীত হয়। পুরষের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের এটা অন্যতম বড় কারণ। তিনি বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে একটা জাতীয় মজুরি কাঠামো গঠনের সুপারিশ করেছেন তারা। যাতে একজন শ্রমিক তার মজুরি দিয়ে পরিবার নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। এতে মজুরি বৈষম্য কমবে। এ ছাড়া শ্রমিকের একটা তথ্য ব্যাংক ও পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা এবং অন্তত জেলা পর্যায়ে শ্রম-সংক্রান্ত অভিযোগে প্রতিকার দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দিষ্ট দপ্তর প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছেন তারা, যাতে শ্রমিক তার যে কোনো বঞ্চনা জানিয়ে সহজেই প্রতিকার পেতে পারেন। এর আগে জারি করা শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশটি এখন জাতীয় সংসদে রয়েছে– এটি আইন আকারে পাস হলে মজুরি বৈষম্য কমতে পারে।

বিবিএস মাসিক ভিত্তিতে কৃষি মজুরির হারের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে। কৃষি মজুরির হার সংগ্রহের জন্য প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনা হিসেবে ১০ জন কৃষি দিনমজুরের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে উপজেলার কৃষি শ্রমের হার গণনা করা হয়। সব জেলার মজুরির হার পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি মজুরির হার গণনা করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ কৃষি কাজে নিয়োজিত। দেশের মোট শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা দুই কোটি ৩৭ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত আছে দুই কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার। ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস-সিএসআরএলের উপাত্ত বলছে, বাংলাদেশে কৃষি খাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭ ধরনের কাজেই গ্রামীণ নারীরা অংশগ্রহণ করে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীরা পুরুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি কাজ করে। তারপরও নারীদের শ্রম মূলত গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

জরিপ বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে তিন বেলা খোরাকির সঙ্গে একজন পুরুষ শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন ৫২৩ টাকা, যা নারী শ্রমিকের জন্য ছিল ৩৮৫ টাকা। অন্যান্য মাসেও প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ, এখনও মজুরির সঙ্গে তিন বেলা খোরাকি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে কৃষি কাজে। এক বেলা ও দুই বেলার রেওয়াজ আছে কোথাও কোথাও। তবে জরিপে এ ধরনের এলাকাভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়নি। অবশ্য, জরিপ বলছে, খোরাকি এক বেলা হোক অথবা তিন বেলা যাই হোক না কেন, মজুরি বৈষম্য সব ক্ষেত্রেই খাড়া।

জরিপে খোরাকিসহ মজুরি এবং খোরাকি ছাড়া মজুরির চিত্র আলাদা দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, খোরাকিবিহীন একজন কৃষি শ্রমিক গত ডিসেম্বর মাসে দৈনিক মজুরি পেয়েছেন গড়ে ৬২৫ টাকা, যা একজন নারী শ্রমিক পেয়েছেন ৪৬২ টাকা।

আগামী বাজেট হতে হবে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ

বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার— এই তিনের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে আগামী বাজেটের রূপরেখা। এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। বাজেট পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। বরং রাজস্ব আদায়ের বাস্তব সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম বিবেচনায় রেখে ব্যয় কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। গত শনিবার প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কর-রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও প্রাক্কলন প্রক্রিয়া উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার এখনও উন্নত নয় উল্লেখ করে একে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ চান তিনি।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত আশাবাদিতা পরিহার করে বাস্তব সক্ষমতার ভিত্তিতে রাজস্ব ও ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দেন তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, আলোচনায় সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আলোচনায় অংশ নেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমকালকে তিনি বলেন, আগামী বাজেটে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক খাতে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয়ও বাড়াতে হবে। কিন্তু এর বিপরীতে পর্যাপ্ত রাজস্ব থাকবে কিনা, সেটিই মূল প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিম্নমুখী থাকায় কর আহরণে চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সঠিক রাজস্ব কাঠামো ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়ন পরিকল্পনা জরুরি। নতুন বড় মেগা প্রকল্প নেওয়ার সময় এখন নয়, যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। আর কম অগ্রগতির প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজন হলে স্থগিত রাখা উচিত।

বাজেটের আকার নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বাজেট খুব বড় বা খুব ছোট— কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত সংকোচন হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে না, আবার বড় বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদও নেই। তাই বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যাংকনির্ভর ঋণ বাড়ালে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহারে সতর্কতা এবং জ্বালানি আমদানির মতো খাতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও বেকারত্ব বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ, পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমানো, কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। সরকারি ও বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির ফলে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন। সুদের হার কমানো নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বর্তমান অনিশ্চয়তায় সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন। জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজেট প্রণয়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ প্রাক্কলন যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এখন স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বছরের বাজেট খুব বড় করা উচিত নয়, কারণ বড় বাজেটে অপচয়ের ঝুঁকি থাকে। তাই সংকোচনমূলক বাজেট ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ জরুরি।  মূল্যস্ফীতি ৬-৭ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। রাজস্ব আহরণ, বরাদ্দ ও ব্যয় সক্ষমতা— সবখানেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহবুব আহমেদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, জ্বালানি (নবায়নযোগ্যসহ), শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সময়মতো অর্থছাড়, দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি বিনিয়োগ করায় বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর রাজস্ব বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ঈদযাত্রায় ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫১, আহত ১০৪৬ জন

এবারের ঈদযাত্রার ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০৪৬ জন। বিগত সময়ের তুলনায় এবার ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহত ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

‎আজ সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

‎ঈদযাত্রার সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ নিহত ও ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ফলে সব পথ মিলে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন।